ফরাসী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে বড় উদ্বেগ হতে পারে নকল সংবাদ

Rakotomalala
Graham Perra
Arif Innas

ইংরেজী

“নকল সংবাদ” পাবলিক ডোমেইন পিক্সাবে’র মাধ্যমে

নকল সংবাদের ছড়িয়ে যাওয়াকে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর প্রভাবের জন্যে দায়ী করে হয়েছে ব্যাপকভাবে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে এধরনের অ-তথ্য এবছরের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও একটি ভূমিকা পালন করবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং প্রার্থীদের প্রচারণা কর্মী উভয়েই কথাগুলোকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।

এই সমস্যাটি মোকাবেলা করতে যাচাইকৃত তথ্য এবং সুনামের ক্ষতি করার জন্যে অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে সাহায্য করার জন্যে অনেক উদ্ভাবনী উদ্যোগ শুরু হচ্ছে।

এরকম একটি উদ্যোগ হলো দিকুদেক্স — ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্যতার  স্তর অনুসারে তাদের ওয়েবসাইটগুলো সাজিয়ে দিতে সাহায্য করার জন্যে তৈরি করা একটি অনলাইন টুল — যেটা লে মঁদ পত্রিকার প্রকৃত ঘটনা পরীক্ষা করে দেখার একটি দল তৈরি করেছেন এবং ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ থেকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এই টুলটি একটি সার্চ ইঞ্জিন অথবা ক্রোম বা ফায়ারফক্স ব্রাউজারে পাওয়া প্লাগ-ইনের মতো কাজ করে।

সত্য-পরীক্ষণ দলের ব্যবস্থাপনাকারী স্যামুয়েল লোরাঁ এই টুলটির পিছনের কর্ম-পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করেছেন:

আমরা ৬০০টি সাইটের বিস্তারিত তালিকা করেছি যাদের বেশিরভাগ ফরাসি হলেও কিছু কিছু ইংরেজি, মার্কিন এবং জার্মান। সেখানে নির্ভরযোগ্যতার পাঁচটি স্তরের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচটি রং রয়েছে। আমরা উইকিপিডিয়া’র মতো  যেসব সাইট যে কেউ সম্পাদনা করতে পারে সেগুলোর জন্যে ধূসর রঙ ব্যবহার করেছি। নীল রঙ বিভিন্ন বিদ্রুপাত্মক সাইট* যেমন লে গোরাফি বা নর্ডপ্রেসে-এর জন্যে। সম্পূর্ণ অনির্ভরযোগ্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারকারী বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী যেমন আইজিভি.নেট – যারা নিজেকে তথ্যের সাইট হিসেবে উপস্থাপন করলেও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের জন্যে নারীদের গর্ভপাত করানোকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে থাকে – তাদের মতো উৎসের জন্যে লাল। সন্দেহজনক নির্ভরযোগ্যতার অথবা খুবই মতাদর্শগত ভাবে প্রভাবিত** সাইটগুলোর জন্যে কমলা যেমন, এফদেশুস অথবা অযাচাইকৃত সংবাদ পুনরায় পোস্ট করা  ক্লিকবেইটস। সবশেষে, খুবই নির্ভরযোগ্য উৎসের জন্যে আমরা সবুজ ব্যবহার করি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্য সনাক্ত করতে ইংরেজি-ভাষী বিশ্বের অন্যান্য উদ্যোগ স্নোপস রয়েছে। উপরন্তু, বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি যাচাইয়ের জন্যে ফ্যাক্ট চেক, পলিটিফ্যাক্ট অথবা আফ্রিকাচেক-এর মতো নতুন সরঞ্জামাদি রয়েছে। বি.এস. ডিটেক্টর এবং  কেচেহক-এর মতো প্লাগইনগুলো ক্রোম এবং ফায়ারফক্সেও পাওয়া যায়।

কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারা সহজ কোন কাজ না হলেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরকে শুধু সেটা করতে সাহায্য করার জন্যে অনেক নিবন্ধ এবং নির্দেশিকা পাওয়া যায়:

এসব উদ্যোগের জন্যে চ্যালেঞ্জটি হলো বাস্তব সময়ে এই সত্য চেক করতে পারতে হবে যাতে ঘটনাস্থলেই সাংবাদিকরা রাজনীতিবিদদের বলা কথা নিশ্চিত করতে অথবা  বাতিল করে দিতে পারে। এই প্রয়োজন মেটানোর জন্যে ওয়াশিংটন পোস্ট একটি বক্তৃতা্র সত্যতা যাচাই করতে পারার মতো একটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় টুল সত্য কথক তৈরি করার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর নির্বাহী প্রযোজক কোরি হাইক ধারণাটি ব্যাখ্যা করেছেন:

আমি শাজামকে নিয়ে চিন্তা করছি আর ভাবছি এটা যা করে তা কিভাবে শাজাম করে […] তবে সত্যের জন্যে একটা শাজাম […]  আমাদের সমাধান পদ্ধতি প্রতিলিপিটির মধ্যে দাবিগুলো পড়ে। তারপর লেখাগুলোর মধ্যে দাবিগুলো দেখে এটা আমাদের ডাটাবেজে মিলিয়ে নিয়ে বলে, ‘ঠিক আছে, এসব দাবি এসব তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়,’ এবং তখন এটা বলে যে এটা সত্য বা এটা মিথ্যা।

দুর্ভাগ্যবশত: সত্য কথক প্রকল্পটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হওয়ায় এটি স্থগিত করে রাখা হয়েছে

অনুবাদকের টিকা:  * ইংরেজি ভাষায় একটি বিদ্রুপাত্মক সংবাদ সাইটের একটা উদাহরণ হলো দা অনিওন (পেঁয়াজ) বা দৈনিক কিশমিশ। ** মতাদর্শগতভাবে প্রভাবিত সংবাদ সাইটের একটি উদাহরণ হলো ব্রেইটবার্ট সংবাদ নেটওয়ার্ক।