বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লড়াকু দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আস্ট্রেলিয়ার ২০১৫ এশিয়া কাপ জয়

Asian Cup kick-off

এশিয়া কাপের পর্দা উন্মোচন-টিভির স্ক্রিনশট


৩১ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে সকারু নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দল এশিয়া কাপ ২০১৫–এর শিরোপা ঘরে তোলে। টুর্নামেন্টের আয়োজক দল সিডনিতে অনুষ্ঠিত এই খেলায় অতিরিক্ত সময়ে দেয়া গোলে ২-১-এ জয়লাভ করে।

মেলবোর্নে বাস করা গ্লোবাল ভয়েসেস-এর ব্লগার এই লেখক টিভিতে সরাসরি খেলা দেখেছেন এবং এসিফাইনাল নামক টুইটার হ্যাশট্যাগ অনুসরণ করেছেন, এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার টুইটার জগতে মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। .

এই ছবিতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে সিডনি অলিপিক পার্কে অবস্থিত স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ার সকল টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে :

কি দারুণ এক বিষয়!

অস্ট্রেলিয়ার অনেক ভক্ত অনুভব করছিল এখন দলটির তারকা খেলোয়াড় টিম কাহিল তাদের ভরসা:

এই ধরনের এক মূহূর্তের জন্য যেন টিম কাহিলের জন্ম। সে তার কাজ করে দেখাবে।

ফাইনালে রেফারির মান বারবার মীম (ইন্টারনেট বিদ্রুপের)-এর বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। একচক্ষু সমর্থকরা (অন্ধ ভক্ত) যা বিশ্বাস করছিল, তাদের চোখ যেন সেটাই দেখাচ্ছিল:

২০১৪ সালের অলিম্পিকে যতগুলো ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এশিয়া কাপের ফাইনালের প্রথম ১০ মিনিটে তার চেয়ে বেশী মাটিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটল।

রেফারির এই পর্যায়ের খেলা পরিচালনা করা থেকে ছুটি গ্রহণ করা উচিত, তার উচিত হবে সার্বিয়ার চতুর্থ বিভাগের লীগে এক থেকে দুই মাস খেলা পরিচালনা করা।

তবে খেলার শুরুতে সকারু দলের অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়দের সমালোচনার মুখে পড়ে :

জেডিনাকের উচিত তার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

অস্ট্রেলিয়া দলটি অনেক ভুল পাস দিচ্ছে, তাদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলা উচিত।

৪৪ মিনিটে লুয়াঙ্গো গোল দেওয়ার পর থেকে তারা মাথা ঠাণ্ডা করে খেলতে শুরু করে:

মাসিমোওওওওওওওও
লুয়াঙ্গোওওওওওওও
গোওওওওওওওল

বিরতীর সময় কিছু সমর্থক অন্য কয়েকটি বড় অনুষ্ঠানের দিকে মনোযোগ প্রদান করে, মূলত যার মধ্যে রয়েছে কুইন্সল্যান্ডের প্রাদেশিক নির্বাচন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টেনিসের মহিলাদের ফাইনাল:

সরাসরি টিভি অনুষ্ঠান দেখার জন্য এক অসাধারণ রাত। আমি খুশী এই কারণে যে আজ টিভির রিমোটের আমি অধিকারী।

[এই প্রবন্ধের লেখকও তাদের সাথে পুরোপুরি যোগ দিতে পোল ব্লাজার-(ভোট চোর) নামে পরিচিত ব্লগের লাইভ ব্লগে যুক্ত হয়]

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু নাগরিক ইংরেজি টুইটে তাদের হতাশা তুলে ধরে:

অস্ট্রেলিয়া, কেন এত নোংরা খেলা খেলছ? এটা খুব লজ্জাজনক। যদি অস্ট্রেলিয়া উত্তম ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলত, তাহলে এই ফাইনাল খেলা কত না উপভোগ্য হত।

আরেকটি মীম-এ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন-এর এই ছবি তুলে ধরা হয়:

কিম জং উন এটিকে সাম্যবাদের এক জয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

যখন কোচ আনজে পোস্টেকোগলু আহত টিম কাহিলকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন, তখন সমর্থকরা এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে:

কাহিলকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, দারুণ। ঠিক আছে… আনজে আপনি হচ্ছেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী

তবে সকলে এত শান্ত হয়ে ছিল না:

আমার বাবা টিভির উপর তার সকল রাগ ঝাড়ছে।

নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় এই আশঙ্কার জন্ম হয়:

অবিশ্বাস্য! ৯১ মিনিটে সন হেউং-মিন সমতা সূচক গোল করল!

এতক্ষণ ধরে চেপে রাখা উত্তেজনা এখন টিভির স্ক্রিনের উপর গিয়ে পড়ছে।

জেমস ট্রোসির ১০৫ মিনিটে করা গোল শেষ পর্যন্ত খেলার ফলাফল নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হয় :

তাহলে অস্ট্রেলিয়া এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন, সকারুরা দারুণ খেলেছে। আজকে কি আমাদের এই জাতি গর্ব অনুভব করবে! তোমাদের সকলের জন্য আমরা গর্বিত।

প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেল মাসিমো লুয়োঙ্গো:

এশিয়া কাপ ২০১৫-এ, মাসিমো লুয়েঙ্গোর প্রাপ্তি এক চ্যাম্পিয়ান সেলফি।

বিতর্ক ছাড়া ফুটবল নামক খেলার কোন অস্তিত্ব নেই। ফাইনালের দুইদিন আগে এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা এশিয়ার ফুটবল থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। স্পোর্টসফ্যান তার কথাকে এই বলে উদ্ধৃতি করে যে “এশিয়ার ফুটবল সংস্থায় অস্ট্রেলিয়ার সদস্যপদ গ্রহণযোগ্য নয়”, এটা কেবল আরবদের একার ভাবনা নয়। দৃশ্যত যার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য।

ধারণা করা গিয়েছে যে টুইটারে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জবাব কি হবে। খেলা শুরুর পূর্বে ইয়ান ওয়াটস স্থানীয়দের অনুভূতি তুলে ধরে:

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো চায় যে অস্ট্রেলিয়া এশীয় ফুটবল ফেডারেশ থেকে বের হয়ে যাক। শুনে আমার মনে হচ্ছে, আঙুর ফল টক এ রকম কিছু ব্যাপার ঘটছে।

অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ের পর, স্টিফেন ফেঞ্চ এই জয়ের গুরুত্বকে এভাবে তুলে ধরে:

নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়া এখন এশিয়ার এক অংশ!! এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ান!!!!

এশিয়ার ফুটবল সংস্থা থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দেওয়ার নীরস আহ্বানের বিপরীতে তার সাফল্য ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .