বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফরাসী গণমাধ্যম শিল্পের জন্য ফরাসী ভাষাভাষীর আফ্রিকা সম্ভাবনার একটি নতুন দেশ

Scene du film Timbuktu - femme en pleurs - CC-BY-20

টিমবুকটু নামের একটি চলচ্চিত্রের একটি নমুনাচিত্র থেকে নেয়া দৃশ্যে একজন নারীকে কান্নারত দেখা যাচ্ছে।

কয়েকটি সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের সফলতার উপর ভিত্তি করে ফরাসী ভাষাভাষী চলচ্চিত্র শিল্প সম্প্রতি আবার তেজীভাবের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মরিতানীয় চলচ্চিত্রকার আব্দেররামানে সিসাকো নির্মিত ‘টিমবাকটু‘ এবং মালাগাসীয় প্রামাণ্যচিত্র ‘আদি গাসি‘। অন্যান্য সফল প্রকল্পগুলো এই অঞ্চলে এই সেক্টরের অনস্বীকার্য বৃদ্ধির প্রদর্শনী করেছে: মরোক্ক'র ‘লে শোভো দো দিও‘ (ঈশ্বরের ঘোড়াগুলো) সেনেগাল-এর ‘লা পিরোগ‘ (নৌকা), আলজেরিয়া'র ‘দ্যা রিভার’ (নদী) এবং মাদাগাস্কার থেকে ‘আঙ্গানো আঙ্গানো‘।

ফ্রান্স-ভিত্তিক চলচ্চিত্র শিল্প যখন বিশ্বব্যাপী সাফল্য অর্জন করায় কঠিন সময় পাড় করছে, তখন আফ্রিকীয় মহাদেশ হয়তো তাদের জন্য উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। সত্যিকার অর্থে এই পর্যবেক্ষণটি পুরো ফরাসী গণমাধ্যম শিল্পের জন্যও প্রযোজ্য। তারপরও, যখন এই সেক্টরের জন্য মহাদেশটি একটি ক্রমবিকাশমান সম্ভাবনাময় ভূমি হিসেবে গড়ে উঠছে, গণমাধ্যমগুলোর বাজারে এখনো কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়ে গেছে যেগুলো এর বিকশিত হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ফরাসী ভাষাভাষী গণমাধ্যমগুলোর জন্য প্রতিশ্রুতি ভূমি

২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৮৫% ফরাসী ভাষাভাষী আফ্রিকাতে বসবাস করবে বলে অনুমান করা হয়। পর্দার প্রতি ক্রমবিকাশমান উৎসাহ আছে এমন বেশ তরুণ প্রজন্মের দেশ হলো আফ্রিকা। ফরাসী প্রযোজকরা খুব দ্রুতই এই বাজারে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছে, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও প্রায় সবকিছুর জন্যই একটি কাঠামো তৈরী করার প্রয়োজন হবে: মহাদেশটিতে এখনও তথ্য প্রযুক্তিতে একটি জোরালো আইনগত কাঠামোর কমতি রয়েছে (বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন পিডিএফ) এবং এর ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন (পিডিএফ আইটিইউ প্রতিবেদন) যাতে এদেশের ক্রমবিকাশমান মধ্যবিত্তদের জন্য দ্রুতগতির সংযোগ প্রদান করা যায়।

ফরাসী মাধ্যমগুলোর প্রযোজকরা এই সম্ভাবনাকে ২,০০০ সাল থেকেই উপলব্ধি করে আসছে এবং এই বাজারটিকে বিকশিত করতে চেষ্টা করেছে। ফরাসী চ্যানেল টিভি৫ ও কানালস্যাট এবং পশ্চিম আফ্রিকীয় টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি যৌথ প্রযোজনা গড়ে উঠেছে। অগ্রগামীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যান্য ফরাসী টিভি নেটওয়র্ক যেমন সঙ্গীতের চ্যানেল ট্রেস টিভি এই অঞ্চলে একটি স্থানীয় এজেন্সী স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তটি ট্রেস টিভির জন্য বিচক্ষণ প্রমানিত হয়েছে কারণ বর্তমানে এর লেনদেনের একতৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে আফ্রিকা। ট্রেস টিভি তার নেটওয়ার্ক এমনকি মুঠো ফোন এবং বেতার-এ বিস্তৃত করার চিন্তাভাবনা করছে।

“Ensemble, nous deviendrons une force” Capture d'écran de la bande-annonce de “Ady Gasy”, un documentaire les façons joindre les deux bouts à Madagascar, par Lova Nantenaina via YouTube

পার লোভা নানতেনাইনা নির্দেশিত ‘আদি গাসি’ নামের প্রামান্যচিত্রের একটি মুহুর্ত, ইউটিউব থেকে নেয়া।

এই সফলতা সত্ত্বেও খুব হাতে গোনা কয়েকটি ফরাসী কোম্পানী এই মহাদেশের বিদ্যমান সুযোগকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সাহস করেছে। জানালাগুলো হয়তো খুব শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে কারণ চীন ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আগত গণমাধ্যমগুলো সেই সুযোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে।

ফরাসী গণমাধ্যম উদ্যক্তাদের জন্য একটি অধরা বাজার 

তাহলে ফরাসী উদ্যক্তাদের মধ্যে কেন এই দ্বিধা? এই অঞ্চলের জন্য ফরাসী গণমাধ্যমকে যখন ভাষাভাষীর দিক থেকে স্বাভাবিক যোগ্য হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে তখন সম্ভাব্য বাধাগুলো তাদের থমকে দাঁড়ানোর কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি ও অবকাঠামোর অভাবকেই কয়েকটি কারণ হিসেবে নেতৃস্থানীয় দলগুলো উল্লেখ করেছে। কিন্তু এখন অবহেলা করলে পরবর্তীতে সুযোগ হারানো সম্ভাবনা থাকবে অনেক বেশী। একজন ফরাসী গণমাধ্যম বিশ্লেষক জেরোম বোদাঁ'র মতামত হলো:

Si la France souhaite accroître son influence et son rayonnement, elle doit rapidement engager une réforme de ses médias et faire enfin émerger une puissante industrie audiovisuelle.Un pays ne peut pas prétendre exercer une influence sur les affaires du monde sans des groupes audiovisuels forts et exportateurs. La compétitivité des groupes de télévision français s'est effondrée depuis le début des années 2000, tout particulièrement par rapport à leurs pairs allemands et américains.

ফ্রান্স যদি তার বৈশ্বিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে চায়, তবে তাকে দ্রুততার সাথে তার গণমাধ্যমগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে যাতে তারা একটি ক্ষমতাশালী গণমাধ্যম হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করতে পারে। একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রয়োগযোগ্য সাংস্কৃতিক কৌশল ছাড়া একটি দেশ বৈশ্বিক বিষয়গুলোর উপর তাদের দখল আছে তা দাবী করতে পারে না। ২০০০ এর সালগুলোর প্রথম ভাগের পর থেকে ফরাসী টেলিভিশন নেটওয়র্কের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধসে পড়েছে, বিশেষকরে তাদের জার্মান ও মার্কিন প্রতিযোগীদের তুলনায়।

ফরাসী রাজনীতিবিদরাও সমাধানের পথ বাতলাতে এগিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরাসী জাতীয় সংসদে একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আফ্রিকার চলচ্চিত্রের বাজারে আরও ভালভাবে প্রবেশ করার জন্য কোন নীতি প্রয়োগ করা হবে তা আলোচনা করা হয়। ফরাসী সংসদ সদস্য বের্নার শোসগ্রো পরামর্শ দিয়েছেন যাতে বর্তমান ব্যবসায়িক কাঠামোটির পুনর্বিবেচনা করা হয়। তিনি মতামত দিয়েছেন যে সংস্থা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভর্তূকী না দিকে ফ্রান্সের উচিত স্থানীয় ও ফরাসী দলগুলোর মধ্য সহযোগিতার প্রসার করা। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে এই অঞ্চলে দ্রুত প্রবেশ করার ক্ষেত্রে এই ধারা সহায়ক হতে পারে।

কিন্তু মনে হচ্ছে ফরাসী গণমাধ্যম অবশেষে তাদের সংজ্ঞাহীনতা কাটিয়ে উঠেছে ও মোহবিষ্টতা থেকে বের হতে পেরেছে। উদাহরণস্বরূপ, লাগারদের গণমাধ্যম দল সেনেগালের ডাকার'এ একটি টেলিভিশন প্রযোজনা কার্যালয় স্থাপন করেছে। অক্টোবর ২০১৪তে ফরাসী গণমাধ্যম সঙ্ঘ কানাল+ ‘আফ্রিকার শীর্ষ চ্যানেল’ হিসেবে বিবেচিত হবার লক্ষ্য নিয়ে আফ্রিকীয় মহাদেশের জন্য নিয়োজিত একটি চ্যানেল চালু করেছে যার নাম A+। তাদের এই সূত্র ধরেই ইউরোসংবাদ ২০১৫ সালে আফ্রিকাসংবাদ নামে একটি আন্ত-আফ্রিকীয় বহুভাষাভাষী তথ্য চ্যানেল চালু করার প্রস্তাব করবে।

যে সময়ে ইউরোপের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে আছে, সে সময়ে সম্প্রচার কোম্পানীগুলোর জন্য আফ্রিকাকেই বিনিয়োগ করার আদর্শ মহাদেশ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ফ্রান্সকে তাদের দ্বিধাগ্রস্ত অতীতকেও জয় করতে হবে। আফ্রিকীয় মহাদেশের উপর এদের প্রভাব প্রয়শই বিশ্লেষিত হয়েছে এবং বিতর্কপূর্ণ ছিল। এর কারণ হলো আফ্রিকাতে এর সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তৃত করায় ফ্রান্সের প্রচেষ্টা তার কার্যক্রমের উপর সন্দেহের উদ্রেক করেছে। যাই হোক না কেন, গণমাধ্যমের বাজারের জন্য প্রতিযোগিতাটি হবে খুবই প্রবল, বিশেষকরে তথ্যপ্রযুক্তিতে, এবং এই সদ্যপ্রাপ্ত সোনার খনির দিকে ধাবমান হবার দৌড়ে একটি স্থান নিশ্চিত করতে তাদের এখনও প্রচুর কাজ করার প্রয়োজন হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .