- Global Voices বাংলা ভার্সন - https://bn.globalvoices.org -

যে ভাবে অস্ট্রেলিয়া এশীয় ফুটবলে ইতিহাস রচনা করল

বিষয়বস্তু: ওশেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, খেলাধুলা, তাজা খবর, নাগরিক মাধ্যম
South Korea supporters taking a selfie before the match finals against Australia. Manuel Ribeiro

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা শুরুর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকজন সমর্থক সেলফি তুলছে। ছবি এই প্রবন্ধের লেখক ম্যানুয়েল রিবেইরোর।

সিডনিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন প্রতিযোগিতার ফাইনালে রেড ডেভিল নামে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সকারু নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দল “এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন” হয়েছে।

এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন!

ক্রিকেটের মাটিতে ফুটবলের যে উত্তেজনাকর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হল সে বিষয়ে সকল ধরনের সমর্থকদের মন্তব্যে টুইটার ভরে গেছে। খেলার শুরু ও শেষে সেলফি তোলার ধুম পড়ে যায়।

এমনকি খেলোয়াড়রাও এই বিশেষ মূহুর্তকে সেলফির মাধ্যমে ধরে রাখে। : 

মাসিমো লুয়োঙ্গোর প্রাপ্তি এশিয়া কাপ ২০১৫-এর চ্যাম্পিয়ন সেলফি!!

সিডনি অলিম্পিক পার্কে অবস্থতি স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ার বিক্রি হওয়া সকল আসনে ৭৬,০০০-এর বেশী সমর্থক খেলা দেখতে ঢোকে। যানজট কমাতে আয়োজকরা সকলের প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা খেলা দেখতে আসার সময় গণপরিবহন, বিশেষ করে ট্রেন ব্যবহার করে:

The #ACFinal [5] is a SELL OUT today! Make sure you take advantage of the free transport & get down early! #AC2015 [6] pic.twitter.com/oWlCAAtr0e [15] — AFC Asian Cup (@afcasiancup) January 31, 2015 [16]

আজকের ফাইনালের সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। বিনে পয়সায় ভ্রমণের সুবিধা নিশ্চিত করুন এবং দ্রুত এর সুবিধা নিন।

যে ভাবে দুটি দল ফাইনালে উঠেছিল

টিম কাহিলের [17] অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দল সেমিফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে পরাজিত করে [18] এ বছরের ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। দক্ষিণ কোরিয়া যার অধিনায়ক দলটি তারকা খেলোয়াড় সন হিউং মিন [19], তারা সিডনিতে অনুষ্ঠিত খেলায় প্রবল প্রতিপক্ষ ইরাককে ২-০ গোলে পরাজিত করে [20] ফাইনালে পৌঁছে। এর আগে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের [21] এক নাটকীয় খেলায় ইরানকে পরাজিত করে ইরাক সেমিফাইনালে উঠেছিল। দক্ষিণ কোরিয়া নজর ছিল তৃতীয় বারের মত এএফসি এশিয়ান কাপ শিরোপা জয়। তবে ফাইনালে মাসিমো লুয়োঙ্গোর [22] গোলে অস্ট্রেলিয়া খেলায় এগিয়ে যায়:

মাসিমো লুয়োঙ্গোর গোল

এখন মাসিমো লুয়োঙ্গোকে সকারুদের নতুন তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে:

Wow. Great contest. One moment of genius from the new prince of Australian football — Craig Foster (@Craig_Foster) January 31, 2015 [25]

ওয়াও। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলের নতুন রাজকুমারের এক দারুণ প্রতিভাময়ী মুহূর্ত।

রেড ডেভিল নামে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৬০ সালের শিরোপা জয়ের পর এই নিয়ে চারবার এশিয়া কাপের ফাইনালে পরাজিত হল (১৯৭২ সালে ইরানের কাছে, ১৯৮০ সালে কুয়েতের কাছে এবং ১৯৮৮ সালে সৌদি আরবের কাছে), আর এবার তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছে, যারা ২০০৬ সালে এশিয়ার ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর [26] এই প্রথম এশিয়া কাপের শিরোপা জিতল। ২০১১ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া পরাজিত হয়। সেবার তারা অতিরিক্ত সময়ে জাপানের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়।

সমর্থকদের এটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের এই অংশের ফুটবলের নেতৃত্ব প্রদান করছে:

Who would have guessed Australia would be reigning AFC Champions League & Asian Cup (?) holders twelve months ago? #ACFinal [5] #AC2015 [6] #KORvAUS [27] — Javier Queiroz (@StuffedShoulder) January 31, 2015 [28]

১২ মাস আগে কে বিশ্বাস করতে পেরেছিল যে অস্ট্রেলিয়া এএফসি চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং এশিয়া কাপ (?) জয় করতে পারবে।

নব্বই মিনিটের খেলা শেষে সকলে প্রায় নিশ্চিত ছিল যে জয় অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে, এই সময় তাদের তারকা খেলোয়াড় সন মিঙ্গ গোল প্রদান করে খেলায় ১-১ গোলের সমতা আনে, এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের মাঝে হতাশা নেমে আসে এবং খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়:

অতিরিক্ত সময়ে জেমস ট্রোয়িসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেয়, ডান কোন থেকে জুরিচ-এর অসাধারণ খেলা থেকে বল পেয়ে সে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দ্বিতীয় গোল করে:

হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ! খেলার ফল ১-২, ট্রোয়সি গোল দিয়েছে! সকারুরা এগিয়ে যাও!

যাদের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই খেলা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। টুইটারে সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে বলে :

If Korea equalise again i'll cry… I'm not even Australian #GoSocceroos [1] #AC2015 [6] #ACFinal [5] — Cara Conboy (@carabonara11) January 31, 2015 [37]

যদি কোরিয়া আবার খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে, তাহলে আমি কেঁদে ফেলব… যদিও আমি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক নই।

এই অসাধারণ জয়ের পর অনেকের বিশ্বাস যে অস্ট্রেলিয়ায় ফুটবল আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কিশোরদের মাঝে। পুরস্কার বিতরণীর কিছুক্ষণ পরে টুইটারেও খেলার উল্লেখযোগ্য অংশ দেখতে পাওয়া গেছে:

খেলার উল্লেখযোগ্য অংশ! কোরিয়া প্রজাতন্ত্র ১-২ অস্ট্রেলিয়া।