বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কোটাটসু না করসাই? শীতে শরীর গরম করার এই পদ্ধতি জাপানের না ইরানের?

Japanese women lounge in their Kotatsu's. Image form Bored Panda.

জাপানিজ মহিলারা তাদের কোটাটসুতে শুয়ে আছেন। বোরড পান্ডার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি নেয়া হয়েছে।

বোরড পান্ডায় “চমৎকার জাপানি উদ্ভাবন” শিরোনামে কোটাটসু নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরানি বংশদ্ভূত আমেরিকান সাংবাদিক গুলনাউশ নিকনেজাদ এটি জাপানিজ না ইরানিয়ান সেটা জানতে চেয়েছেন।

জাপানিজ না ইরানিয়ান?

বাইরের সবার কাছে শীতের হাত থেকে বাঁচার জাপানি এই কৌশলটি অভাবনীয় মনে হলেও ইরানিদের কাছে এটা খুব পরিচিত একটি দৃশ্য।

Traditional coal burning Korsi used in Iran at the beginning of the 20th century. Image from Wikipedia, CC0 1.0.

ইরানের প্রথাগত কয়লা দিয়ে বানানো করসাই। বিশ শতকের শুরুর দিকে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো। ছবি উইকিপিডিয়ার সৌজন্যে।

তবে ইরানিরা এটাকে কোটাটসু নামে ডাকে না। তারা একে বলে করসাই। শীতে সূর্য যখন দক্ষিণের দিকে বেঁকে অবস্থান করে, তখন এটি একটি পরিচিত প্রথা হিসেবে দেখা যায়। এর একটি নামও আছে- শবে আল ইয়ালদা। শবে আল ইয়ালদা হলো বছরের সবচে’ বড় রাত।

এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় সর্বপ্রথম কে এই পদ্ধতি আবিস্কার করেছিলেন। তবে গুগলের ইরানি সংস্করনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিশ শতকের প্রথম দিকে প্রথাটি চালু হয়েছে। বেশিরভাগ ইরানিরাই তাদের আচার-অনুষ্ঠান, প্রথার ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুখে মুখে সংরক্ষণ করে থাকেন। সে হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায় আঠারো শতকে, কোয়াজার শাসনামলে। তবে উইকিপিডিয়াতে কোটাটসু’র যে ভুক্তি আছে, সেখানে চৌদ্দ শ’ শতকের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ভয়েসেস-এর জাপানিজ সম্পাদক নেভিন থমসন বিষয়টির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

It’s hard to say when and how the kotatsu first developed in Japan, but it almost certainly dates back to the practice of having a charcoal fire in a sunken hearth (an irori) that would be used for cooking. Japanese homes did not have chimneys so the charcoal smoke was released directly into the thatch, and would have provided waterproofing over time.

Obviously an irori would not have provided too much heat (Japan in winter is actually pretty cold) so people would have to bundle up wearing clothes made of hemp (or later on, after contact, cotton).

After World War II when people finally became more affluent the kotatsu blanket would have been adopted.

এটা বলা কঠিন জাপানে কবে, কখন, কোথায় কোটাটসু চালু হয়েছিল। তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, অনেক আগেই রান্নার উপকরণ হিসেবে ঘরে চারকোল ব্যবহারের চল ছিল। জাপানিদের ঘরের চালে চিমনি থাকতো না। তাই চারকোলের ধোঁয়া সরাসরি ঘরের ছাউনি দিয়ে বের হতো। এটা পুরোটা সময় ধরে ওয়াটারপ্রুফ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতো।

অবশ্য এই ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হতো না। (জাপানের শীতে খুব ঠান্ডা পড়ে)। তাই জাপানিরা শণের তৈরি পোশাক পরতো (পরবর্তী কাল থেকে অবশ্য সুতি কাপড়ের কাপড় পরে আসছে)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মানুষের হাতে একটু টাকা-পয়সা আসে। তারা তখন কোটাটসু কম্বল কিনে ব্যবহার করা শুরু করে।

সে যাই হোক, প্রথমে কারা নিয়ে এসেছিল সেটা জানা না গেলেও জাপান ও ইরান উভয় দেশের মানুষজন শীতে উষ্ণতা পেতে এই কৌশল অবলম্বন করেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .