বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হংকং: নিজের একটা বাড়ি হবে এমন স্বপ্ন পূরণ হওয়া অসম্ভব

Hong Kong Skyline by Flickr Jens Schott Knudsen. CC: NC-AT

হংকংয়ের দিগন্তরেখা। জেনস স্কুট নাডসেনের ফ্লিকার থেকে ছবিটি নেয়া। সিসি: এনসি-এটি’র আওতায় প্রকাশিত।

হংকং-এ বাড়ির দাম আকাশচুম্বী। খুব কম লোকই সেটা কেনার সামর্থ্য রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বার্ষিক মানুষের আন্তর্জাতিক বাসস্থান ক্রয়-ক্ষমতা জরিপে (অ্যানুয়াল ডেমোগ্রাফিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফোর্ডাবিলিটি সার্ভে) সেটাই উঠে এসেছে। বাড়ির গড় দাম বার্ষিক আয়ের তুলনায় ১৭ গুণ বেশি। ১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৮৮ শতাংশ তরুণই নিজে বাড়ির মালিক হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন

সরকার ঘোষিত বর্তমান মাসিক মিডিয়ান (মাঝামাঝি) বেতন প্রায় ১৫ হাজার হংকং ডলার (১,৯৫০ মার্কিন ডলার)।অন্যদিকে ২০১৪ সালে হংকং-এ মিডিয়ান (মাঝামাঝি) মাসিক পারিবারিক আয় ছিল ২৩,৫০০ হংকং ডলার (৩,০০০ মার্কিন ডলার)। টাকার অংক দেখে দৈনন্দিনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ মনে হলেও আয়ের বেশিরভাগ অংশই ব্যয় হয় বাড়ি ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে।

টাই পো নামে নতুন একটি শহরতলি গড়ে উঠেছে। সেখানেই ৪০০ বর্গফুটের একটি বাড়ির দাম ৪.৬৮ মিলিয়ন হংকং ডলার। যা মাঝারি আয়ের একটি পরিবারের ২০০ গুণ বেশি। অন্যদিকে মাঝারি আয়ের একটি পরিবার যদি তাদের সবটুকু আয় জমান, তাহলে সস্তা দামের একটি বাড়ি কিনতে ১৬.৫ বছর লাগবে।

হংকং-এ সবচে’ বড় লটারি হিসেবে পরিচিত মার্ক সিক্স, সেটার প্রথম পুরস্কারও যদি কেউ জেতেন, সেটা দিয়েও তিনি একটি চমৎকার বাড়ি কিনতে পারবেন না। তাকে অন্যজনের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। প্রথম পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রায় ৮ মিলিয়ন হংকং ডলার। তবে আপনি যদি অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে নেন, তাহলে এর অর্ধেক টাকা পাবেন।

সিটিজেন মিডিয়া প্লাটফর্ম ইনমিডিয়াএইচকে ডট নেটে কলামিস্ট কিউসি বাড়ির এমন আকাশচুম্বী দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন:

對,香港已進入了中六合彩也未必可以買樓的年代。儘管你那麼幸運,以一億三千九百萬分之一的機會中了六合彩,如果沒有累積多寶獎金而幸運兒不只是你一個的話,彩金也未必足夠可以買樓。[…] 過去數十年,香港人都認為中六合彩可以改變生活,給大家一個渺茫的希望。現在連這個希望也未必存在。

হংকং এমন এক যুগে প্রবেশ করেছে, যখন মার্ক সিক্স জিতেও আপনি একটি বাড়ি কিনতে পারবেন না। এমনকি আপনি যদি অতি সৌভাগ্যবানও হন, ছয়বারই একটি একক নম্বর পেয়ে ১৩৯ মিলিয়ন হংকং ডলার জিতেন, যদি জ্যাকপট আপনার না-ও হয়, তবে পুরস্কারের টাকা বাড়ি কেনার জন্য যথেষ্ট নয়। […] বিগত কয়েক দশকে হংকং-এর অধিবাসীরা বিশ্বাস করতো মার্ক সিক্স জিতলে তাদের জীবন বদলে যাবে। কিন্তু বর্তমানে এমনটা আর আশা করা যায় না।

ইনমিডিয়াএইচকে ডট নেটের অন্য একজন কলামিস্ট টিসে কেওয়ুন টাং তরুণদের বাড়ি কেনার জন্য তিনটি প্রয়োজনীয় শর্তের কথা বলেছেন:

如果你想買樓,你必須過三關:首先,你能月儲3000元;第二,你能找到伴侶;第三,樓價大跌。如果你一關都過不了,還是別再造買樓的春秋大夢了!如果你已過了兩關,那便可望天打掛,苦候樓市盤崩的一天吧。

আপনি যদি বাড়ি কিনতে চান, তবে আপনাকে তিনটি চ্যালেঞ্জে পাস করতে হবে: প্রথমত, আপনাকে প্রতি মাসে ৩ হাজার হংকং ডলার জমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনার একজন সঙ্গী দরকার হবে [মাসে মাসে বন্ধকীর টাকা দেয়ার জন্য]। তৃতীয়ত, বাড়ির দাম অনেক কমে যেতে হবে। আপনি যদি প্রথম দু’টি চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে সমর্থ না হন, তাহলে বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। আর যদি প্রথম দু’টি চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে সমর্থ হন, তবে বাড়ির দাম কবে কমবে তার জন্য অপেক্ষা করুন।

তবে অন্যান্য মনে করেন, এই তিনটির বাইরেও আরো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

總有好多關:不失業,不離婚,不生仔,不生病,樓價不升…..

আরো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে: আপনাকে চাকরিচ্যুত হওয়া যাবে না, ডিভোর্স হওয়া যাবে না, বাচ্চা নেয়া যাবে না, অসুস্থ হওয়া যাবে না এবং বাড়ির দাম বাড়তে পারবে না…

মর্টগেজ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য সঙ্গী থাকার আইডিয়ার সাথে অন্য একজন দ্বিমত প্রকাশ করেছেন:

找到伴侶重要儲錢結婚,結咗婚要比三份家用,可以點儲錢,儲幾多呢

যদি একজন সঙ্গী খুঁজে পান, তবে বিয়ের জন্য আপনাকে টাকা জমাতে হবে; আবার বিয়ের পর আপনাকে তিনটি পরিবারকে সহযোগিতা করতে হবে। তারপরে আপনি কি কোনো টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন? যদি পারেনও, তাহলে কত টাকা জমাতে পারবেন?

নিজের একটা বাড়ি নেই, সে দু:খ তো আছেই। তবে কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয় ধনীদের মন্তব্য। যেমন হংকংয়ের অন্যতম ধনকুবেরের ছেলে লাও মিং-ওয়াই-এর মন্তব্য। তিনি তার বয়সী তরুণদের সিনেমা এবং জাপানে ঘুরতে গিয়ে টাকা না ফুরানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ধনকুবেরের ছেলের বক্তব্য, এইসব করে টাকা না ফুরায়ে তরুণরা যদি টাকা জমায়, তাহলে তারা বাড়ি কিনতে সমর্থ হবে। তবে নেটিজেনরা তার এই পরামর্শকে উড়িয়ে দিয়েছে। প্যাশন টাইমসের প্রতিবেদনের মন্তব্য’র ঘরে তারা লিখেছেন:

我一世人只去過一次旅行,係十年前去泰國,我父母從不旅行,不是人人都會大洗去日本,唔係人人都唔努力唔儲錢。其實都仲有好多人好似我咁,但係未能買樓

আমি আমার জীবনে একমাত্র মাত্র ঘুরতে গেছি। সেটা ১০ বছর আগে। থাইল্যান্ডে। আমার বাবা-মা কখনো কোথাও ঘুরতে যায়নি। আমার মতো আরো অনেকেই জাপানে যায়নি। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। কিছু টাকা জমাই। কিন্তু আমরা কেউ-ই বাড়ি কিনতে সমর্থ নই।

日本,計每年2次每次1皮,唔去一年慳2萬
睇戲,計每週2次每次100,唔睇一年慳1萬零4百
300萬既樓,儲98年多d就買到了,佢既建議真係好洗得

ধরে নিই একজন বছরে দু’বার জাপান যান। জাপানে না যাওয়া মানে এই নয় যে, বছরে অতিরিক্ত ২০ হাজার হংকং ডলার জমানো। আবার ধরে নিই, একজন সপ্তাহে দু’বার সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখেন। সিনেমা প্রতি খরচ ১০০ হংকং ডলার। সিনেমা না দেখা মানে এই নয় যে, বছরে আরো ১০,৪০০ হংকং ডলার জমানো। বাড়ির দাম যদি ৩ মিলিয়ন হংকং ডলার হয়, তাহলে এই পরিমাণ টাকা জমাতে আপনার ৯৮ বছর লাগবে। কী বাস্তবসম্মত পরামর্শ!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাওয়ের পরামর্শ মতে বাড়ির দাম কমবে এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ শহরের বাড়ির বাজার শুধু স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করছে না, বিপুল সংখ্যক মেইনল্যান্ড চাইনিজ বিনিয়োগকারীর চাহিদাও পূরণ করতে হচ্ছে। তাছাড়া রাজনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি পরিবেশ এবং সংরক্ষণ নীতিও ভবিষ্যতের জমি সরবরাহের প্রতি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বাড়ির দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া হংকংয়ের সামাজিক অসন্তুষ্টির একটি উৎস। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইয়াং ২০১২ সালের তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বাড়ির দাম কম রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত দু’বছরে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। হংকংয়ের রাজনীতিতে ধনীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাই পলিসি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে খুব শিগগিরই এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .