বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নতুন এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে অ্যাঙ্গোলায় হীরার খনির মজুরদের উপর নিষ্ঠুর অত্যাচার করা হচ্ছে

Machete Torture: More Human Rights Abuses in Diamond-Rich Region of Angola. Photo: Screen Shot from You Tube

ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট, যাতে দেখা যাচ্ছে এক প্রহরী চাপাতি দিয়ে এক মজুরকে পিটাচ্ছে।

ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে এক নতুন ভিডিও, যেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে যে অ্যাঙ্গোলার এক হীরার খনিতে দশ জন হীরার খনির মজুরকে প্রহরীরা চাপাতি দিয়ে পিটাচ্ছে।

মাকা অ্যাঙ্গোলা এক স্বাধীন সংবাদপত্র সাইট, যার স্থপতি মানবাধিকার সাংবাদিক রাফায়েল মার্কুয়েজ-এর সংবাদ অনুসারে এই ভিডিও গত এপ্রিল ২০১৬-এ ধারন করা হয়। এই ভিডিও যার দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড, তাতে প্রদর্শিত হচ্ছে নিরস্ত্র মানুষের উপরে “নিষ্ঠুর” এবং “নির্মম” অত্যাচার চালানোর দৃশ্য,যারা মাটিতে শুয়ে আছে।

মাকা অ্যাঙ্গোলা সংবাদ প্রদান করেছে যে “অত্যাচার করা ব্যক্তিটিকে চিহ্নিত করা গেছে যে সে এক বেসরকারি কোম্পানীর নিরাপত্তা প্রহরী, যে কোম্পানি হীরার খনি অঞ্চল লুন্ডা নর্টেতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা অ্যাঙ্গোলার উত্তর পশ্চিমের এক প্রদেশ।

অ্যাঙ্গোলার হীরা উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কুখ্যাত। দেশটির ২৭ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ যা ২০০২ সালে এসে সমাপ্ত হয়, ১৯৭৫ সালে দেশটি পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর দেশটির সকল পক্ষ দেশটিকে শাসন করার জন্য একে অন্যের বিরুদ্ধে ভয়াবহ লড়াই করে গেছে। সংবাদ জানা যাচ্ছে যে ইউএনআইটিএ হীরার খনি সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং তা্রা যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য মূল্যবান রত্ন বিক্রি করেছে। এখান থেকে ব্লাড ডায়মন্ড কথাটি এসেছে, জাতিসংঘ যে হীরাকে উল্লেখ করছে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করা হীরা হিসেবে।

RafaelMarques_Web-1024x576

রাফায়েল মার্কুয়েজ

মার্কুয়েজ হচ্ছে অ্যাঙ্গোলার এক সাংবাদিক যে তার জীবনের বেশীর ভাগ সময় দেশটির মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনে কাটিয়ে দিয়েছেন। তার এই প্রচেষ্টার কারণে তিনি অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। কিন্তু একই সাথে এর কারনে স্বদেশে অ্যাঙ্গোলায় তিনি সরকারের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন।

ব্লাড ডায়মন্ড; অ্যাঙ্গোলায় অত্যাচার এবং দূর্নীতি নামক বইয়ে অ্যাঙ্গোলার একদল জেনারেলকে নিন্দা জানানোর অভিযোগে মে ২০১৫-এ তাকে ছয়মাসের স্থগিত কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

“জার্মানীর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে প্রদান করা এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মার্কুইজ বলেন আমরা এখন ২০১৬ সালে বাস করছি এবং এখনো খনির মজুরদের চাপতি দিয়ে নির্যাতন করা হয়। এই সকল নির্যাতনের অনেকগুলো সাধিত হয়েছে প্রাক্তন যোদ্ধাদের দ্বারা, যারা এখন বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড খুব কম শিরোনাম হয়। মার্কুইজের মতে এই ধরনের ঘটনা থামানোর জন্য সরকার তেমন কিছু করেছে না।

ফেসবুকে একজন ব্যবহারকারী, মাকা অ্যাঙ্গোলা নিয়ে মন্তব্য করেছে, সে লিখেছে :

Os verdadeiros torturadores não são esses seguranças, mas sim os que estão a governar Angola.

সত্যিকারের অত্যাচার এই সকল প্রহরীরা করছে না, করছে তারা যারা অ্যাঙ্গোলাকে শাসন করছে।

২০১৫ সালে একদল তরুণ মজুর মজুরী না পাওয়ার কারণে বিক্ষোভ করছিল। সে খনি এলাকায় একজন বিক্ষোভকারী কোম্পানীর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাতে নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এখনো উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

ডিসেম্বরে ২০১৪-এ, গ্লোবাল ভয়েসেস একটি ভিডিওর বিষয়ে সংবাদ প্রদান করে যে ভিডিওতে একই ধরনের অত্যাচারের দৃশ্য ধরা পড়ে, যেখানে বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তাকে চাপাতি দিয়ে একজন খনির মজুরকে আহত করতে দেখা যায়। মাকা অ্যাঙ্গোলায়, মার্কুইজ প্রথম এই ভিডিওটি প্রকাশ করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .