বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

তদন্ত কর্মকর্তার খুনের পর তুরস্ক টুইটার, ইউটিউব এবং অজস্র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে

A police officer fires teargas in Istanbul during the Gezi Park protests, June 2013. Photo by Mstyslav Chernov via Wikimedia (CC BY-SA 3.0)

জুন ২০১৩-এ ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত গেজি পার্ক বিক্ষোভের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ছুড়ছে। ছবি মাসটইয়ালাভ চেরনভের, উইকিমিডিয়ার মাধ্যমে পাওয়া।

আজ, ৬ এপ্রিল, তুরস্কে এক পণবন্দী সঙ্কটের ছবি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে আরো একবার তুরস্কে টুইটার এবং ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয়, এই পণবন্দী সঙ্কটের সমাপ্তি ঘটে সরকারী তদন্ত কর্মকর্তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। হুররিয়াত ডেইলি নিউজের সংবাদ অনুসারে এই ঘটনার ছবি পোস্ট করার কারণে কর্তৃপক্ষ ১৬৬টি ওয়েব সাইট বন্ধ করে দেয়।

যদিও এই একই কারণে প্রথমে ফেসবুক ব্লক করে দেওয়া হয়, তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষের আদেশে ফেসবুক অভিযুক্ত ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর এই ব্লক উঠিয়ে নেওয়া হয়।

৩১ মার্চের সকালে প্রায় সারা দেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর, সরকারী তদন্ত কর্মকর্তা মেহমেট সেলিম কিরাজের মাথায় পিস্তল ধরে রাখার ছবি টুইটারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কিরাজ হচ্ছে সেই ব্যক্তি যাকে ইস্তাম্বুলের এক আদালত ভবনে বামপন্থী বিদ্রোহীরা জিম্মি করে ফেলে এবং ছয় ঘণ্টা ধরে চলা এই জিম্মি সঙ্কটের সমাপ্তি ঘটে বিশেষ পুলিশের সাথে সেদিন রাতে কিরাজ এবং তাকে জিম্মি করা দুই অস্ত্রধারী লড়াই-এ স্বয়ং কিরাজ ও উক্ত দুই বামপন্থী অস্ত্রধারীর নিহত হওয়ার মধ্যে দিয়ে।

বেরকিন এলভানের ঘটনার তদন্তে দায়িত্ব লাভের মধ্যে দিয়ে কিরাজ এক আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। কিশোর বেরকিন ২০১৩ সালের গেজি পার্ক বিক্ষোভের সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ারগ্যাসের শেল মাথায় আঘাতের কারণে মৃত্যুবরণ করে। রাষ্ট্রপতি এরদোগান (সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী) এই বালকের মৃত্যুর ঘটনায় অনুশোচনা প্রকাশ দূরে থাক তার বদলে এই ধরনের ধারণা দেওয়ার দুঃসাহস দেখান যে উক্ত বালক বিক্ষোভে অংশ নেয়নি, সম্ভবত সে এক সন্ত্রাসী সংগঠনের হয়ে কাজ করছিল।

কিরাজ ছিলেন এলভানের ঘটনা নিয়ে তদন্তে নামা চতুর্থ কর্মকর্তা, তবে কারো কারো মতে তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এই খুনের ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিরাজের মৃত্যু সত্ত্বেও, স্বয়ং রাষ্ট্রপতি এরদোগান সহ সরকারের সকল প্রতিনিধি এই উদ্ধার অভিযানের অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চ প্রশংসা করেছে এবং এই অভিযানকে সফল বলে অভিহিত করেছে

কিরাজকে জিম্মি করে ফেলার এক ঘন্টার মধ্যে তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখার দৃশ্য টুইটারের ছড়িয়ে পরে। অভিযোগ রয়েছে তাকে জিম্মি করা ব্যক্তিরা এই ছবি তুলেছে। প্রথমে এই ছবিটি যে একাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছিল, ছবি প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সে একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১ এপ্রিল, ঘটনার পরের দিন অনুষ্ঠিত উক্ত তদন্ত কর্মকর্তার জানাজায় ১৩টি প্রচার মাধ্যমকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, সংবাদে জানা গেছে এর কারণ হচ্ছে তারা এই সকল ছবি প্রকাশ করেছিল। ঘটনার দিন কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিষয়ক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের আদালতের বাইরে থেকে এই বিষয়ে সরাসরি সংবাদ প্রচার বন্ধে বাধ্য করে

এভাবে তাড়াহুড়া করে সেন্সরশিপ আরোপ করার ঘটনায় তুর্কি নাগরিকরা বিস্মিত নয়- কারণ, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। মার্চ ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় ,সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী তার পুত্র বেলালের সঙ্গে বসে কি ভাবে নগদ লক্ষ লক্ষ ডলার লুকানো যায়, তার পরিকল্পনা করছিলেন, যে আলাপের অডিও টেপ প্রকাশ হয়ে গেলে, কর্তৃপক্ষ সকল প্রধান স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম বন্ধ করে ফেলে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন আক্রান্ত হয়- ফাঁস হয়ে যাওয় এই অডিও টেপে একেপি দলের সদস্য, বন্ধু এবং প্রধান নির্বাহীর ব্যাপক দূর্নীতির বিষয়টিও উঠে আসে। গণ অসন্তোষ রোধে এবং তদন্তের দাবী যাতে উত্থাপিত না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ ইউটিউব এবং টুইটার বন্ধ করে দেওয়ার মত বিষয় বেছে নেয়।

২ এপ্রিল-এ, এই সকল বিতর্কিত ছবি প্রকাশের অভিযোগে তুরস্কের সাতটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে এক অপরাধ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আজকের দিনটিতেও তুরস্কের নাগরিকরা সংবাদ এবং তথ্য আদান প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে না।

1 টি মন্তব্য

  • AtnewsBD.com

    এর কিছুক্ষণ পরই আবারো খুলে দেয়া হয় সব। এভাবে চলতে থাকলে টেকনোলজি সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়বে।

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .