বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

যুদ্ধ কীভাবে তার জীবন বদলে দিয়েছে, তাই জানাতে চান এক ইয়েমেনি তরুণ

Bilal and Ahmed Credit: Ahmed Algohbary

বিলাল এবং আহমেদ। ছবি কৃতজ্ঞতা: আহমেদ আলগোহবারি

এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন আহমেদ আলগোহবারি । এটি প্রথম প্রকাশিত হয় পিআরআইডটঅর্গে। ২০১৬ সালের ২৫ মার্চে। কনটেন্ট শেয়ারিং চুক্তির আওতায় গ্লোবাল ভয়েসেস-এ পুনর্প্রকাশিত হলো।

এক ইয়েমেনি তরুণ যুদ্ধ কীভাবে তার জীবন বদলে দিয়েছে, তাই জানাতে চান। তার রেকর্ড করা দু’মিনিটে ভিডিও সত্যিই আমাদের ব্যথাতুর করে তোলে।

পিআরআইডটঅর্গে গল্পটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন

সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোট বাহিনী গত ২৬ মার্চ ২০১৬-এ ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল, বিদ্রোহীদের অগ্রগতি রোধ করা। বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নিয়েছিল।

সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কলেজ শিক্ষার্থী আহমেদ আলগোহবারি এই ভিডিও রেকর্ড করেছেন। এটি তার বন্ধু বিলালের গল্প। বিলাল গত ২০ জুলাই ২০১৫-এ সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। আহমেদ প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে লিখেছেন, যাতে পশ্চিমারা বুঝতে পারে। সে লিখেছে, ইয়েমেনে কী হচ্ছে, তা জানতে আমার প্রতিবেদনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যালো, আমি আহমেদ আলগোহবারি। আমার বাড়ি ইয়েমেনের ডামার শহরে। আমি আমার সবচে’ কাছের বন্ধু বিলালকে নিয়ে কিছু কথা আপনাদের বলবো।

প্রত্যেকের জীবনে কোনো না কোনো প্রিয় বন্ধু থাকে। যার কাছে লুকানোর কিছু থাকে না। সবকিছু বলা যায়। প্রতিদিন তার সাথে কথা বলতে না পারলে ভালো লাগে না। সবসময়ই যার হাসিমুখ দেখতে ইচ্ছে করে। আমারও সেরকম একজন বন্ধু আছে। ওর নাম বিলাল।

আমি আর বিলাল একসাথে স্কুলে পড়েছি। মাছ ধরতে গেছি। সিনেমা দেখতে গেছি। একসাথে প্রতিদিন স্কুলেও যেতাম। বিলাল ভালো করে জানতো আমি কিসে খুশি হই। সে আমার জীবনটাই পরিবর্তন করে দিয়েছিল। ওর সংস্পর্শে মানুষ হিসেবে আমি অনেক ভালো হয়ে গিয়েছিলাম।

তিন বছর আগে বিলাল পড়াশোনা করতে রাজধানী শহর সানা’য় চলে যায়। আর এক বছর আগে সৌদি আরব আমাদের প্রিয় দেশটিতে বোমা বর্ষণ শুরু করে।

২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল তারিখে আমি সানা’য় গিয়ে বিলালের সাথে দেখা করি। আমরা একটি কফি শপে বসে আড্ডা দিই। খুব চমৎকার সময় কাটে আমাদের। তারপরে আমি আমার বাড়িতে ফিরে আসি। আর বিলাল তার চাচা’র বাড়িতে চলে যায়। সৌদি যুদ্ধ বিমান ফাজ আটান পর্বত হামলার লক্ষ্যবস্তু করে। এটা ছিল সবচে’ বড় বিস্ফোরণ। আমাদের বাড়ির জানালা ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে যায়। এর ৩ ঘণ্টা পরে আমি বিলালের মায়ের কাছ থেকে ফোন পাই।

তিনি বলেন, “আহমেদ, বিলাল আর নেই।“

আমি বলি, “কী”? এটা ছিল আমার জন্য বড় একটা ধাক্কা।

“সৌদিরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে” বলে তিনি কাঁদতে থাকেন। তার সাথে সাথে আমিও কাঁদি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, সৌদি বিমান হামলায় আমার সবচে’ ঘনিষ্ঠ বন্ধু মারা গেছে।

সৌদি হামলায় ইয়েমেনে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। বিলাল তার মধ্যে একজন।

আমি ভুলতে পারবো না দু’জনে মিলে ‘গেইমস অব থ্রোনস’-এর এপিসোডগুলো দেখার দিনগুলোর কথা। তার রুমে বসে গান কিংবা নাচানাচি’র কথা।

আমি প্রতিদিন ভাবি, একদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখবো, যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে।

সৌদি জোট বাহিনীকে আমি বলতে চাই: এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন। আমাদের সবারই ছেলেমেয়ে আছে। তাছাড়া আমরা সবাই আপনার মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ। এটা কোনো ছেলেমানুষী খেলা নয়।

আর যুক্তরাজ্যকে বলতে চাই: দয়া করে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুন।

মাত্রই সৌদি যুদ্ধ বিমান আমাদের শহরের ওপর দিয়ে উড়ে গেল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .