বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিশরের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মোরসিকে ২০১১ সালের কারগার পালায়নের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়

A cartoon by @Khalidalbaih comparing between ancient Egypt and Egypt today, shared by  @_amroali  on Twitter

একজন রাজনৈতিক কার্টুন শিল্পী @Khalidalbaih অংকিত প্রাচীন মিশর ও বর্তমানের মিশরের মধ্যে তুলনা করা একটি কার্টুন, টুইটারে শেয়ার করেছে @_amroali

আরও অন্যান্য ১০০ জনের বেশী ব্যক্তিসহ মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মোরসিকে ২০১৫ সালের মে মাসের ১৬ তারিখে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

সাজা কার্যকর করার আগে, ক্ষমতায় থাকাকালীন বিক্ষোভকারীদেরকে গ্রেফতার ও অত্যাচার করার নির্দেশ দেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগরত মুসলমান ভ্রাত্রীসংঘের এই সদস্যের মামলাটি অনুমোদন করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ মুফতির কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২রা জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদেশী জঙ্গিদের সাথে যোগসাজোসে ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে মিশরীয় বিপ্লবের সময় ওয়াদি নাত্রুন কারাগার থেকে বন্দী পলায়নের সময় ইসলামপন্থীদেরকে মুক্ত করার অভিযোগে মোরসিকে আজকের সাজা দেয়া হয়েছে। তার ১০৫ সহ-অভিযুক্তদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন ছিল প্যালেস্টিনীয় যাদেরকে হামাসের সদস্য বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হয়েছিল। এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়া প্যালেস্টিনীয়দের মধ্যে হাসান সালামেহ্‌ ১৯৯৪ সাল থেকেই ইজরায়েলী কারাগারে বন্দি, এবং রাইদ আত্তার ইতোমধ্যেই মারা গিয়েছে।

মিশর দু'জন প্যালেস্টিনীয় হাসান সালেমেহ্‌ এবং রাইদ আত্তার কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে – যাদের একজন ১৯৯৪ সাল থেকেই ইজরায়েলী কারাগারে বন্দি, এবং অন্যজন মারা গিয়েছে

মোরসির বিরুদ্ধে যে মামলা গঠন করা হয় সে অনুসারে হামাস জঙ্গিরা মিশরে প্রবেশের জন্য গাজা থেকে সুরঙ্গ পথ ব্যবহার করে কারাগারগুলোকে দখল করে নিয়ে মুবারক কর্তৃক কারাবন্দী করা ইসলামপন্থীদের মুক্ত করে দেয়। মুক্ত করে দেয়াদের মধ্যে মোরসিসহ ৩০জন শীর্ষ মুসলমান ভ্রাত্রীসংঘের সদস্য ও সেই সাথে সাথে প্রায় ২০,০০০ পর্যন্ত কারাবন্দী ছিল।

বিপ্লবের এক বছর পর মোরসি মিশরের রাষ্ট্রপতি হয়, যে বিপ্লবের মাধ্যমে ৩০ বছরেরও বেশী সময় ধরে মিশরকে শাসন করা হোসনি মোবারককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তাকে উৎখাত করার আহ্বানে তীব্র প্রতিবাদের মুখে মোরসির রাজত্ব ২০১৩ সালের জুলাই মাসেই সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তারপর মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাধিনায়ক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ এল সিসি-এর নের্তৃত্বে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, যিনি বর্তমানে মিশরের রাষ্ট্রপতি।

ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মোরসির মুসলমান ভ্রাত্রীসংঘ আন্দোলনকে মিশরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর হাজার হাজার সমর্থনকারীদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছে ভ্রাত্রীসংঘের সর্বোচ্চ সহায়ক মোহামেদ বাদী এবং এমবি-এর নেতা মোহামেদ বেলতাগী যাদেরকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

৮৫ হাজার অনুসারী থাকা ও ঐ বিচারের শুনানীতে অংশগ্রহণ করা সাংবাদিক সারা এল সিরগানীর মতে:

প্রধান মুফতির কাছে পাঠানো মানে হলো মৃত্যুদণ্ড। তার মতামত শুধুমাত্র উপদেষ্টামূলক। জুনের ২ তারিখেই বিচারক আসল সাজা পাঠ করবেন।

তিনি আরও যুক্ত করেন:

সারসংক্ষেপ: গুপ্তচরবৃত্তির বিচারের ১৬জনকে মুফতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। বন্দী পলায়নের বিচারের মোরসি ও ১০০ জনের বেশী ব্যক্তিকে মুফতির কাছে পাঠানো হয়েছে।  

মোরসির এই সাজা অনলাইনে প্রতিক্রিয়ার ঝড় তুলেছে, যেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মঞ্চের ভাষ্যকাররা এই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

কারাবন্দি থেকে রাষ্ট্রপতি

কারাবন্দি থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়া মোরসির জীবনের ঘটনাচক্র রানা আলাম ভুলে যান নি, যিনি ভেবে পান না কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া একজনকে কিভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য সুযোগ দেয়া হলো। তিনি টুইট করেছেন:

২০১১ সালে জেল পলায়নের কারণে মিশরের আদালত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে চাচ্ছে…তবুও তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়াতে সুযোগ দেয়া হয়েছে!!

অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে মোরসিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না, যেহেতু এই ধরনের মামলাগুলোতে আপিল করা যায় এবং আদালতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

মিশরীয় আমর তার ৪.৫ হাজার অনুসারীদেরকে বলেন:

যদি #সিসি'র মাথা খারাপ হয়ে না থাকে তবে #মোরসির মৃত্যু কখনোই কার্যকর করা হবে না। কিন্তু #মিশরীয় বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার ছিটেফোঁটাও যেটুকু ছিল তার মৃত্যু হলো।

এবং ৩.৯ হাজার অনুসারী থাকা ফুসট্যাট আরও বলেছেন:

মোরসি বা মুসলমান ভ্রাত্রীসংঘের মুহামেদ বাদী'র কারোই মৃত্যুদণ্ড অবশেষে কার্যকর করা হবে না, তাদের সাজা লঘু করা হবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারকার্যকে কৃত্রিম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

রায়ের পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ টুইট করেছেন:

কোন প্রমাণের ভিত্তিতে নয় বরং পুলিশের অনুমান এবং আদালতের পক্ষপাতিত্বের কারণে মোরসি ২০ বছরের সাজা পেয়েছে: এইচআরডাব্লিউ-এর বিশ্লেষণ।

তার সহকর্মী এইচআরডাব্লিউ-এর মাধ্যম পরিচালক এন্ড্রু স্ট্রোহ্‌লাইন আরও বলেন:

উৎখাত হওয়া রাষ্ট্রপতি মোরসিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। অধিকারের প্রতি মিশরের শ্রদ্ধা যে শূন্য এটি তারই আরও প্রমাণ

এই অঞ্চলের নেটব্যবহারকারীরাও একই ধারা অনুসরণ করেছেন।

গাজা থেকে ওমার ঘ্রাইব লিখেছেন:

অনেক ব্যক্তিই আমাকে বলেছে যে তারা আর #মিশর-কে বা তাদের বিচারব্যবস্থাকে বুঝতে পারছে না। আমিও একমত।

এবং বাহরাইনীয় আদেল মারজুক তার ৩৯.১ হাজার অনুসারীদের জন্য লিখেছেন:

লজ্জার সংজ্ঞা কী? উত্তর হলো: একটু একটু করে সঞ্চারিত করা মিশরীয় বিচার ব্যবস্থা, এবং আইন, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি, যেগুলো অন্যান্য আরব দেশে (বাহরাইনসহ) চালান দেয়া হয়েছে, যে দেশগুলো মিশরীয় আইন পালন করে এবং মিশরীয় বিচারক নিয়োগ করে

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .