বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পানজাগার-এর ‘ফুলের ভাষায় কথা বল’ ফেসবুক স্টিকার কি মায়নামারের ‘বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা’ ছড়ানো বন্ধ করতে পারবে?

Image from Panzagar Facebook page

ছবি পানজাগার-এর ফেসবুক পাতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

এখন অনলাইনে ফেসবুক তার এক পাতায় এক গুচ্ছ স্টিকার প্রদর্শন করেছে যা মায়ানামারে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ছড়ানোর এক পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এগুলো তৈরী করা হয়েছে যেগুলোকে ডাউনলোড করা বা নামানো যাবে।

দেশটিতে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে “স্পিক পানজাগার” বা “ফুলের ভাষায় কথা বল” নামক স্টিকার একই নামের এক বার্মিজ সংগঠন এগুলো তৈরী করেছে

এই বিরক্তিকর ধারা প্রথম চোখে পড়ে ২০১২ সালে, যখন ফেসবুক পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যে ছেয়ে যায়, মূলত দেশটির বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের অনলাইন ব্যবহারকারীদের মাঝে এ সকল মূলত ঘৃণাসূচক ভাবের বিনিয়ম ঘটে। অনেকে বিশ্বাস করে যে এই দুটি সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রতিক সময়ে যে সব দাঙ্গা সংঘঠিত হয়েছে, ফেসবুক থেকে ছড়িয়ে পড়া বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য তাতে ইন্ধন যুগিয়েছে

মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী, কিন্তু দেশটিতে ১০০-এর বেশী ভিন্ন ভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বাস। এদিকে বিগত তিন বছর ধরে, কয়েকটি উগ্রবাদী বৌদ্ধ সংগঠন অভিযোগ করে আসছে যে, মুসলমানরা দেশটির ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে

এই উত্তেজনা দাঙ্গায় রূপ নেয় এবং এর ফলে অনেকে সাধারণ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে, যাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছে। রোহিঙ্গারা মুসলমান, এবং এই জাতিগোষ্ঠীকে মায়ানমার সরকার স্বীকৃতি প্রদান করে না।

Myanmar Panzagar Stickers

পানজাগার-এর কয়েকটি স্টিকারে লেখা আছে “ কোন কিছু শেয়ার করার আগে চিন্তা করুন; (দ্বিতীয় সারিতে, বাম থেকে প্রথমে); “ দয়া করে ঘৃণা ছড়াবেন না, ঠিক আছে” (তৃতীয় সারি, বাম থেকে প্রথমে); বন্ধু, শান্ত হোন/ বিষয়টিকে সহজ ভাবে গ্রহণ করুন” ( দ্বিতীয় সারি, বাম থেকে দ্বিতীয়), “(আমি) এটা বিশ্বাস করি না”। (চতুর্থ সারি, বাম থেকে তৃতীয়)।

আং কিয়াক খিয়াং একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী, যে এই পানজাগার স্টিকারের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছে:

আজ আমি দারুণ খুশী কারণ ফেসবুকে ফুলের ভাষা নামক স্টিকার ছড়িয়ে পড়েছে। যখন আমি শুনেছি যে ফুলের ভাষা যুক্ত স্টিকার ফেসবুকে পাওয়া যাবে, তখন থেকে আমি দারুণ উত্তেজিত, আর এখন আমি খুব খুশি যে আসলে সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে। আমি একই সাথে ফেসবুকে বার্মিজ ভাষায় লেখা স্টিকার ব্যবহার করতে পেরে দারুণ গর্বিত।

‘পানজাগারকে সমর্থন করুনঃ ফুলের ভাষা দিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়ানো বন্ধ করুন’পানজাগার, উভয়কে ধন্যবাদ।

ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরার উদ্দেশ্য ২০১৪ সালের শুরুতে পানজাগার নামক আন্দোলনের যাত্রা শুরু। এই অন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী মায়ানমারের কয়েকটি প্রধান শহরে ছোট ছোট প্রচারপত্র বিতরণ করে এই জনতাকে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয় যে “সেন্সরশিপ-এর মত কুখ্যাত”-বিষয় ছাড়াও স্বাধীন ভাবে কথা বলার ক্ষেত্রে অন্য সব হুমকি হচ্ছে “ দায়িত্বহীনতা এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য” ।

প্রখ্যাত ব্লগার নায়ে ফোনে লাট্ট পানজাগার-এর প্রতিষ্ঠাতা, যাকে ২০০৭ সালে গণতন্ত্র-পন্থী বিক্ষোভ আন্দোলনের কার্যক্রম সম্বন্ধে তথ্য প্রদান করে পোস্ট করার দায়ে প্রাক্তন সামরিক শাসকেরা গ্রেফতার করেছিল, উল্লেখ্য তার ব্লগে এই বিক্ষোভকে জাফরান বিপ্লবকে বলে অভিহিত করা হয়। ২০১২ সালে তার কারামুক্তি ঘটে।

কেনেথ ওয়ং এসএফ তার ব্লগে লিখেছে যে নাগরিকদের তাদের বক্তব্যের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, বিশেষ করে অনলাইন জগতে, কারণ তা এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে:

আমি দেখছি যে পানজাগার এক আন্দোলন হিসেবে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সেরাটা বয়ে এনেছে। এটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ধর্মীয় উপাসনা রীতি, ভিন্ন ভিন্ন গায়ের রঙ, এবং ভিন্ন জীবনযাত্রা সত্ত্বেও এটি আমাদের ভেতরে এবং আমাদের মাঝে যে এক সাধারণ মানবিক অনুভূতি রয়েছে তা অনুসন্ধান করা দরকার। আমরা যা লিখি এবং আমরা যা বলি, এ সবের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমাদেরকে দায়িত্বশীল হতে বলে। ডিজিটাল এই যুগে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে যে কেউ সূক্ষ্ম পিক্সেল দিয়ে রক্ত আঁকতে সক্ষম, কিন্তু খুব কম সংখ্যক ব্যক্তিকে তাদের শিকার নাগরিকের, অথবা তারা যে সব ক্ষত সৃষ্টি করে তার মুখোমুখি হতে হয়।

আশা করা হচ্ছে যে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রাথমিক ভাবে এর সম্বন্ধে যে ইতিবাচক ফিডব্যাক প্রদান করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যদি এটি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য একেবারে বন্ধ নাও করতে পারে, তারপরেও ‘ফুলের ভাষা” স্টিকার, এর পরিমাণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরো উৎসাহ ও সমর্থন তৈরী করতে থাকবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .