বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মায়ানমারে সেন্সরশিপ আরোপ চলছেঃ সরকার সামরিক বাহিনীর সমালোচনামূলক চলচ্চিত্রের প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়েছে

Film poster of 'Twilight Over Burma'. Source: Facebook page of the Human Rights Human Dignity International Film Festival

“টুইলাইট ওভার বার্মা” নামক চলচ্চিত্রের পোস্টার। সুত্রঃ হিউমান রাইটস হিউম্যান ডিগনিটি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিম ফেস্টিভাল-এর ফেসবুক পাতা

মায়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনে অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক হিউম্যান রাইটস হিউম্যান ডিগনিটি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিম ফেস্টিভাল-এ ১৯৬২ সালে সংঘঠিত সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতি সমালোচনা মূলক একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন দেশটির সরকার নিষিদ্ধ করেছে

দেশটির মোশন পিকচার ক্লাসিফিকেশন বোর্ড বা সেন্সরবোর্ড বলছে যে “টুইলাইট ওভার বার্মা, মাই লাইফ এজ এ সান প্রিন্সেস” (বার্মার উপর ঘনিয়ে আসা অন্ধকারঃ সান যুবরাজের স্ত্রী হিসেবে আমার জীবন” নামক চলচ্চিত্রে দেশটির সামরিক বাহিনীকে নেতিবাচক ভাবে তুলে ধরার কারনে এটি দেশের জাতীয় পুর্নগঠন প্রচারণার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।

মায়ানমারের পূর্বের নাম ছিল বার্মা।

এই চলচ্চিত্রটি অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ইনজে সার্জেন্টের জীবনী এবং এক সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত, ইনজে সার্জেন্ট মায়ানমারের হিসপো জনগোষ্ঠীর যুবরাজ সাও কাইয়া সেং-কে বিয়ে করেছিলেন।

এই যুবরাজ ছিলেন সেই সকল আদিবাসী নেতাদের মধ্যে অন্যতম যাকে ১৯৬১ সালের সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মৃত্যু আজও রহস্যময় রয়ে গেছে।

দি হিউম্যান রাইটস হিউম্যান ডিগনিটি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিম ফ্যাস্টিভাল-এর সূচনাও ২০১২ সালেঃ

চলচ্চিত্র এবং অডিও ভিজুয়াল-এর উদ্দীপ্ত করার শক্তির মাধ্যমে মায়ানমারের মানবাধিকারকে তুলে ধরা এবং মায়ানমারের সাধারণ জনতার মাঝে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনার জন্য জায়গা তৈরি করা।

এ বছর এই চলচ্চিত্র উৎসবে ৪০টির বেশী চলচ্চিত্র অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে

ঘটনাক্রমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত এক বেসমারিক সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু সংস্কার সাধন করে যেমন রাজনৈতিক কারাবন্দীদের মুক্তি প্রদান করা, প্রচার মাধ্যম উপর সেন্সরশিপ অপসারিত করা, এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা।

সামরিক জান্তা সমর্থিত দল গত বছরের নির্বাচনে হেরে যায়, যা মায়ানমারকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে গতিশীল করে।

মায়ানমারের ১০০ টির ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী রয়েছে, যারা সাম্প্রতিক দশকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুরু করেছে।

গত বছর সরকার এই সকল সশস্ত্র আদিবাসীদের সঙ্গে এক শান্তি চুক্তি করে, কিন্তু এই শান্তি চুক্তি উপেক্ষা করে উভয় পক্ষ মাঝে মাঝে মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভুষিত অং সান সুকির নেতৃত্বে পরিচালিত এই নতুন সরকার এক জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে শান্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সকল জাতি সমূহকে নিমন্ত্রণ করা হবে।

সরকার উদ্বিগ্ন যে টুইলাইট ওভার বার্মা প্রদর্শিত হলে হয়ত তা জাতীয় শান্তি আলোচনা বিনষ্ট করতে পারে, বিশেষ করে এই ছবি সামরিক বাহিনীর প্রতি ঘৃণা প্রজ্বলিত করবে।

এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকেরা টুইলাইট ওভার বার্মা প্রদর্শন না করতে পেরে জনতার কাছে ক্ষমা চেয়েছে

অনেকে আশা করেনি যে ফ্লিম রিভিউ বোর্ড শেষ মুহূর্তে এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর বাতিল করবে, কারণ সরকার এমন একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যে দলটি সামরিক বাহিনীর দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছে এবং তাদের আরোপিত মিডিয়া সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

এক মানবাধিকার প্রচারক এবং এই চলচ্চিত্র উৎসবের এক জুরি সদস্য ইগোর ব্লাজেভিচ, স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন মায়ানমার সরকার যা পুনর্নির্মাণ করতে যাচ্ছে, সত্যকে চাপা দিয়ে তা অর্জন করা যাবে না :

যদি সত্যি মায়ানমার তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায়, তাহলে সংস্কৃতি, শিল্প এবং মিডিয়াকে অবশ্যই অতীত এবং বর্তমানের সকল সত্য, বেদনাদায়ক ঘটনা এবং যে সমস্ত অন্যায় করা হয়েছে সে সকল ঘটনাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে হবে।

চলচ্চিত্র নির্দেশক ওয়াং দেশটিতে এখনো দেশে সেন্সরশিপ বলবত থাকার বিষয়টি জানতে পেরে হতাশ:

এক বেসমরিক সরকারের অধীনে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত জঘন্য। নতুন তথ্য মন্ত্রী পরিষ্কার ভাবে এই চলচ্চিত্রটিকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আগের সরকারের আমলে সেন্সরশিপ বোর্ড যেমন ছিল,এ সরকারের আমলেও ঠিক তেমনি রয়েছে। এটা প্রদর্শন করছে যে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য কোন স্বাধীনতা নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .