বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চার বছর কারাভোগের পর ভিয়েতনামের ফটোসাংবাদিকের অনশন-ধর্মঘট

তরুণ ফটোসাংবাদিক মিনহ মান ডাং গুয়েন ভিয়েতনামে কারা ভোগ করছেন। এ সময় তাঁর সাথে যেসব অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সম্প্রতি তিনি কয়েক মাস দীর্ঘ একটি অনশন-ধর্মঘট পালন করছেন। বার বার অনশন-ধর্মঘট পালনের প্রেক্ষিতে তাঁর ওজন বর্তমানে মাত্র ৩৫ কেজিতে নেমে এসেছে।   

Man Minh. Photo used with permission.

মিনহ মান। ছবিটি অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে।

হো চি মিন শহরে একটি চীন বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সক্রিয় কর্মী দেয়ালচিত্রের ছবি তোলার অভিযোগে গত চার বছর আগে মিনহ মানকে গ্রেপ্তার করা হয়। “সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত” থাকার অপরাধে আরও ১৩ জন ব্লগার এবং সক্রিয় কর্মী সহ তাকে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে অপরাধী বলে রায় দেয়া হয়। এটিকে গত কয়েক বছরে সংঘটিত দেশটির সবচেয়ে বড় নাশকতামূলক তৎপরতা হিসেবে বর্ননা করা হয়েছে। তাকে আট বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য গৃহবন্দী থাকার শাস্তি দিয়ে রায় দেয়া হয়েছে। তাঁর মুক্তির জন্য বার বার দাবি জানানো সত্ত্বেও মিনহ মান এখনও কারাবন্দী রয়েছেন।  

দীর্ঘ কারাদন্ড এবং পরবর্তীকালের গৃহবন্দী থাকার শাস্তি প্রদানের সাথে সাথে মিনহ মানকে অন্য ধরনের শাস্তিও ভোগ করতে হয়েছে। আর তা হচ্ছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি নানা রকম পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন।

মিনহ মানকে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে কারাগারের একটি বিচ্ছিন্ন এলাকাতে আলাদা করে বন্দী রাখা হয়েছে, যেখানে কঠোর নিরাপত্তার মাঝে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তাকে কেন এ জায়গাটিতে রাখা হয়েছে তা অস্পষ্ট। কারাগারটির “শাস্তিমূলক এলাকা” অর্থাৎ যেখানে তাকে রাখা হয়েছে জনশ্রুতি অনুযায়ী মুক্ত চিন্তার কারণে যারা কারাবন্দী তাদের শাস্তি প্রদানের একক উদ্দেশ্য নিয়ে সেটি নির্মিত হয়েছে।

অন্যান্য কারাবন্দীরা বিভিন্ন খেলাধুলা এবং শরীরচর্চামূলক কাজে অংশ নিতে পারলেও মিনহ মানের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অরাজনৈতিক কারাবন্দীদের সাথে মেলামেশার কোন সুযোগ তাঁর নেই। রাজনৈতিক কারাবন্দীরাও নিয়মিতভাবে মৌখিকভাবে আক্রান্ত হন এবং তাদের নানাভাবে জ্বালাতন করা হয়। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলতে মাঝে মধ্যে মিনহ মানের সাথে সাক্ষাতের অধিকারও সীমিত করে দেয়া হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, সম্প্রতি তাঁর মা একবার তাঁর সাথে দেখা করতে যান। কিন্তু তাকে মায়ের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। উল্লেখ্য তাঁর মাও এক সময় মুক্তচিন্তার কারণে কারাবন্দী ছিলেন। নির্জন কারাবাসরত অবস্থায় তাদের মানসিক চাপ আরও বেশি বাড়িয়ে দিতে এবং ভয় ও নির্যাতনের মাধ্যমে এক ধরনের মানসিক বৈকল্যের সৃষ্টি করতে এধরনের কাজগুলো করা হচ্ছে।

মিনহ মানের প্রতি এই অন্যায় আচরণ আরও বড় কোন গতিধারার একটি অংশ। ভিয়েতনামে মুক্ত চিন্তার কারাবন্দীদের বিষয়ে ২০১৩ সালে করা একটি প্রতিবেদনে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে, রাজনৈতিক বন্দীদের নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই আচরণ রীতিমত নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদা হানিকর আচরণের সমার্থক। এমনকি অন্যান্য কারাবন্দীরাও তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করা সত্ত্বেও কারারক্ষী বাহিনীও এক্ষেত্রে বাধা দেয়নি। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্জন কারাবাসরত অবস্থায় অথবা শাস্তি হিসেবে দীর্ঘ সময়ের জন্য যখন তাদের আলাদা রাখা হয়েছে, তখন তাদের সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে। অতীতে মুক্তচিন্তার কারণে কারাবন্দী থাকা কয়েকজন এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাদেরকে নির্জন কারাবাস অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং মৌখিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। কখনও কখনও বই পড়তে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার এবং খাবার পানি দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। যার ফলে তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ভাষ্যমতে, অত্যাচার, দীর্ঘকালীন নির্জন কারাবাসে রাখা, বিশেষ করে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে যেখানে পৃথকভাবে বন্দী রাখা হয়, সেখানে নির্যাতন অথবা অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অপমাননাকর আচরণ করা হয়ে থাকে।

vietnam minh man photo

মিনহ মানের ছবি। অনুমতিক্রমে পুনরায় প্রকাশিত।

মিনহ মানের সাথে অনশন-ধর্মঘটে তা ফং তান অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের মুক্ত কর ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনিও মিনহ মানের মতো একই কারাগারে দশ বছরের শাস্তি ভোগ করছেন। তা ফং তানের মা তাঁর মেয়ের শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সরকারের কার্যালয়ের সামনে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর আগুনে পুরে যাওয়া ক্ষতের কারণে ২০১২ সালের জুলাই মাসে মারা যান।  

কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য মিনাহ মানের সাহসী সংগ্রামকে সমর্থন জানানোর আশা নিয়ে জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্বিচারে আটকের বিষয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি আবেদন দাখিল করেছে। মিনহ মানের অবস্থার অবনতি নিয়ে প্রচার মাধ্যমের আইনগত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ সেই আবেদনটিকে আপডেট করেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .