বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আয়োতজিনাপার ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ২৫০ তম দিন

43-ayotzinapa-memorial-mexico-city

মেক্সিকোর আয়োতজিনাপার ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর ২৫০ তম দিন পার হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ন্যায় বিচার সাধিত হয়নি

৩ জুন ২০১৫ তারিখটি ছিল মেক্সিকোর আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনার ২৫০ তম দিনঃ মেক্সিকোর ইগুয়ালায়, আয়োতজিনাপা গ্রামীন রাউল ইসাদ্রো বার্গোস শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে ৪৩ জন ছাত্রের নিখোঁজ এবং খুন হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যা দেশটির গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যে ঘটেছিল।

এই ঘটনার পর অনেক দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও, ছাত্রদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তার জন্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দায়ী করে এখনো আন্দোলন চলছে। পণ্ডিত ইমোনেল ওরদোরিকা এবং এ্যাডলফো গুলি মন্তব্য করেছে:

La desaparición y matanza de estudiantes normalistas en Iguala, Guerrero, es un crimen de Estado, cometido en un país donde la tortura, las desapariciones y las muertes violentas se han convertido en hechos cotidianos. Están ya confirmados el asesinato de tres estudiantes y cuatro ciudadanos y la desaparición forzada de cuarenta y tres estudiantes de la Escuela Normal Rural de Ayotzinapa.

Las víctimas son jóvenes estudiantes que, en el contexto de privaciones y pobreza de sus propias familias, luchan por la defensa de la educación pública en medio de las difíciles condiciones de las Escuelas Normales Rurales, objeto de acoso estatal y federal durante décadas.

গুয়েরেরোর ইগুয়ালার ছাত্রদের উধাও হয়ে যাওয়া এবং তাদের খুনের ঘটনা রাষ্ট্রীয় এক অপরাধ, যা এমন এক দেশে সংঘঠিত হয়েছে যেখানে অত্যাচার, ধরে নিয়ে গুম করে ফেলা এবং নির্মম মৃত্যু খুব সাধারণ ঘটনা। তিনজন ছাত্র এবং চারজন নাগরিকের মৃত্যু ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আয়োতজিনাপার গ্রাম্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের ৪৩ জন ছাত্রের জোর করে গুম করে ফেলার ঘটনাও।

ঘটনার শিকার তরুণ এই সকল ছাত্র যারা তাদের পারিবারিক জীবনে দারিদ্য এবং কঠিন পরিস্থিতি মধ্যে কাটতে হয়েছে, তারা গ্রাম্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অতীব কঠিন পরিস্থিতি গণ শিক্ষা অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করে গেছে। রাষ্ট্র এবং কেন্দ্রীয় সরকার দশকের পর দশক ধরে বার বার এই সমস্ত ব্যক্তিদের হয়রানি করে গেছে।

নাগরিক সমর্থিত মানবাধিকার নামক এনজিও এই অভিযোগের প্রতিধ্বনি করেছে যে আয়োতজিনাপার এই বেদনাদায়ক ঘটনার জন্য রাষ্ট্রীয় এক কর্মকর্তারা এক ভূমিকা পালন করেছে:

En dichos actos participaron tanto policías municipales de Iguala, Guerrero en coordinación personas vestidas de civil, ante la total “ausencia, pasividad y tolerancia”, de las fuerzas federales, la gendarmería, y las fuerzas armadas cuya presencia es notoria en el estado de Guerrero, ante la vigencia del operativo “Guerrero Seguro”.

ইগুয়ালার স্থানীয় পুলিশ এবং সাদা পোশাকধারী পুলিশ উভয়ে এই ঘটনায় অংশ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, কারা কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনী এই এলাকায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং অকার্যকর, আর তারা সহনশীল নয়, এবং গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যে তাদের কুখ্যাত উপস্থিতির কারণ ছিল “গুয়েরেরোকে নিরাপদ” রাখার এক অভিযান হিসেবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে এই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হয়,আর এই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইগুয়ালার মেয়র হোজে লুইস আব্রাকা এবং তার পত্নী মারিয়া ডে লস এ্যাঞ্জেলেস পিনেদাকে গ্রেফতার করা হয়, যারা তাদের প্রাচুর্যপূর্ণ জীবনের জন্য রাজকীয় দম্পতি হিসেবে পরিচিত। খুনের আদেশ দেওয়ার অভিযোগে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়, কিন্তু বিশেষ করে এই সকল হত্যা সংক্রান্ত যে অপরাধ নির্ধারণ প্রক্রিয়া তা ক্রমশ বিলম্ব হতে থাকে। এতে বলা হচ্ছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অন্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ।
এই তদন্তের সময় আর্জেন্টিনার ফরেনসিক এনথ্রোপলজি টিম ইগুয়ালার কাছে এক আবর্জনার স্তূপে আবিস্কৃত মানব দেহের অবশিষ্ট অংশ পরীক্ষা করে দেখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে এই ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের প্রধান এবং এই তদন্তে নেতৃত্ব প্রদান করা জেসুজ মুরিলো কারাম, এর বদলে এই তদন্ত কার্যে স্থলাভিষিক্ত হয় সংসদ সদস্য আরেলি গোমেজ, যার বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে অপরাধ তদন্তে তার অভিজ্ঞতা খুব সামান্য, যদিও তার রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা অনেক বেশী। এই দায়িত্ব গ্রহণ করার পর গোমেজ বলেন :

Estoy convencida que la investigación que se realizó por el exprocurador Murillo Karam fue una investigación profunda, seria y exhaustiva. Esto lo realizaron varias personas de la Procuraduría General de la República con un alto nivel.

প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিলো কারাম যে রকম গভীর ভাবে, গুরুত্বের সাথে এবং পরিপূর্ণ রূপে এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল-এর অফিস থেকে অত্যন্ত উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা এতে অংশ গ্রহণ করেছে।

ইগুয়ালায় সংঘঠিত এই ভয়াবহ ঘটনার স্মরণে এখনো নিয়মিত প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৬ মে তারিখে “গ্লোবাল এ্যাকশন ফর আয়োতজিনাপা” নামক সংগঠনের সদস্যরা মেক্সিকো সিটিতে সমবেত হয় এবং নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছাত্রদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এতে অংশ গ্রহণ করে। .

টুইটারে, এনরিকে ডি মন্তব্য করেছে :

স্বাধীনতার বীজ থেকে স্মৃতির প্রস্ফুটিত হয়। মেক্সিকো তাদের ভুলে যেতে পারে না- স্মৃতির ঝর্ণা থেকে তাদের জন্য পান করি।

গত রোববার, মেক্সিকোয় মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয় এবং রাজ্যের জন্য নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়। কারো কারো কাছে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তাদের অসোন্তষ প্রকাশের জন্য এটি এক সুযোগ।

ব্যবহারকারী কোম্পা এলিফানথ্রোন লিখেছে:

যদি আপনি পিআরআই [ইনিস্টিটিউশনাল রেভ্যুলুশনারী পার্টি], তাহলে স্মরণ রাখবে যে আগামীতে আপনার ছেলে কিংবা কোন প্রিয়জন গুম হয়ে যাবে।

(রাষ্ট্রপতি এন রিকে পেনা, পিআরআই–এর সদস্য এবং নতুন এ্যাটর্নী জেনালের, যখন সিনেটর প্রদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এই দলের টিকেটে নির্বাচন করেছে)

পিআরআই–এর প্রার্থী এস্তেবান আলবাররান, গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইগুয়ালার নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, এই দলটি ডেমেক্রেটিক রেভ্যুলেশন পার্টির বেশ কিছু প্রার্থীর আসন ছিনিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে এই এলাকার প্রাক্তন মেয়র (এখন কারাগারে) এবং গুয়েরেরোর প্রাক্তন গর্ভণর, আয়োতজিনাপার এই বেদনাদায়ক ঘটনার যার সদস্য পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এপিজেমেনিও ইবাররা, টুইটারে যার ২২৯,০০০ জন অনুসারী রয়েছে, তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এই সব ছাত্রদের প্রতিদিন এক নাম ডাকা কার্যক্রমের নেতৃত্বে প্রদান করছেন। ইবাররা তার এই সকল টুইটে রাজনৈতিক বার্তাও যুক্ত করেন।

১ এ্যাবেল, আয়োতজিনাপার এই ঘটনায় একই সাথে ন্যায় বিচার এবং সত্যের জন্য। এবিসি-এর ন্যায় বিচারের জন্য। আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা ক্ষমা করতে পারি না। এই রকম ছিল রাষ্ট্র ।

এই ঘটনা নিয়ে গ্লোবাল ভয়েসেস-এর করা আরো সংবাদের জন্য আমাদের বিশেষ সংবাদের পাতা দেখুন

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .