বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিঙ্গাপুরে রাত সাড়ে দশটার পর উন্মুক্ত স্থানে মদ বিক্রি বন্ধ

Cartoon by Andimoo Studios, used with permission

এন্ডিমো স্টুডিওর কার্টুন, অনুমতিক্রমে প্রকাশিত।

সিঙ্গাপুর এমন এক আইন পাশ করেছে যে আইনের অধীনে রাত ১০.৩০ মিনিটের পর থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত, এমনকি উন্মুক্ত স্থানে মদ খাওয়া থেকে শুরু করে, মদ কেনা ও বেচা দুটোই নিষিদ্ধ।

এই মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ (সরবরাহ এবং ভোক্তা) আইন, যা ৩০ জানুয়ারি ২০১৫-তারিখে সংসদে অনুমোদিত হয়েছে, এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে তা কার্যকর হবে, প্রথমবার এই আইন ভঙ্গকারীকে ১০০০ সিঙ্গাপুরি (৮০০) মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি আবার যদি এই আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ২০০০ সিঙ্গাপুরি ডলার (১৬০০ মার্কিন ডালের) নীচে যে কোন পরিমাণ অর্থ জরিমানা তার বেলায় প্রযোজ্য হবে ।

সরকার বলছে, মাতালদের আচরণ নিয়ে আসা অসংখ্য অভিযোগের পর এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ ছিল অপরিহার্য । কিন্তু সাংবাদিক বেরথা রাহিয়ান সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিছেন যে এই সমস্যা মোকাবেলায় আগে থেকে একটা আইন রয়েছে (বিবিধ আচরণ বিধি) যা এই সমস্যা মোকাবেলা প্রয়োগ করা হয়। ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করছে:”যখন মাতালদের মোকাবেলা করার জন্য ইতোমধ্যে এক বিশেষ আইন চালু রয়েছে তাহলে নতুন আইনের প্রয়োজন কি”?

দি অনলাইন সিটিজেন নামক স্বাধীন এক সংবাদপত্রের লেখক আরিফিন শা লিখেছেন যে “এই আইন সরকারের এমন এক প্রদর্শন, যার মধ্যে দিয়ে নাগরিকদের প্রতি তার বিশেষ পিতৃসুলভ শাসনকর্তার মত আচরণ প্রকাশ পায়”। তিনি সাথে যোগ করেছেন :

যদি তা বিশ্বের সেরা না হয়, তারপরেও আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা পর্যায়ের শিক্ষা পদ্ধতি রয়েছে এবং জন প্রতি বিশ্বে সবচেয়ে বেশী লাখপতির বাস এই দেশে, কিন্তু তারপরেও আমাদের সরকারকে এক শিশু প্রতিপালনকারীর মত এক ভূমিকা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

চান জোন ইয়ি এই কারণে উদ্বিগ্ন যে নতুন এই আইনের দ্বারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আক্রান্ত হবে:

আমি মদ বিক্রি করি না, কিন্তু এই ছবিটি কল্পনা করা কঠিন নয়, কি ভাবে এই আইন গরীব এবং স্বল্প আয়ের দোকানদারদের আক্রান্ত করবে। তাদের শুকনা দ্রব্য এবং সবজি বিক্রি করতে হবে? আসলে কি এই সকল আইন প্রণেতারা গুরুত্বের সাথে বিষয়টিকে গ্রহণ করেছে? তাহলে দোকানদাররা ভাড়া হিসেবে মাসে কত টাকা প্রদান করে? এ রকম কোন স্থানে কেবল সবজি এবং শুকনা পণ্য বিক্রি করে দোকানদাররা কি টিকে থাকতে পারবে?

যারা পার্কে অথবা উন্মুক্ত স্থানে বনভোজন অথবা পার্টি করতে ইচ্ছুক, তাদের এই ধরনের অনুষ্ঠান মদ সরবরাহ করতে চাইলে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাভিন খোহও, যিনি সিঙ্গাপুরের সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট কোকোনাটের জন্য লিখে থাকেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে এতে অনেকে ঝামেলায় পড়বে:

কল্পনা করুন, এক রোমান্টিক রাতে আপনি আপনার প্রেয়সীর সাথে বাইরে গেছেন, কোন এক এক কৃত্রিম ঝর্ণার সামনে বসে আছেন, সম্ভবত নববর্ষের রাতের আতশবাজি প্রদর্শন দেখছেন-তাহলে এটাই হচ্ছে এই প্রশ্ন মাথায় আসার উপযুক্ত সময়। কোন ভাবে যেন বুদ্বুদে ভরা দ্রাক্ষা রসের বোতল যেন এই মুহূর্ত থেকে বাদ না পড়ে।

এই আইনের সমালোচনার জবাবে সরকার বলছে, তারা নিজস্ব এক জরিপের ভিত্তিতে দেখেছে যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে থেকে চারজনই (শতকরা ৮১ শতাংশ নাগরিক) এই মদ জাতীয় পানীয় নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রতি সমর্থন প্রদান করেছে। এন্ড্রু ক্যাং হচ্ছেন এমন এক সিঙ্গাপুরি নাগরিক যিনি এই আইনের পক্ষে:

আমি এই আইনের বেশ সুবিধা দেখতে পাচ্ছি, এমন কি যদিও এই কারণে এই আইনকে অপছন্দ করি যে মদ খাওয়ার অপরাধে আমাকে বেশী টাকা জরিমানা প্রদান করতে হবে অথবা মদ খাওয়ার জন্য কোন বিকল্প স্থান খুঁজে নিতে হবে… কিন্তু এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অসামাজিক আচরণের পরিমাণ কমিয়ে আনা।

অনেকে বিশ্বাস করে যে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সংঘঠিত “লিটিল ইন্ডিয়া” নামক দাঙ্গার প্রেক্ষিতে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যে ঘটনায় বিদেশী বাসিন্দারা পুলিশের সাথে এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। সরকার বলছে যে এই দাঙ্গার পেছনে অন্যতম এক কারণ ছিল মদ্যপান।

কিন্তু সরকার নিজেই জানাচ্ছে যে এই দাঙ্গা ছিল এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং একে বিদেশী নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য আরোপে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকারের নিজের এই আরোপিত শর্তের প্রতি নিজের মনোযোগ প্রদান করা উচিত, বিশেষ করে যখন মদ নিয়ন্ত্রণ আইন বৈষম্য আরোপ করতে যাচ্ছে কারণ বিদেশী শ্রমিকদের বাসস্থানকে এতে উন্মুক্ত স্থান বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে সকল সিঙ্গাপুরি নাগরিক নিজেদের ঘরে বসে মদ পান করতে পারে, অন্যদিকে ডরমেটরিতে বাস করা বিদেশী নাগরিকদের জন্য সেখানে মদ্যপান নিষিদ্ধ, এমনকি যখন তারা কাজের মাঝে থাকবে না, তখনও তা নিষেধ।

সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হচ্ছে, এই আইন ভঙ্গ করছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তির যে কোন গৃহস্থালি কিংবা অথবা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় তল্লাশী চালানোর ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করে। এটা কোন বিস্ময়কর বিষয় নয় যে কিছু কিছু সিঙ্গাপুরি নাগরিক এই আইনটির সমালোচনা করছে এই বলে যে এর মাধ্যমে কম বেতনের বিদেশী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য আরোপ করা হয়েছে।
তবে পুলিশের হাতে ধরা না খেয়ে সিঙ্গাপুরে প্রকাশ্যে মদ খাওয়ার উপায়ও আছে। আলভিনোলজি এই বিষয়ে হাস্যরসাত্মক উপদেশ প্রদান করছে:

দরজায় ঠিক এক পা বাইরে রেখে মদ পান করুন।

আপনার দরজা মাঝের অংশ আপনার, তাই নয় কি? যদি পুলিশ আপনার ঘরে এসে হাজির হয়, তাহলে এক পা পিছিয়ে যান। যখন তারা চলে যাবে তখন এক পা বাইরে রাখুন এবং আবার আপনি অবৈধ ভাবে উন্মুক্ত স্থান মদ্যপান করে আপনার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিলেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .