বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আফগানিস্তান কি লিঙ্গ সংহিসতা ও বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচিত হবার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে?

Afghanistan. 25th August 2009 -- A woman in “Borghaa”, Burqa, or Chador [Traditional hijab for women in Afghanistan] is passing through the pigeons in the main square of Mazar-e Sharif City in Afghanistan. Demotix ID: 247626.

আফগানিস্তান। ২৫শে আগষ্ট ২০০৯ — বোরঘা, বুরকা, বা চাদর [আফগানিস্তানে নারীদের জন্য ঐতিহ্যগত হিজাব] পরিহিত একজন নারী আফগানিস্তানের শহর মাজার-ই শরীফের প্রধান চত্বরে পায়রাগুলোর মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স

পিতৃতান্ত্রিক আফগানিস্তানে, নারীদের অধিকারের লড়াইয়ের সিংঘভাগই নির্ভর করে পুরুষদের উপর।

এই কারণে আফগানী শান্তি স্বেচ্ছাসেবক নামের একটি দলের আয়োজনে বুরকা পরিহিত বেশ কয়েক ডজন আফগানী পুরুষ আফগানিস্তানে নারী অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মার্চের ৫ তারিখে রাস্তায় নামার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে দেশটির মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য ও সংহিসতার বিষয়ে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের একজন ২৯ বছর বয়েসী বশীর বলেছে:

Our authorities will be celebrating International Women's Day in big hotels, but we wanted to take it to the streets. One of the best ways to understand how women feel is to walk around and wear a burqa.

বড় বড় হোটেলগুলোতে আমাদের কর্তৃপক্ষ্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করবে কিন্তু আমরা এটিকে রাজপথে নিয়ে আসতে চেয়েছি। নারীরা কিরকম অনুভব করে তা বোঝার সব থেকে ভাল একটি উপায় হচ্ছে চারিদিকে বোরকা পড়ে হাঁটাচলা করা।

১৯৯০ এর সালগুলোতে তালিবান শাসন আমলে নারীদেরকে বোরকা পড়ে বের হতে বাধ্য করা হতো। অনেকের কাছেই নিপীড়নের সমার্থক এই প্রথা তালিবান উচ্ছেদ হয়ে যাবার পরও আফগানিস্তানে এখনো দেখা যায়।

সমাবেশ শুরু হলে নারীর শরীরের আকৃতির ইস্পাত বর্ম পরিহিত অন্য আর একজন আফগানী নারী শিল্পী রাস্তায় হয়রানি প্রতিবাদে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানী চারিদিক পদভ্রমণ করেছে।

নারী অধিকার রক্ষার এই মিছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে। কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়েছে এবং অন্যান্যরা এটির নিন্দা করেছে।

এই মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী একজন এটিকে পশ্চিমাদের-সাজানো পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে অভিহিত করেছে

একজন আফগানী সাংবাদিক আহমেদ মুক্তার টুইট করেছেন:

মার্চ ৮ এর প্রাক্কালে নারী অধিকারের সমর্থনে আফগান পুরুষরা বুরকা পড়েছে। প্রশ্ন হলো তারা কেন বুরকা পড়েছে???

ভিওএ-এর একজন সাংবাদিক ঝিলা নাসারি টুইট করেছে:

#বুরকা পরিধান করতে #আফগানী নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল এবং #নারীদের উপর সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আমরা (পুরুষরা) এগুলো পড়ছি।

রাজা রুমি টুইট করেছে:

জানি না এটির বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবো। জটিল #বোরকা-পরিহিত পুরুষ নারী অধিকারের জন্য #আফগানিস্তানে মিছিল করে

কিন্তু অনেকেই এই ধারাকে উৎসাহিত করেছে:

আনন্দিত যে মানুষ সজাগ হচ্ছে | নারীদের অধিকারের দাবীতে আফগানী পুরুষরা বুরকা পড়ে মিছিল করছে

আফগানী পুরুষরা নারী অধিকারের জন্য প্রতিবাদ করছে। এটি এতো জোরালো যে পছন্দ হয়েছে।

একজন আফগান শিল্পি ফেরেস্তা কাজেমি কথাচ্ছলে বলেছে:

এই আফগানী পুরুষদের জন্য গর্বিত। আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার শুধুমাত্র ততটু্কুই যেতে পারে যতক্ষণ পুরুষরাও এর জন্য সাহায্যর হাত বাড়ায়

আফগানিস্তান দৃঢ়ভাবে রক্ষণশীল হলেও নারীর প্রতি আচরণকে ঘিরে অবস্থার ক্রমশই পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। ২০১৩ সালে আল আরাবিয়া প্রতিবেদন করেছে যে দেশের রাজধানী কাবুলে বুরকার ব্যবসার মন্দা যাচ্ছিল, ‘কারণ উত্তরোত্তর বিদ্যালয়ে গমন করা এবং অফিসে কাজ করা তরুনীদের মধ্যে বুরকা পড়ার চাহিদা ক্রমশই হ্রাস পেয়েছিল'।

যাইহোক, একই লেখাতে উল্লেখ করা হয় যে বুরকা মুলত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলগুলোতে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল, এর আংশিক কারণ হলো এটি পরিধান করার ফলে যে পরিচয়হীনতা প্রদান করে তা একজন নারীকে পুরুষ কর্তৃক আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে।

গত বছর দেশটির পাঘমান প্রদেশে একটি গণ ধর্ষণের প্রতিবাদে নজিরবিহীন গণ জমায়েত হতে দেখা গিয়েছে। যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো চিন্তিত হচ্ছিল যে গণ ধর্ষণকারীদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের অনুকূলে #Paghman এর উপর জনমত গড়ে উঠবে, তখন যে দেশে নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা প্রথাগতভাবে কখনো আলোচনা করা হয় নি সেখানে এই মামলাটিকে ঘিরে প্রতিবাদগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ধারণ করেছে।

বিশেষ করে কাবুলে অনেক বিষয়ই ধীরে ধীরে বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যেগুলো তালিবান আমলে কল্পনাই করা যেত না:

@বিবিসিওয়ার্ল্ড: এই হলো সারা, আফগানিস্তানের একজন নারী ট্যাক্সিচালক

অবশ্যই তালিবান উধাও হয়ে যায় নি, এবং তাদের অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা আফগানী সমাজকে অনেকভাবেই ভেদ করে চলেছে, কিন্তু বিগত কয়েকটি বছরে যা দেখা গেছে যে দেশটিতে বিভিন্ন প্রসঙ্গে নারী অধিকারের ব্যাপারে উঠে দাঁড়াতে প্রস্তুত নারী ও পুরুষের কমতি নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .