বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নারীদের দেখে আর শিস বাঁজাবে না পেরুর কোন নির্মাণ শ্রমিক

“আমরা রাস্তায় যৌন হয়রানি বিরুদ্ধে, আর তাই আমরা নির্মাণাধীন এই এলাকাটিতে নারীদের প্রতি শিস বাজাই না।” ছবিটি তুলেছেন লেখক।

এটা প্রায় সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত একটা সত্য যে একজন নারী হেঁটে যাওয়ার সময় একটি নির্মাণাধীন এলাকা এড়িয়ে যাবেন, বিশেষ করে তিনি যদি একা থাকেন। একজন নারী সেই সাধারণভাবে স্বীকৃত নিয়মটিকে তোয়াক্কা না করার সাহস দেখান তাহলে তাকে সম্ভবতঃ নির্মাণাধীন এলাকাটির লোকজনের অপ্রীতিকর, অভদ্র মন্তব্য এবং শিস বাজানো হজম করতে হবে।

তবে এখনো সেখানে আশার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

পেরুর রাজধানী লিমার একটি ঐতিহ্যগত মধ্যবিত্ত-শ্রেণীর শহরতলী মিরাফ্লোরেস-এ অনেক নির্মাণাধীন এলাকা রয়েছে। সেখানকার একদল নির্মাণ শ্রমিক ভিন্নভাবে চিন্তা ও কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর সাড়াটিও মিলেছে ইতিবাচক।

পোস্টারটির আরেকটি দৃশ্য। লেখকের তোলা ছবি।

ফেসবুকে তাদের ভক্তপাতা নি ইউনা মেনোস পেরু (পেরুতে একজন নারীও কমেনি)-তে তাদের প্রতীক চিহ্নের একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে যা এপর্যন্ত ৩০০ বারেরও বেশি ভাগাভাগি করা হয়েছে এবং ৩,৩০০টির বেশি লোক এটি পছন্দ করেছেন; প্ল্যাটফর্মটিতে বেশিরভাগ মন্তব্যই ইতিবাচক:

Lu Necochea gran comienzo …woww pero q esperanzador ya no tener q pasar mas acosos, buena iniciativaa

লু নেকোশেয়া: দারুন শুরু… অবাক ব্যাপার, এটা আর কোন হয়রানি সহ্য করাকে উৎসাহিত করছে না। ভালো উদ্যোগ।

Gisella Laynes Que bueno … aplaudo esto por que a jno le da miedo pasar por estos sitios …

জিসেলা লায়নেস: ভাল। আমি সাধুবাদ জানাই কারণ এসব এলাকাগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আমি আর ভয় পাবো না…

Adriana Lucia: Me encanta! recuerdo que siempre teníamos que cruzar la pista sólo para no pasar por una construcción

আদ্রিয়ানা লুসিয়া:  আমি এমনটাই ভালবাসি! আমার মনে আছে শুধু একটা নির্মাণাধীন এলাকা এড়ানোর জন্যে আমাদের সবসময় রাস্তাটা পার হতে হতো।

কিছু কিছু লোক ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে বার্তা পোস্ট করেছেন:

Tito Surf Rock: PARA LOS TRABAJADORES DE CONSTRUCCIÓN CIVIL , QUE LA GRAN MAYORÍA POR PROVENIR DE HOGARES DISFUNCIONALES ( MUCHAS VECES NO CULPA DE ELLOS , PERO SI DE SUS PADRES IRRESPONSABLES ) […] FALTAN EL RESPETO A LAS MUJERES EN GENERAL ; OLVIDÁNDOSE QUE TODOS PROVENIMOS DE UNA MUJER ( MADRE ).

টিটো সার্ফ রক:  নির্মাণ শ্রমিকরা – যাদের অধিকাংশই অকার্যকর পরিবার থেকে এসেছে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নয় তাদের দায়িত্বহীন পিতা-মাতার দোষ)।[…] আমরা সবাই একজন নারী (মা) থেকে এসেছি সেটা ভুলে গিয়ে সাধারণভাবেই নারীদের অসম্মান করে থাকে।

অন্যেরা অপেক্ষাকৃত কম সহানুভূতিশীল ছিলেন:

Eduardo Antonio Cesti Jaja pero cuando eyas acosan nadie dice nada.

এদুয়ার্দো আন্তোনিও সেস্তি: হা-হা-হা! কিন্তু যখন নারীরাই এই হয়রানি করেন, কেউ টু-শব্দটি করেন না।

Liler Vasquez Jajaja un poco más y prohíben que se.mire a las mujeres en la calle

লিলের ভাস্কুয়েজ: লিখেছেন হা-হা-হা! আরেকটু ধৈর্য ধরে দেখুন, শীঘ্রই নারীদের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখাও নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে।

নির্মাণাধীন এলাকাগুলোর নিরাপত্তার বিষয়াদির দায়িত্বে থাকা হুয়ান এনরিকে হুয়ামানির সঙ্গে গ্লোবাল ভয়েসেস-এর একটি সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়েছে। তিনি আমাদের বলেছেন:

En la construcción, nos dan charlas de cómo portarnos. Nos hacen ver que todos tenemos mamás, hijas, hermanas y que a ninguno le gustaría saber que les dicen groserías solamente por pasar por la calle. Por eso, tomamos conciencia y queremos que todos lo sepan.

এখানে এই নির্মাণাধীন এলাকাটিতে আমরা নিজে নিজেই কিভাবে সদাচরণ করবো সে সম্পর্কে আমাদেরকে বক্তৃতা দেয়া হয়েছে। এটা আমাদেরকে সচেতন করেছে যে আমাদের সবারই মা, মেয়ে বা বোন আছে এবং এখানে কেউ এটা জেনে খুশি হবেন না যে নিছক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কারণে তাদেরকে গালাগালি সহ্য করতে হবে। এজন্যেই আমরা সচেতনতা বাড়াতে এবং সবাইকে জানাতে চাই [আমরা কেমন চিন্তা ও কাজ  করি]।

পেরুতে নারী অধিকারের একটি কঠিন মুহূর্তে বাতিঘরের এই আলোক রশ্মিটি এসে পড়েছে। সর্বশেষ বড়মাপের লিঙ্গ সহিংসতার কাণ্ডটি ঘটেছে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে। ২৭ বছর বয়সী আইনজীবী এবং দুই সন্তানের একজন মা, ইভলিন কোরাহুয়াকে তার সাবেক সঙ্গী তার বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। একমাস আগে তিনি তার সঙ্গী তার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেছে বলে জানালেও কর্তৃপক্ষ তার অভিযোগ নাকচ করে দেয়। দুঃখজনকভাবে, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে নারীহত্যা ১৩% বেড়েছে। এসময়ে ৯৫ জন নারী নিহত এবং ১৯৮ জন নারী আহত হয়েছে।

তবে দেশ যখন লিঙ্গ-সংক্রান্ত সহিংসতা নিয়ে যুদ্ধ করছে সেসময় মিরাফ্লোরেসের নির্মাণ শ্রমিকরা সম্মানের একটি উদাহরণ গড়ে তুলছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .