বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মাদক চোরাচালানের অভিযোগে বিদেশী নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায়, প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইন্দোনেশীয় সরকার

A banner Soekarno-Hatta Airport in Jakarta. Picture by Wikimedia.org

জার্কাতার সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে একটি ব্যানার দেখা যাচ্ছে। তাতে মাদক চোরাচালানের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে সতর্ক করা হয়েছে। ছবিটি উইকিমিডিয়ার সৌজন্যে পাওয়া।

আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র আপত্তি আর দেশের অভ্যন্তরের ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয় সরকার গত সপ্তাহে আট বিদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তবে রায় কার্যকর করার মধ্যে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড আইন কিংবা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। কারণ অভিযুক্তদের কয়েকজন সম্ভবত নিরাপরাধী ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন নাইজেরিয়া, দুইজন অস্ট্রেলিয়া, একজন ব্রাজিল ও একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। মানব পাচারকারীদের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন মনে করে আদালত শেষ মুহূর্তে এক ফিলিপিনো নারীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। কারণ সেই নারীর পাচারকারী চক্রের হোতা ফিলিপাইনে আত্মসমর্পন করেছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একদিন পরে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক জয়নাল আবেদিন ‌করণিক ভুলের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। ধারনা করা হচ্ছে, পালেমব্যাং জেলা আদালতে তিনি যখন ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেন, তখন সেটা ভুল জায়গায় চলে গিয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড শাস্তি কার্যকরের আগে তিনি মারিজুয়ানা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে তার ১৮ বছরের জেলও হয়েছিল।

এদিকে ব্রাজিলের নাগরিক রড্রিগো গুর্লাতের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র মাত্র কয়েক মিনিট আগে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড়িয়ে তিনি জানতে পারেন তার মৃত্যুদণ্ডের কথা। তার পরিবার মরণোত্তর ক্ষমার জন্য প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষ মাদক চোরাচালানের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। যদিও ইন্দো ব্যারোমিটার সার্ভে এজেন্সির একটি জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ইন্দোনেশিয়ান (৮৪.১%)আট বিদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারী সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

এদিকে দেশটির দু’টি ইসলামিক সংগঠন নাহলাতুল উলামা এবং মোহাম্মাদিয়া মাদক চোরাচালানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ মানুষ সুন্নি মুসলিম।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় অনেকেই ইন্দোনেশিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ। আর এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা টুইটারে নানা ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করেছেন। হ্যাশট্যাগের মধ্যে #বয়কটইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত রয়েছে।

কেউ কেউ অবশ্য সমালোচনাকারীদের বৈশ্বিক মাদক চক্র ইন্দোনেশিয়ার কী সর্বনাশ করতে তা অনুধাবন করতে অনুরোধ করেছেন।

আরকানা ব্যান্ডের গিটারিস্ট ম্যাট হার্ট কিছুদিন আগে ইন্দোনেশিয়া ঘুরে এসেছেন। তিনি সেখানে মাদকের ভয়াবহতা লক্ষ্য করেছেন:

The reason Indonesia evoke the death sentence penalty for drug smuggling is due to the sheer extent of a rapidly growing problem that is already out of hand.

Instead of neighboring countries attacking and placing judgment upon Indonesia for their stance and policies surrounding the enforcement of drugs they should be offering their council, assistance and support to tackle the real problem head on.

ইন্দোনেশিয়া মাদক চোরাচালানের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে, তার কারণ হলো দেশটিতে এই সমস্যা ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেছে। তারা এটাকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা করছে। অথচ প্রকৃত সমস্যা সমাধানে তারা কেউই সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ইন্দোনেশিয়ার জাতির জনক মোহাম্মদ হাত্তা’র নাতনি গুসতিকা জাসুফ হাত্তা মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন:

As an Indonesian, I am deeply ashamed that such a primitive and barbaric practice still exists within our law. However, I feel extremely proud of the fact that we managed to exercise our sovereign right without conforming to foreign pressure.

একজন ইন্দোনেশিয়ান হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত যে আমাদের আইনের মধ্যে এখনো আদিম ও বর্বর বিধি-বিধান রয়েছে। আবার একই সঙ্গে আমি গর্বিতও যে, বিদেশী চাপ উপেক্ষা করে আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার চর্চা করতে পেরেছি।

আন্দ্রেজ আরিয়ান্তো ইয়ানুয়ারের মতো ইন্দোনেশিয়ার অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড আইন মাদক সমস্যার কার্যকর সমাধান নয়:

Tadi ada sedikit pembicaraan dgn tmn2 soal putusan hukuman mati utk pelanggaran hukum yg berkaitan dgn pengedaran narkoba. Semoga pemikiran berikut bisa berguna buat tmn2 juga.

Memberantas pengedaran narkoba dgn memberantas nyawa pengedarnya gak akan banyak membantu dlm menyelesaikan masalahnya. Namanya jg pengedar, distributor, di rantai industri letaknya hanya di tengah2, di antara produsen dan konsumen. Distributor gak bisa hidup klo gak ada produsen dan konsumennya. Jd utk mengatasi narkoba, kita mesti ngulik dulu gmn industrinya berputar. Dan krn minat org gak pernah hilang thd zat adiktif apapun (tmsk rokok dan alkohol), maka yg lbh efektif dan efisien dilakukan adalah meregulasi, membatasi dan memonitor peredaran dan penggunaannya dlm masyarakat supaya gak memakan korban jiwa. Kalo hanya mengkriminalisasi, masalahnya ga akan selesai sampe kapan pun, gue yakin bgt krn itu yg terus terjadi sampe sekarang

মাদকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য পাচারকারীদের মেরে ফেলে মূল সমস্যার সমাধান করা যাবে না। পাচারকারী আর পরিবেশকরা হলেন এই শিল্পের মধ্যস্থতাকারী মাত্র। তারা উৎপাদনকারীর কাছ থেকে নিয়ে মাদক গ্রহণকারীর কাছে পৌঁছে দেন। উৎপাদনকারী ও গ্রহণকারী ছাড়া মধ্যস্থতাকারীর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই মাদক ব্যবহার বন্ধে আমাদের এই শিল্পের আদ্যপ্রান্ত সম্পর্কে জানতে হবে। খুব কম মানুষই আছেন, যারা নেশা থেকে বের হয়ে আসতে পারেন (এমনকি সেটা সিগারেট ও মদ হলেও)। এর মানে হলো সমাজের ভিতর থেকেই মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এজন্য তারা আরো বেশি মৃত্যু চাইতে পারেন না। শুধুমাত্র তাদের অপরাধী আখ্যা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ইন্দোনেশিয়ার কিছু আইনে প্রণেতা মাদক সংক্রান্ত অপরাধের প্রাথমিক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে বিকল্প কী শাস্তি দেয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। আর এই আলোচনার প্রেক্ষিতে হয়তো কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে অথবা সাজা কমে যেতে পারে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .