বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে নিখোঁজ অভিবাসীদের হৃদয়বিদারক অনুসন্ধান

একজন অভিবাসী তিজুয়ানা-সান দিয়েগো পয়েন্টে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তের বেড়া টপকানোর চেষ্টা করছে। ক্রসগুলো পেরুনোর চেষ্টার সময় মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। টমাস কাস্তেলাজোর ছবি, সৃজনশীল সাধারণ কৃতজ্ঞতা ৩.০ এর অধীনে লাইসেন্সকৃত এবং উইকিমিডিয়া সাধারণ থেকে নেয়া।

মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বরাবর মৃত্যুর ফাঁদ পেতে রাখা ৫০ থেকে ৮০ মাইল প্রত্যন্ত ও বিপজ্জনক মরুভূমি অঞ্চল পাড়ি দেয়ার জন্যে বেপরোয়া অভিবাসীরা বর্তমানে পাচারকারীদেরকে হাজার হাজার ডলার  দিয়ে থাকে।

প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবন উন্নত করার অথবা তাদের দেশের সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্যে এরকম যাত্রার ঝুঁকি নেয়।

অভিবাসীদের অনেকেই কখনো এটা পেরুতে পারে না।

বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছে আর তাদের পরিবারগুলো কি সমস্যা হয়েছে সেটা জানার জন্যে অনলাইনে খূঁজে ফিরছে।

অ্যারিজোনা ভিত্তিক একটি এডভোকেসি গোষ্ঠী আর কোন মৃত্যু নয় / নো মাস মুয়ের্তেস অনুসারে দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন সীমান্তটি “নিখোঁজদের বিস্তৃত একটি গোরস্থান।”

গোষ্ঠীটির একজন মুখপাত্র বলেছেন ১৯৯০ সাল থেকে দশ হাজারের বেশি মানুষ উধাও হয়ে গেছে। মার্কিন সীমান্ত পাহারা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে বিগত ১৬ বছরে এই মরুভূমি বরাবর মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চেষ্টা করা ৬,০০০ জনের বেশি মানুষকে মৃত পাওয়া গিয়েছে।

এসব অভিবাসীরা সম্ভাব্য যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হয় সেগুলো হলো পাচারকারী, মার্কিন সীমান্ত পাহারাদার প্রতিষ্ঠান, অপহরণকারী, মার্কিন অভিবাসন বিরোধী সশস্ত্র কর্মী এবং প্রাণঘাতী সাপ, মাকড়সা ও বিছা। এছাড়াও তারা ১১০°ফাঃ (৪৩°সে) ছোঁয়া মরুভূমিতে পানিশুন্যতাতেও মারা যেতে পারে।

মৃত্যুবরণ করা অভিবাসীরা প্রায়ই যে জামাকাপড় তারা পরেছিলেন অথবা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্রের মতো বিভিন্ন রকম সূত্র ফেলে রেখে যায়। এখানে এসব সূত্রের ডিজিটাল ছবির মাধ্যমে মেক্সিকো, হন্ডুরাস এবং গুয়াতেমালার নিখোঁজ অভিবাসীদের পরিবারগুলোকে যুক্ত করা একটি ডিজিটাল মঞ্চ এবং একটি ফেসবুক পাতার উদাহরণ দেয়া।

তাদের ফেলে যাওয়া ব্রেসলেট, বকলস এবং বিভিন্ন সূত্র

নিখোঁজ অভিবাসীদের আত্মীয়দের সুবিধা প্রদানের একটি তথ্যভিত্তি (ডাটাবেজ) হলো আমার একটা নাম আছে/ ইও তেঙ্গো নম্ব্রে। এই তথ্য ভিত্তিটি পরিবারগুলোকে  তাদের মধ্য-আমেরিকার অপরাধের শিকার, মেক্সিকোর দক্ষিণে অপহৃত, উত্তরে আটক অথবা নিরাপদে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে কিনা সেটা বের করতে সাহায্য করে।

Fotografía tomada del sitio yotengonombre.com

মামলা ০৪০৯: “গিনেস লোগোসহ একটি বাদামী টি-শার্ট। মার্কিন ৮.৫ আকারের নাইকি ব্র্যান্ডের সাদা জুতা। ফাংক ব্র্যান্ডের এক্সএল সাইজের লাল আন্ডারওয়্যার। ডস পালমাস খামারবাড়িতে পাওয়া।” যোগাযোগের তথ্যটি নিচের লিংকটি অনুসরণ করলে পাওয়া যাবে। আলোকচিত্র ওয়েবসাইটটি থেকে নেওয়া এবং অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।

ডিজিটাল প্রকল্পটিতে দক্ষিণ টেক্সাসে পাওয়া অভিবাসীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ছবি রয়েছে। অস্টিন ভিত্তিক অলাভজনক সংবাদ সংস্থা টেক্সাস অবজারভারের এই উদ্যোগটিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ছবি, জামাকাপড়, জপমালা, গয়না, বেল্ট, জুতা, চিরুনি, ব্রেসলেট, টুপি, ব্যাকপ্যাক, বকলস এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারার মতো যে কোন কিছু রয়েছে।

১৯৯০ সাল থেকে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাস্ট্রের ২,০০০ মাইলের সীমান্তটির  অধিকাংশই ড্রোন, ক্যামেরা ও সেন্সর, ৭০০-মাইল বেড়া এবং ব্যাপকভাবে সামরিকায়ন করা একটি মার্কিন সীমান্ত পাহারার মাধ্যমে দিন দিন আরো আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিরক্ষিত। গার্ডিয়ান পত্রিকা অনুসারে, অন্যান্য অভিবাসীদেরকে এরকম অভিযাত্রা থেকে নিরস্ত করার কারণ তৈরি করার জন্যে প্রতিকূল ভূখণ্ডে আরো বেশি করে অভিবাসীরা মারা যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ১৯৯৪ সালে প্রাতিষ্ঠানিক সীমান্ত পাহারা কৌশলটি প্রণয়ন করা।

অভিবাসীদেরকে মরুভূমি সীমান্ত পেরুনোর কঠিন শারীরিক এবং আর্থিক সিদ্ধান্তটি নেয়ার সময় তাদের বিপজ্জনক মরুভূমির পথগুলি পাড়ি দিতে সাহায্য করার জন্যে সাধারণতঃ পাচারকারীদের উপর নির্ভর করতে হয়। অনেক বারই পাচারকারীরা পারাপারের পথটিকে নিরাপদ বলে তাদের “গ্রাহকদের” ধোঁকা দিলেও বাস্তবে ভূখণ্ডটি সতর্ক সীমান্ত পাহারাদার, চরম আবহাওয়া এবং পানির সংকটসহ নানা অজানা বিপদসংকুল।

লাতিন আমেরিকার ওয়াশিংটন দফতর (ডাব্লিউওএলএ) উল্লেখ করেছে যে অভিবাসন বৃদ্ধি পাওয়া একটি মানবিক সংকট, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে কোন হুমকি নয়।

Imagen tomada del sitio yotengonombre.com

মামলা ০৪১৯: “নীল রুমাল, টুথপেষ্ট এবং টুথব্রাশ। দেহাবশেষ জিম হগ কাউন্টিতে পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু ২৩ মে ২০১৩ তারিখে শেষকৃত্য করে  ব্রুকস কাউন্টির স্যাকরেড হার্ট সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়েছে।” যোগাযোগের তথ্যটি নিচের লিংকটি অনুসরণ করলে পাওয়া যাবে। আলোকচিত্র ওয়েবসাইটটি থেকে নিয়ে অনুমতিসহ ব্যবহৃত।

মৃতদের ছবিগুলোসহ ফেসবুক পাতা

এছাড়াও একই লক্ষ্যে “দেসেপারেসিদোস ই সিন রিক্লেমার এন লা ফ্রন্টেরা”  (“সীমান্তে নিখোঁজ ও বেওয়ারিশ”) নামের একটি ফেসবুক পাতা রয়েছে এবং এতে দেহগুলো সনাক্তকরণ সহজতর করার জন্যে উল্কির আলোকচিত্র রয়েছে। ফেসবুক পাতাটির টাইমলাইনে আপনি এধরনের বার্তা পেতে পারেন:

FAMILIA LOCALIZADA. MIL GRACIAS POR COMPARTIR!! (…) Cuerpo encontrado el día martes 3 de enero de 2017 en Río Grande, Hidalgo, Texas. El cuerpo mostraba signos moderados de descomposición, y determinaron que se trataba de un varón en edad adulta, de aproximadamente entre 30 y 40 años”.

পরিবারের সদস্যের অবস্থান চিহ্নিত। ভাগাভাগি করার জন্যে ধন্যবাদ !! (…) দেহটি ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ, মঙ্গলবার, টেক্সাসের হিদালগোর রিও গ্র্যান্ডে-তে পাওয়া গিয়েছে। দেহটিতে মাঝারি ধরনের পচন লক্ষ্য করা গেছে এবং এটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।”

পরিবারগুলো সূত্র খূঁজে বের করার জন্যে প্রায়ই ফেসবু্কের এই পাতায় তাদের নিখোঁজ ভালবাসার মানুষদের ছবি ও তথ্য ভাগভাগি করে থাকে। এই সাক্ষ্যপ্রমাণাদি কোন একটি মামলার শেষে পাওয়া যেতে পারে:

Un caso más se cierra, y una familia se encuentra plenamente agradecida con todos ustedes por haber compartido este caso, y que llegará hasta Mexicali, Baja California.

En el mes de octubre por medio de las fotografías que se publicaron, pudieron identificar algunos tatuajes de su familiar, tuve la oportunidad de hablar con ellos, y lamentablemente todo coincidía, pero esperamos a que la familia hiciera el trámite y lo pudiera identificar, durante ese mismo mes nos confirmaron que se trataba de Emilio Hipólito, pero nos pidieron tiempo, para el duelo y tiempo para esperar recibirlo de nuevo. En el mes pasado se comunicaron y nos confirmaron que sus restos ya están descansando en su natal Mexicali, y que querían dar el caso por cerrado agradeciendo a toda y cada una de las personas que compartieron el caso, ya que si no fuera por eso, tal vez hoy aún se preguntarían donde está.

আরো একটি মামলা বন্ধ হলো এবং আরো একটি পরিবার এই মামলাটি ভাগাভাগি করার জন্যে আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ যে কারণে দেহাবশেষগুলো বাজা ক্যালিফোর্নিয়া (নিম্ন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে)-এর মেক্সিকালিতে তাদের আত্মীয়দের কাছে পৌঁছাতে পারে।

অক্টোবরে প্রকাশিত আলোকচিত্রের মাধ্যমে পরিবারটি তাদের আত্মীয়ের কিছু উল্কি চিহ্নিত করতে পেরেছিল। আমার তাদের সঙ্গে কথা বলা সুযোগ হয়েছিল এবং দুঃখজনকভাবে সবকিছু মিলে গেলেও পরিবারটি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। এই একই মাসে এটা যে এমিলিও হিপোলিতোর নিশ্চিত করলেও তারা শোকের এবং তাঁর দেহাবশেষ গ্রহণের জন্যে আরো সময় চেয়েছিল। গত মাসে তারা যোগাযোগ করে নিশ্চিত করেছে যে তার দেহাবশেষ ইতোমধ্যে তার নিজ এলাকা মেক্সিকালিতে কবরস্থ করা হয়ে গিয়েছে। তারা মামলাটি ভাগাভাগি করা প্রতিটি ব্যক্তিকে ধন্যবাদ দিয়ে মামলাটি বন্ধ করে দিতে চায়, কারণ তারা যদি এটা না করতো তাদেরকে হয়তো আজকেও জিজ্ঞেস করতে হতো সে কোথায়।

আর এটা সমাপ্ত হয়েছে:

Emilio Hipólito salió de su casa con un sueño pero jamás regresó, su madre aún albergaba la esperanza de que el volviera pero al pasar de los días se preguntaban que le habría pasado.

Hoy el ya descansa en paz pues fue plenamente identificado y sus restos ya fueron repatriados a su natal Mexicali. Sus hermanos y familia se encuentran encuentran muy agradecidos, en especial su madre, pues el vivía con ella. Le sobrevive una hija, descanse en paz Emilio Hipólito.

Mil gracias amigos! Todo es gracias a ustedes, sigamos compartiendo casos, su ayuda es imprescindible!

একটি স্বপ্ন নিয়ে এমিলিও হিপোলিতো ঘর থেকে বের হলেও আর কখনো ফিরে আসেনি। তার মা এখনো আশা করছে যে সে আবার ফিরে আসবে, কিন্তু দিনগুলো একে একে পেরিয়ে গেলে তারা ভেবে মরেছেন যে তার কি হলো।

আজ সে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে কারণ তাকে পুরোপুরি সনাক্ত করার পর তার দেহাবশেষ ইতোমধ্যে তার নিজ এলাকা মেক্সিকালিতে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। তার ভাই এবং পরিবার, বিশেষ করে তার মা, খুবই কৃতজ্ঞ কারণ তিনি তার সঙ্গেই থাকতেন। তার মৃত্যুর সময় সে একটি কন্যা রেখে গিয়েছে। শান্তিত ঘুমাও এমিলিও হিপোলিতো।

আমার বন্ধুদের সবাইকে ধন্যবাদ! সব ধন্যবাদ আপনাদের, মামলাগুলো ভাগাভাগি অব্যহত রাখুন, আপনাদের সাহায্য অপরিহার্য!

এমিলোর পরিবার তার কী হয়েছিল খুঁজে বের করতে পারার এবং মেক্সিকোতে তার আমেরিকান স্বপ্নসহ তাঁকে সমাহিত করতে পারার জন্যে কৃতজ্ঞ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .