বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গ্রানাডাতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে একটি ছোট্ট পাঠাগার

West Indian Stories. Photo by Flickr user coconinoco. CC BY-NC-ND 2.0

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গল্প। ছবিঃ ফ্লিকার ব্যবহারকারী কোকোনিকো। সিসি বাই-এনসি-এনডি ২.০।

গ্রানাডাতে এমন একটি পাঠাগার আছে যা একেবারেই গতানুগতিকতার বাইরে। একজন লেখক, গির্জার একটি গ্রুপ এবং তৃণমূলের একটি দল যৌথভাবে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই যৌথ সামাজিক কার্যক্রমটিকে বলা হয় গ্রাউন্ডেশন গ্রানাডা। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটির নাম মাউন্ট জিওন। এই ছোট পাঠাগারটি এমন একটি কার্যক্রম, যা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার সংস্কৃতিকে প্রবর্তন করতে চায়। কেননা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করার তেমন প্রচলন নেই। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধুমাত্র তরুণদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেই উদ্বুদ্ধ করে না বরং বই পড়তে ভালোবাসতে শেখায়। 

তরুণদের লক্ষ্য করে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। বিশেষকরে ২০০৯ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের উন্নয়ন কার্যক্রমের মানব উন্নয়ন রিপোর্টের প্রাসঙ্গিক উন্নয়নের আলোকে তরুণদের উন্নয়নে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, ইংলিশ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গ্রানাডার দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ। আর সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হারের কারনে তরুণেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিদ্যালয়ে তাদের পড়াশুনা এবং ফলাফলস্বরূপ তাদের কর্মজীবনে এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পরছে। দেশটির বেকারত্বের হার বর্তমানে শতকরা ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। 

যদিও মাউন্ট জিওন পাঠাগার সেবাকে একটি বিকল্প টেকসই পেশা হিসেবে তুলে ধরেছে, তার সাথে বাড়তি পাওনা হিসেবে নতুন প্রজন্ম পড়তে আরো বেশি উৎসাহী হয়ে উঠছে। 

গ্রাউন্ডেশন গ্রানাডা এমনি একটি উদাহরণ শেয়ার করেছেঃ ২০ বছর বয়সী আলেসিয়া আয়ারড একজন গায়ক এবং শিল্পী। তাকে দেখতে একেবারেই তথাকথিত একজন গ্রন্থাগারিক বলে মনে হয় না। তিনি জ্যামাইকান রিগ্গি সঙ্গীতের আইকন পিটার টসের সচেতন সঙ্গীত শোনেন এবং ধরণ ন্যান্সি পার্লের চেয়ে লরেন হিলের মতো। তিনি তার অধিকাংশ অবসর সময় মাউন্ট জিওনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ব্যয় করেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সাহিত্য ও বিজ্ঞান কথাসাহিত্যের কাজ সম্পর্কে উত্সাহী হয়ে উঠছেন।   

গ্রাউন্ডেশন ব্যাখ্যা করেছে:

আলেসিয়া সবসময় পাঠক ছিলেন না। আসলে পড়াশোনা সব সময় তাঁর কাছে শাস্তির মত অনুভূত হত; তাকে যেন কোন কিছু করতে বাধ্য করা হচ্ছে। একটি মাছ কিভাবে একটি গাছে আরোহণ করবে সে সম্পর্কে পড়ানোর মতো স্কুলে তাঁর কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তিনি বর্ণনা করেছেন। কারণ স্কুলের প্রচলিত পদ্ধতি শেখার বিভিন্ন ধরণ এবং স্থানকে তুলে ধরতে ও তাঁর সঠিক প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

সুতরাং পাঠক নন এমন একজন কিভাবে ঠিক একজন স্বেচ্ছাসেবক গ্রন্থাগারিক হিসাবে নিযুক্ত হলেন ? ধীরে ধীরে তিনি তা হয়ে উঠেছেন। একজন বন্ধু তাকে বই বাছাইয়ে সাহায্যের জন্য বলেছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি বই বাছাই করলেন। ফলে এই প্রকল্পে জড়িত ব্যক্তিদের “গুড ভাইবস” দ্বারা তিনি এ কাজে নিযুক্ত হলেন। তিনি বলেন, “অ-পাঠক থেকে পাঠকে রুপান্তরিত হওয়া লোকেরা তাদের পছন্দের বইটি পড়ে যে হাসি” হাসেন সে হাসিই তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে। 

আইরিড মনে করেন যে মাউন্ট জিওন শুধু স্বেচ্ছাসেবকদের আবেগের কারণেই বিশেষ কিছু হয়ে ওঠেনি, বরং “এর অবস্থান [সেন্ট জর্জ এর কেন্দ্রবিন্দুতে]” এবং সেবার ফলে লাইব্রেরিটি গতানুগতিকতার বাইরে অনন্য হয়ে উঠেছে।”

মাউন্ট জিওনের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনে কমপক্ষে দুইজন করে নতুন সদস্য আসছেন। বিশেষকরে, তরুণদের মাঝে এটি বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাঁরা এটিকে এমন একটি সহায়ক স্থান বলে মনে করছে, যেখানে তাঁরা ভাবনার আদান প্রদান এবং নিজেদের মতো করে সময় কাঁটাতে পারে।  

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .