বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গণপরিবহনে উঠে এলো পেরু’র ইতিহাস

Captura de pantalla de video publicado en YouTube.

ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিও’র স্ক্রিনশট।

পেরু’র রাজধানী লিমায় পাবলিক বাসে যাত্রীদের পাশাপাশি হকারদের উঠে পড়া নিত্যদিনের ঘটনা। বাসে উঠে হকাররা বাদ্যযন্ত্র-সহ কখনো গান গেয়ে, আবার কখনো কথায় ভুলিয়ে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেন।

এইসব গাইয়ে এবং গল্পকথকের লক্ষ্য থাকে কিছু পয়সা জুটিয়ে আবার অন্য বাসে চলে যাওয়া। প্রতিদিনের ব্যস্ত চেনা জীবনে এদের কার্যক্রম মানুষদের আর তেমন কোনো মনোযোগ কাড়ে না।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল তরুণ বাসের যাত্রীদের মনোযোগ কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণদের এই গ্রুপটির নাম কালচারা পিই। গ্রুপের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এরা বাসে উঠে যাত্রীদের সাথে মজা করতে করতে পেরু’র ইতিহাস নিয়ে কথা বলে থাকেন।

এপ্রিল মাস থেকে গ্রুপের সদস্যরা রাজধানী লিমা’র প্রাণকেন্দ্রে যেসব বাস চলে, সেগুলোতে উঠে পড়েন। তারপর বাস যে রাস্তা দিয়ে যায়, সে রাস্তা যেসব ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নামে, তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন।

গ্রুপের ফেসবুক পাতায় বলা হয়েছে:

Cultura PE, busca despertar el interés de los ciudadanos por conocer la historia de nuestro país en los buses que cubren las avenidas más transitadas.

কালচারা পিই-এর লক্ষ্য হচ্ছে, লিমার বাসে বসে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে মানুষজনদেরকে আরো আগ্রহী করে তোলা, মানুষজনের মনে ইতিহাসের চেতনাকে জাগ্রত করা।

তরুণদের এই গ্রুপের নাম কালচারা পিই এসেছে কালচারা পেরু’র সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে। তাছাড়া পিই দিয়ে দেশটির ওয়েব ডোমেইন .পিই-কেও বুঝানো হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় শব্দ পুয়েস-এর রেফারেন্স হিসেবে “আচ্ছা, ঠিক আছে”-কেও বুঝানো হয়েছে।

তাই গ্রুপটি নিজেদেরকে “সংস্কৃতি, ঠিক আছে” হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে।

নিচের ভিডিও ক্লিপটি কালচারা পিই-এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেয়া। ভিডিওটি দেখে তাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়, তার ধারনা পাওয়া যাবে।

গ্রুপের সদস্যরা একটি বাসে উঠেছেন। বাসটি সালাভেরি অ্যাভিনিউয়ে যাবে। রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে পেরুর সবচে’ তরুণ রাষ্ট্রপতি ফেলিপ সান্তিযাগো সালাভেরি’র (১৮০৬-১৮৩৬) নামে। তিনি একজন সুদক্ষ সেনা অফিসার ছিলেন। ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে:

পরবর্তী ভিডিও-তে বাস যে রাস্তা দিয়ে চলছে, সেটির নাম সুক্রে অ্যাভিনিউ। এ রাস্তার নাম রাখা হয়েছে ভেনিজুয়েলিয়ার রাজনীতিবিদ, কুটনৈতিক ও সেনা কর্মকর্তা আন্তোনিয় জোসে ডি সুক্রে’র (১৭৯৫-১৮৩০) নামে। তিনি স্বাধীনতার পরপরই পেরু’র গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন:

গ্রুপের সদস্যরা ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করার পরে যাত্রীদের হাতে কিছু কাগজপত্র দেন। সেখানে তারা যেসব ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য থাকে।

এরপর তারা বাস থেকে নেমে পড়েন। সংস্কৃতিকে আরো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অন্য আরেকটি বাসে উঠে পড়েন।

তাদের উদ্যোগটি সবার কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গ্রুপের ফেসবুক পেজে সবাই ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ তাদের সাথে কাজ করার আগ্রহও ব্যক্ত করেছেন:

Angelly Arias Avendaño Que bueno que jovenes como ustedes tengan esta iniciativa!!! Felicitaciones!

অ্যানজেলি আরিয়াস অ্যাভেনদানো: তোমাদের মতো তরুণরা এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে জেনে খুব খুশি হলাম। অভিনন্দন সবাইকে।

Gerardo Josic Rodriguez Paredes Aceptan a nuevos integrantes??? quisiera de vez en cuando salir a vivir esta grandiosa experiencia !!!!!

জেরার্ড জোসিক রড্রিগেজ পেরেডেজ: তোমরা কি নতুন সদস্য নিবে? এমন মজার অভিজ্ঞতা নিতে আমি তোমাদের সাথে যোগ দিতে চাই।

Feren Castillo Lujan Excelente iniciativa, esto debe expandirse a nivel nacional en la brevedad

ফেরেন কাসটিল্লো লুজান: চমৎকার উদ্যোগ। যতো দ্রুত পারা যায়, এটিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

Perfil del grupo en Facebook.

গ্রুপের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি।

শিক্ষা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি: অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি)২০১৩ সালে যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি (পিআইএসএ) এর ফলাফল প্রকাশ করে, সেখানে ৬৫টি দেশের মধ্যে পেরু সর্বশেষ স্থান অর্জন করে।

পিআইএসএ প্রতি তিন বছরে একবার হয়। সেখানে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পারফর্মেন্সের মাত্রা বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .