বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইয়েমেনে যুদ্ধের সময় যাপিত ঈদ

"Eid Mubarak but this man has no eid all of his family's members killed by KSA regime Muhamasheen area in Sanaa #Yemen," tweets Fatik Al-Rodaini (@Fatikr)

ফতিক আল-রোদাইনি (@ফতিকআর) টুইট করেছেন, “ঈদ মোবারক। তবে এই লোকটির ঈদ নেই। কেননা ইয়েমেনের সানাতে অবস্থিত মুহামাশিন এলাকাতে সৌদি আরব তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে”।

আরও বিমান হামলা এবং রক্তপাত সঙ্গে নিয়ে ইয়েমেনিদের ঈদ উদযাপন।

২০১৫ সালের ২৫ মার্চ তারিখে সৌদি চালিত বিমান হামলা দেশটির রাজধানী সানাতে আঘাত হানতে শুরু করলে দেশটি সরাসরি এক সম্মুখ যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করে। ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চল এবং রাজধানী দখল করে নেয়া হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সৌদি হামলা চালাতে শুরু করে। এমনকি যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনে পবিত্র রমযান মাসেও জরুরী মানবিক প্রয়োজনে যুদ্ধ বিরতি দেয়া হয়নি।

হুথি এবং সাবেক ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহ সৈন্যবাহিনীর মাঝে চার মাসের আগ্রাসন এবং বিধ্বংসী যুদ্ধের পর ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এডেনের “স্বাধীনতা”র আনন্দময় খবরের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতরকে স্বাগত জানান হয়। উল্লেখ্য রমযান মাসের শেষে ঈদ উদযাপিত হয়।

সাংবাদিক মোজাহিদ আল সালালি তাদের শহরকে মুক্ত করতে বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেনঃ

এডেন এবং এর বীরেরাই এক মাত্র এই বছরের ঈদে আনন্দ করার যোগ্য। তাঁদের ধন্যবাদ, তাঁদের বিজয় এবং বীরত্ব যদি না থাকতো তবে এই বছরে আমাদের ঈদ যন্ত্রণা এবং উদ্বেগ পূর্ণ হয়ে উঠতো!

ঈদের সময়ে তীক্ষ্ণদন্ত প্রাণীর হাত থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করতে জনগণের প্রতিরোধের সচিত্র বর্নণা দিয়ে একটি কার্টুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

কার্টুনঃ ইয়েমেনে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি। এঁকেছেন ডাঃ আলা আলাকতা

হায়কাল বাফানা সানাতে বসবাস করেন। তিনি জানিয়েছেন যে অনেক ইয়েমেনি তাঁদের ঈদের দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের আশা করেছিলেন।

তায়াজ, সানা, মারিব ইত্যাদি অঞ্চল থেকেও যদি হুথিরা নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতো তবে ইয়েমেনের ঈদ উল ফিতর কতোটা আনন্দময়ই না হতো!

টুইপদের (যারা টুইটারে অনলাইন মেসেজ সার্ভিস ব্যবহার করেন) অনেকে উল্লেখ করেছেন, সমগ্র ইয়েমেন জুড়ে সৌদি বিমান হামলা, হুথি এবং সালেহ সেনাবাহিনীর আগ্রাসন এখনও চলছে, এমনকি ঈদ উদযাপনের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে।

তায়াজে ভারী গোলার আঘাত সম্পর্কে জানিয়েছেন নাদওয়াঃ

রোযা উদযাপন শেষে ঈদের প্রাক্কালে তায়াজে হুথি এবং সালেহ বাহিনী ভারী গোলা বর্ষণ করেছে।

সানাতে বিমান হামলা সম্পর্কে হিশাম আল-ওমেইসি টুইট করেছেনঃ

আসলেই সৌদি আরব! সানাতে এখন বিমান হামলা! ঈদে! ঈদের সকালে নামাজের জন্য রাস্তায় জনসাধারণের ভীড়!

আবদুল কাদের আল গুনায়েদ বলেছেন, গোলাবর্ষণের শব্দে নামাযীরা ঈদের নামায আদায় করেছেনঃ

ট্যাংক থেকে গোলা বর্ষণের বিরামহীন শব্দে তায়াজের স্বাধীনতা চত্বরে ঈদের জামাত।

সানাতে আবারও বিমান হামলা। হায়কাল বাফানা জানিয়েছেন, মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের এতেকাফ অবস্থায় জেট বিমানের শব্দ পাওয়া গেছেঃ

ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে ঈদুল ফিতরঃ ঈদের নামাজ আদায় করতে মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় সৌদি জেটগুলো এমনকি মাথার উপড় দিয়ে চিত্কার করে যাচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয় সৌদি পাইলটরা নামায আদায় করেন না।

আর ওমর আল-আউলাকি এই ছবিটি শেয়ার করেছেন। ছবিটিতে তিনি ঈদের সারমর্ম টেনে বলেছেনঃ

ভাল… আমি মনে করি ছবিটিই সব বলে দিবে। সত্যিই বেশ ক্লান্ত আর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইয়েমেনের পক্ষ থেকে জানাই ঈদ মোবারাক!

যুদ্ধ সত্ত্বেও ইয়েমেনিদের কেউ কেউ এখনও নিজস্ব ছকে বাঁধা জীবনযাপন করছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই ঈদ উদযাপন করেছেন।

ফরিক আল-রোদাইনি বলেছেন, যুদ্ধ অনেক ইয়েমেনিকেই ঈদ উদযাপন থেকে বিরত রাখতে পারেনিঃ

সৌদি আরবের হামলা চালান সত্ত্বেও ইয়েমেনিরা ২ টি মসজিদে ঈদের জামাতে নামায আদায় করেছেন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঈদ উদযাপন করেছেন এবং আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ঈদ মোবারক, আলী।

নাসের আরাবি তাঁর স্ত্রীর সাথে তোলা একটি সেলফি শেয়ার করেছেনঃ

আমাদের দেশ ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন সত্ত্বেও আমার স্ত্রী রাধিয়ার সাথে শুভ ঈদে শুভ সেলফি!

দুঃখের বিষয় এই যে, ইয়েমেনের শিশুরা এবার ঈদের সময় খেলার জন্য একটি নতুন খেলা পেয়েছে, গত চার মাস ধরে তাঁরা যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে তা অনুকরণ করে খেলছে।

ইয়েমেনের তায়াজে ঈদ এবং শৈশব।

সাংবাদিক মোহাম্মাদ জামজুম জানিয়েছেন, এই ঈদে কোনটি ইয়েমেনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

আপনি জানেন কি, ইয়েমেনে ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে কি প্রয়োজন? জনগণের প্রকৃত শান্তির জন্য প্রয়োজন সত্যিকার অর্থেই দরকার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম।

নিজস্ব প্রতিবেদক জেন ফার্গুসন ঈদের সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে ইয়েমেনের জন্য প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেনঃ

ভাবুন ইয়েমেনে পরিবারগুলোর জন্য আজ ঈদ উদযাপন করা কতোটা কঠিন। বিদ্যুৎ, খাবার, পানিসহ একটু আশাও নেই। ইয়েমেনিদের জন্য প্রার্থনা করুন।

ইয়েমেনে ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে কি করতে হবে? এই যুদ্ধে ঘরছাড়া ১ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক লোককে যদি তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে আনা যেত!

একদল ইয়েমেনি তরুণ একটি শক্তিশালী ভিডিও তৈরি করেছে, পরিচালনা করেছেন মাহা এলাগিল। হত্যা এবং সহিংসতা সত্ত্বেও ইয়েমেন ঈদ উদযাপন করছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতেই তাঁরা ভিডিওটি তৈরি করেছেন।

আলা ইসাম উল্লেখ করেছেন, ইয়েমেনে যখন শান্তি এবং উন্নয়ন বিরাজ করতো তখনই সত্যিকার ঈদ উদযাপন হতঃ

ঈদ সত্যিকার অর্থে তখনই উদযাপন করা হত, যখন সমগ্র ইয়েমেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল এবং সবাই টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .