বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী তার ভাষণে জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে আক্রমণ করেছে

মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী ৯৬৯ আন্দোলনের নেতা মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে আগত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি সম্বন্ধে তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছে। এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর যে ভিডিওতে জাতি সংঘের বিশেষ দূতকে অপমান করার দৃশ্য ধরা পড়েছে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মায়নামারে তা ব্যাপক আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়।

ডেমোক্রেটিক ভয়েস অফ বার্মিজ উক্ত ভাষণের ভিডিওটি প্রদর্শন করেছে
[সতর্কতা; এই ভিডিওতে অশ্লীল ভাষা গালিগালাজ করা হয়েছে]

৯৬৯ আন্দোলন হচ্ছে মিয়ানমারের বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ আন্দোলন যা বিগত দুই বছরে নাগরিকদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব যার নাম উইরাথু, টাইম ম্যাগাজিন যাকে “বৌদ্ধ ধর্মের মাঝে এক সন্ত্রাসী চেহারা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অন্দোলন এক “বিতর্কিত আইন” পাশ করার চেষ্টা করে যা দেশটিতে আন্ত ধর্মের বিয়ের ক্ষেত্রে ভয়াবহ রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে।

মায়নামারের জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূতের দ্বিতীয় দফা আগমনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভের সময় সে এই ভাষণ প্রদান করে। প্রথম বার আগমনের সময় জাতিসংঘের বিশেষ দূত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হিসেবে বাস করা রোহিঙ্গা নাগরিকদের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতি প্রদান করে। রোহিঙ্গা নাগরিকরা মুসলমান ধর্মের অনুসারী যারা মিয়ানমার এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্য অনেকে দেশে বাস করে। মিয়ানমার সরকার তাদের অবৈধ অধিবাসী মনে করে/ স্বীকৃতি প্রদান করে এবং এমনকি তাদের ক্ষুদ্র এক জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করে না।

বার্মার কিছু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বিশ্বাস করে যে রোহিঙ্গা এবং অন্য মুসলমান নাগরিকরা মিয়ানমারকে করায়ত্ত করার ষড়যন্ত্র করছে, যা দেশটি প্রধানত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ এক রাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমান এবং বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘঠিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বিশেষত রাখাইন প্রদেশ সহ মিয়ানমারের হাজার হাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করেছে।

রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ে হাটুট মনে করেন যে এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর উচিত শান্তির প্রতি মনোযোগী হওয়া। তিনি বলেন:

ব্যক্তিগত ভাবে, আমি বিশ্বাস করি যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং অন্য ধর্মীয় নেতাদের অবশ্যই সেই বক্তব্য প্রদান করা উচিত যাতে অনুকম্পা, ভালবাসা, সহমর্মিতা এবং ভাল নীতি কথা থাকবে।

ইউ পানডাভুনসা, মিয়ানমারের এক প্রখ্যাত বৌদ্ধ সন্ন্যাসী যিনি বলেছেন কারো বিরুদ্ধে উত্তেজনামূলক ভাষা ব্যবহার করা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নীতিমালা বিরুদ্ধ:

আমাদের ধর্মের নীতিমালা অনুসারে, আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্য এক সন্ন্যাসী তার হাত কারো ক্ষতি করার কাজে ব্যবহার করতে পারবে না, এক্ষেত্রে তাদেরকে অভিশাপ দেওয়া বা গালি দেওয়া অথবা অপমান করার কথা আর নাই বা উল্লেখ করা হল। সকলে উপলব্ধি করে যে একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর শরীর হবে দয়ালু এক মানবের। সে যা বলেছে তার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৌদ্ধ ধর্মকে হীন চোখে দেখতে পারে।

মাউউং জারনি এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মিজ ইয়ানঘি লিকে যে ভাবে সম্বোধন করা হয়েছে সে বিষয়ে মাউউং তার চিন্তা তুলে ধরেছে:

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মত জাফরান রঙের বসন পরিধান করে মিয়ানমারের নাৎসিদের চোখে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক তদন্তকারী এবং আইনের অধ্যাপিকা একজন ‘বারবনিতা”! কারণ সে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব আত্ম-পরিচয় ফিরে পাবার দাবিকে সমর্থন করে, যাতে তারা জাতীয় পরিচয় লাভ করে, যাতে তাদের সাথে মানুষের মত আচরণ করা হয়।

মাইয়ো লিইউন (ডেমো ফ্যাটটি) বেনামে একাউন্ট পরিচালনা করা এক ফেসবুক ব্যক্তিত্ব এবং সে বিভিন্ন গোপন অসঙ্গতি সবার সামনে তুলে ধরার কাজ করে থাকে, এখন মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বিশ্বের কি মনোভাব তৈরী হবে এই নিয়ে সে উদ্বিগ্ন:

এখন এটি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া এক সংবাদে পরিণত হয়েছে। এমনকি একজন নারীকে “পতিতা” বলে গালি দেওয়া অনেক বাড়াবাড়ি। এখন আমাদের নাগরিকদের মুখ, আমাদের দেশ, এবং আমাদের ধর্মের রসাতলে গেল।

৯৬৯ নামক দলের সাম্প্রতিকতম মুসলমান বিরোধী আন্দোলনের সময় এই প্রতিবাদ এবং ভাষণ প্রদান করা হল। তবে উইরাথু জাতিসংঘের দূতের প্রতি তার আক্রমণাত্মক হওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে:

এটা ছিল সবচেয়ে কঠোর বাক্য (আমার নিজের তা মনে হয়) তাই আমি এই সব শব্দ ব্যবহার করেছি। আমার কাছে যদি এর চেয়ে কঠোর কোন শব্দ থাকত তাহলে আমি সেটাই ব্যবহার করতাম। আমার দেশের প্রতি তার যে আচরণ সে বিষয়ের সাথে কোন কিছুর তুলনা চলে না।

উইরাথু বিশ্বাস করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মিয়ানমারকে বাজে ভাবে তুলে ধরার কোন অধিকার জাতিসংঘের বিশেষ দূতের নেই, তার বদলে তিনি এই বিষয়ে জোর দেন যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে বসবাসের কোন অধিকার নেই।

মায়ানমার সরকার ঘোষণা প্রদান করেছে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের বিরুদ্ধে করা উইরাথুর ভাষণের বিষয়ে দেশটি তদন্ত করে দেখবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .