বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সেবু সিনুলগ উৎসব সম্বন্ধে কিছু প্রাথমিক ধারণা

Scene from Sinulog Festival 2012. Photo Credits: Constantine Agustin.

সিনুলগ উৎসব ২০১২-এর দৃশ্য। ছবি কনস্টানটাইন আগাস্টিনের।

প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের তৃতীয় রোববারে সিনুলগ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটা সদ্যজাত যীশুর স্মরণে আয়োজিত এক খাদ্য উৎসব, স্থানীয় ভাবে যাকে সেনিওর সান্টো নিনো নামে অভিহিত করা হয়। গ্লোবাল ভয়েসেস সিটিজেন মিডিয়া সামিট উপলক্ষে গ্লোবাল ভয়েসেস-এর যে সব সদস্যদের সেবুতে আসার কথা, তারা এর কয়েকদিন আগে আসলে ১৮ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিনুলগ মারদি গ্রাস উৎসবে অংশ নিতে পারবে।

সান্টো নিনোর ছবিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক ধর্মীয় নাচের আয়োজন করা হয়, সিনুলগ সেবু সিটির পাহিনা নদীর স্রোত বা সুলগকে অনুকরণ করে, নাচিয়ে-রা ড্রামের তালে তালে দুই ধাপ এগিয়ে গিয়ে আবার এক ধাপ পিছিয়ে আসে। ব্যাসিলিকা দে সান্টো নিনোর সামনে এক মিনতি অথবা সদ্যজাত যিশুকে ধন্যবাদ প্রদানের জন্য মোমবাতি বিক্রেতারা এই নাচ প্রদর্শন করে।

বলা হয়ে থাকে সিনুলগ-এ তখন প্রথম নাচ প্রদর্শন করা হয়, যখন ভূপর্যটক ফার্দিনান্দ দি ম্যাগেলান প্রথম সেবু সিটিতে এসে হাজির হয়ে এই অঞ্চলকে স্পেনের রাজার জন্য দাবী করে এবং এখন থেকে ৫০০ বছর আগে ৭ এপ্রিল, ১৫২১ তারিখে স্থানীয়দের খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করার এক অংশ হিসেবে ম্যাগেলান সেবুর শাসক রাজাহ হুমাবোন-এর স্ত্রী রাণী হুয়ানাকে সান্টো নিনোর ছবি প্রদান করে। বলা হয়ে থাকে ম্যাগেলানের কাছ থেকে ছবিটি গ্রহণ করার আনন্দে রাণী হুয়ানা নেচে ওঠে।

এই সেদিন, ১৯৮০ সাল থেকে সিনুলগ উৎসব তার বর্তমান এই চেহারায় রূপ নিতে শুরু করে, সে সময় তখন ক্রীড়া এবং যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নামে পরিচিত বিভাগ ব্যাসিলিকা ডে সান্টো নিনোর সামনে এক ছোট আকারের আড়ম্বরপূর্ণ প্যারেড-এর আয়োজন করত

পরের বছর ১৯৮১ সালে এই উৎসবকে এক প্রাতিষ্ঠানিক চেহারায় রূপ দেওয়া হয় সাথে সিনুলগ উৎসব কমিটি সৃষ্টি করা হয়, যাদের কাজ হচ্ছে এই উৎসবের আয়োজন করা। এখন এই উৎসব এক বিশাল প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে বিভিন্ন ধরনের নাচ প্রদর্শন করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে নাচের দল এতে অংশ গ্রহণ করে থাকে ।

যারা সিনুলগে প্রথম বার অংশ গ্রহণ করতে আসে তারা হয়ত সব জায়গায় “পিট সেনইয়োর”! অভিবাদনে বিস্মিত হতে পারে। এটা “সাঙ্গপিট সা সেনইয়োর-এর” সংক্ষিপ্ত রূপ, যার মানে “সেনর সান্টো নিনোকে ডাকা”।

এমন অনেক ধর্মীয় উৎসব, যা বাণিজ্যিক এক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে সেখানে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় দিক প্রায়শ পিছনে চলে যায়, আর সামনে চলে আসে নাচের ছন্দের তাল, রঙ বেরঙের পোষাক এবং গাড়ির উপর মঞ্চ, রাস্তার পাশে সার বেঁধে বসানো খাবারের দোকান, বাণিজ্যিক চমক এবং সারা রাত ধরে চলা পার্টি। কিন্তু চাকচিক্যময় পর্যটক আকর্ষণের জন্য সিনুলগের এই বর্তমান চেহারার পেছনে রয়েছে সেবু দ্বীপের নাগরিকদের খৃষ্টান ধর্মমতে রূপান্তরিত হওয়ার কাহিনী যা এখন থেকে পাঁচশত বছর পূর্বে ঘটেছিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .