বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভার্চুয়াল প্রদর্শনীতে দেখুন ফিলিপাইনের সাবেক স্বৈরশাসকের পরিবার থেকে বাজেয়াপ্ত করা রত্নরাজি

tiara

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস দুই দশক রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সময় তিনি স্বৈরশাসকের মতো দেশটি শাসন করেন। ১৯৮৬ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সাধারণ জনগণ। মার্কোস তার পরিবার নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

তারা যখন হাওয়াই এয়ারপোর্টে নামেন, তখন মার্কিন শুল্ক বিভাগ তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার স্লিপ,চিত্রকর্ম এবং মূল্যবান রত্ন জব্দ করে। পরে সেগুলো ফিলিপাইনের নতুন সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

রাষ্ট্রপতি থাকা কালে মার্কোসের বিরুদ্ধে সরকারি কোষাগার লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস থাকলেও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিলাসবহুল জীবনযাপন করার জন্য সমালোচনা রয়েছে।

১৯৮৬ সালে মার্কোসের স্ত্রী ইমেলদা পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিলেন। সে সময়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করার সময়ে ইমেলদা’র ব্যক্তিগত কক্ষে ১,০০০ জোড়া জুতার খোঁজ পেয়েছিল।

এ ঘটনার পর ইমেলদা’র নামে একটি ইংরেজি শব্দ চালু হয়- ইমেলদেফিক। এ শব্দ দিয়ে ‘আড়ম্বরপূর্ণ অপব্যয়’ বোঝানো হতো।

মার্কোস পরিবারের অসাধু উপায়ে গড়ে তোলা সম্পদ উদ্ধারের জন্য ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্টিয়াল কমিশন অন গুড গভর্নমেন্ট (পিসিজিজি) গঠিত হয়। তিন দশক পরেও কমিশন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মার্কোস পরিবারের সম্পদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কোস পরিবারের বেহিসাবি জীবনযাপন বিষয়ে জনগণকে জানাতে কমিশন মার্কিন শুল্ক অধিদপ্তরের জব্দ করা রত্নরাজি নিয়ে একটি অনলাইন ইনভেনটরি বানিয়েছে।

মার্কোস পরিবারের ধন-রত্ন নিয়ে যে ভার্চুয়াল প্রদর্শনী হচ্ছে, তার থিম হলো: ভার্চুয়াল রত্ন প্রদর্শনী, একটি অতিব্যয়ের গল্প: এগুলো কি জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতো? অনলাইন প্রদর্শনীতে শুধুমাত্র রত্নগুলোই তুলে ধরা হয়নি, এগুলো কিনতে কীভাবে অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে মানুষের মৌলিক সেবাগুলো কীভাবে পূরণ করা যেত, তার উদাহরণও হাজির করা হয়েছে।

The Commission believes that it is its duty to remind Filipinos, especially the youth of the real history. Through this online exhibit of the family’s collection of diamonds, gold, even tiaras, the PCGG hopes that the youth can visualize how the Marcoses abused the government coffers, part of history which is not in the history books.

কমিশন বিশ্বাস করে, মার্কোস পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের কথা ফিলিপিনোদের মনে করিয়ে দেয়া তাদের কর্তব্য; বিশেষ করে তরুণদের প্রকৃত ইতিহাস জানানো। তাছাড়া পিসিজিজি আশা করছে, মার্কোস পরিবারের হীরা, স্বর্ণ এমনকি স্বর্ণমুকুট প্রদর্শনী থেকে তরুণরা জানতে পারবে সরকারি কোষাগার থেকে স্বৈরশাসকের পরিবার কীভাবে টাকাপয়সা আত্মসাৎ করেছে। এগুলো ইতিহাসের অংশ হলেও ইতিহাস বইয়ে নেই।

পিসিজিজি মার্কোস পরিবারের অপরাধের কথা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায়:

These excess wealth and extravagance are the tangible reminder of the insidious evil of plunder and dictatorship during the Martial Law.

Now, this is our call: To those too young to remember, it is not yet too late to know. To those old enough to have known, it is our responsibility to remember.

এই অত্যাধিক সম্পদ আর বেহিসেবি জীবনযাপন আমাদের মনে করিয়ে দেয় মার্শাল ল’র সময়কার এক স্বৈরশাসকের লুণ্ঠনের কথা, এগুলো যার স্মারক হয়ে আছে আজ।

এখন আমাদের আহ্বান হলো: দেরি না করে অতি তরুণদের এই ঘটনাগুলো জানানো। আর যারা বড়, সেই সময়কার ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী, তাদের উচিত স্মৃতির তোরঙ্গে এগুলো গেঁথে রাখা, যেন কখনো ভুলে না যাই।

তবে ফিলিপাইনে মার্কোস যুগ আবার ফিরে এসেছে যেন। মার্কোসের পুত্র দেশটির বর্তমান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পিসিজিজি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রত্নগুলোর ছবি আপলোড করেছে। প্রদর্শিত রত্নগুলোর শুরুতেই রয়েছে গোলাপি হীরার ছবি। এটি সবচে’ ক্ষুদ্রতম হলেও সবচে’ দামি এটি:

pink diamond

এরপরেই রয়েছে একটি অ্যান্টিক হীরা। এতে ক্যাচপোল এবং উইলিয়াম, ৫১০ অক্সফোর্ড স্ট্রিট, লন্ডন, ইংল্যান্ড-এর সিলমোহর রয়েছে। হীরাটি আনুমানিক ১৮৯০ সালের:

antique

এরপরে সংগ্রহের যে হীরাগুলো রয়েছে তার দাম ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এগুলো নিচে রইলো:

heart cabochon

black sapphire

antique diamond sapphire

pearl diamond

ceylon

belle

coronet

এছাড়াও রত্নের ছবিগুলো সারাদেশের স্কুলগুলোতে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .