বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পরিচিত হোন ফিলিপাইনের এক বিজ্ঞানীর সাথে যিনি ১৯৫৪ সালে ভিডিওফোন আবিস্কার করেছিলেন

Filipino scientist Gregorio Y. Zara demonstrating his invention in 1954: 'telephone television'. Source: National Academy of Science and Technology Philippines / Facebook

১৯৫৪ সালে ফিলিপাইনের বিজ্ঞানী জর্জিও ওয়াই জারা তার আবিস্কৃত “টেলিফোন-টেলিভিশন” কীভাবে কাজ করবে তা দেখাচ্ছেন। ছবি ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিলিপাইন/ ফেসবুক।

না, যা ভাবছেন তা নয়। এটা এপ্রিল ফুল-এর কোনো ধোঁকাবাজি নয়, নয় ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কোনো গুজব। ২০১৬ সালের ৩০ তারিখে ফিলিপাইনের ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনএএসটি) ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিটি ১৯৫৪ সালের। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ফিলিপাইনের বিজ্ঞানী জর্জিও ওয়াই জারা তার সাম্প্রতিক আবিস্কার কীভাবে কাজ করবে তা দেখাচ্ছেন। তিনি একটি টু-ওয়ে টেলিভিশন টেলিফোন বা ভিডিওফোন আবিস্কার করেছিলেন। পরে এটিকে তিনি “ফটো ফোন সিগন্যাল সেপারেটর নেটওয়ার্ক” নামে প্যাটেন্ট করেন।

ফেসবুকের এই পোস্ট ফিলিপাইনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পঞ্চাশের দশকে ফিলিপাইনের একজন বিজ্ঞানী এরকম একটি জিনিস আবিস্কার করেছেন, এটা শুনে সাধারণ মানুষ আবেগে আপ্লুত হন। ফেসবুকে দেয়া ছবি’র পুরো বর্ণনা এখানে তুলে দেয়া হলো:

Before there was Skype and Facetime, a Filipino scientist invented a television-telephone. Aha!

National Scientist Gregorio Y. Zara, a physicist, invented a device that makes it possible for two persons to see each other on a television while talking on the telephone as early as 1954.

স্কাইপ এবং ফেসটাইম আবিস্কারের আগে ফিলিপাইনের একজন বিজ্ঞানী টেলিভিশন টেলিফোন আবিস্কার করেছিলেন। কী দারুণ না!

পদার্থবিজ্ঞানী জর্জিও ওয়াই জারা ১৯৫৪ সালের শুরুর দিকে একটি যন্ত্র আবিস্কার করেছিলেন। এটি ছিল এক ধরনের টেলিফোন, যা দিয়ে দু’জন মানুষ কথা বলার সময় পরস্পরকে টেলিভিশনে দেখতে পেতেন।

এনএএসটি ফিলিপাইন সরকারের একটি সংস্থা। জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ফিলিপিনোদের অসামান্য সাফল্যগুলোকে এরা স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।

ভিডিওফোনের পাশাপাশি জর্জিও ওয়াই জারা ৩০টিরও বেশি আবিস্কারের প্যাটেন্ট করিয়েছিলেন। এদের মধ্যে সোলার-এনার্জি ডিভাইস, প্রোপেলার কার্টিং মেশিন এবং অ্যালকোহেলে চলবে এমন বিমান ইঞ্জিন।

তবে ফিলিপাইনের নেটিজেনরা ভিডিওফোন আবিস্কারের জন্যই জর্জিও ওয়াই জারা’র বেশি প্রশংসা করেছেন। শিক্ষার্থীরা দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী হিসেবে জারা-কে চিনলেও সে যে এরকম একটি ভিডিওফোন আবিস্কারের জনক, তা জানতো খুব কম মানুষই।

ফিলিপাইনের আগের সরকারগুলো যে জারা’র মতো বিজ্ঞানীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে ব্যর্থ হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এটিকে তার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

জারা’র আবিস্কৃত ভিডিওফোন কেন বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি, তার স্পষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে কয়েকজন জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি অনেকটা টেলিভিশনের সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচারের মতো। যা খুবই ব্যয়বহুল এবং অবাস্তবধর্মী।

বিজ্ঞানী জর্জিও ওয়াই জারা ১৯৭৮ সালে মারা যান। তবে তার উত্তরাধিকার বেঁচে আছে ফিলিপাইনের হাজারো প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে। তারা প্রতিদিন ইন্টারনেট ভিডিওফোন ব্যবহার করে দেশে অবস্থিত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .