বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভিয়েতনামে কারাবন্দী নারী ফটো সাংবাদিক অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে

মিন মান দাং নগুয়েন তিন বছরের বেশী সময় আগে একটি প্রতিবাদের ছবি তোলার কারণে গ্রেফতার হয় এবং নাশকতামূলক কাজের অভিযোগে তাকে নয় বছরের জেল প্রদান করা হয়। ২৮শে নভেম্বর শাস্তিভোগ করা অবস্থায় নির্যাতিত হবার প্রতিবাদে সে অনশন ধর্মধট শুরু করছে। 

মিন মান-এর ঘটনাটি ভিয়েতনামের বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছা মতো সাংবাদিক, ব্লগার এবং মানবাধিকার কর্মীদেরকে আটক করার মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে বাক স্বাধীনতাকে খর্ব করছে।

Man Minh

মিন মান

২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসের ৯ তারিখে নঘে আন প্রদেশের গণ আদালত মিন মানকে ১৩জন অন্যান্য ব্লগার এবং মানবাধিকার কর্মীদের সাথে মিলিতভাবে ভিয়েতনামের সরকারকে ‘উৎখাত’ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করা হয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘এযাবৎ কালে রজু করা সর্ববৃহত নাশকতামূলক মামলা’ হিসেবে অবিহিত করেছে।

একজন প্রসাধনবিদ হিসেবে প্রশিক্ষিত হলেও এই ২৬বৎসর বয়েসী তরুণী সামাজিক ন্যায্যতা এবং মানবাধিকারের জন্য একজন আবেগপ্রবণ সমর্থনকারী, যা সে একজন স্বাধীন ফটোসাংবাদিক হিসেবে তার কাজের মাধ্যমে চর্চা করে এসেছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্র পরিচালিত অনমণীয় গণমাধ্যমের পরিবেশের মধ্যে কাজ করার প্রচেষ্টা না করে, মিন মান তার আলোকচিত্রগুলোকে অনলাইনে প্রকাশ করেছে। সে প্রায়শঃই যেখানে গণ অসন্তোষ এবং গণ প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে সেখানে ভ্রমণ করতো যাতে সে ঐ ঘটনার ছবি তুলতে পারে এবং সেগুলোর প্রচারণা আর বৃদ্ধি করতে পারে। এরকম একটি ঘটনা ছিল চীন বিরোধী প্রতিবাদ যা হো চি মিন শহরে ২০১১ সালের ৫ই জুন ঘটেছিল।

মিন মান ৩১শে জুলাই ২০১১ সালে তার মা ও ভাইয়ের সাথে গ্রেফতার হয়। তাদের পারিবারিক গৃহে পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং তার ক্যামেরা তারা বাজেয়াপ্ত করে, যা তাকে তারপর আর ফেরত দেয়া হয়নি।

মিন মানের বিচার

পরিবার বিচারের সম্মুখিন

নঘে আন প্রদেশের গণ আদালতে বিচার কাজ সংঘটিত হয়, যেখানে ভারসাম্যবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ও সঠিক প্রক্রিয়া পালন না করার লম্বা ইতিহাস আছে। প্রচুর সংখ্যক অভিযুক্ত বিচারের সম্মুখিন হওয়া সত্বেও, বিচার প্রক্রিয়াটি মাত্র দুই দিন স্থায়ী হয়েছিল। অভিযুক্তদের প্রত্যেককে হাকিমকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলার জন্য মাত্র ৫ মিনিট করে সময় দেয়া হয়েছিল, এবং তাদেরকে শুধু মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার মাধ্যমেই উত্তর দেবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকজন স্বাধীন সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারীদেরকে এই প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি। আদালত মিন মান-এর জন্য ৯বছরের কারাদণ্ড এবং তিন মাসের গৃহবন্দি থাকার সাজার রায় ঘোষণা করে। তার মাকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি প্রদান করা হয় যা এখন শেষ হয়ে গিয়েছে। তার ভাইকে তিন বছরের মধ্যে কোন অপরাধ করলে শাস্তির সম্মুখিন হওয়ার ঝুঁকি সহ্য করতে হয়েছে।  

গণ আদালতের কঠোর শাস্তি শুধুমাত্র মিন মান, তার মা ও তার ভাইয়ের উপরই প্রভাব ফেলেনি। মিন মানের বাবাকেও তার পরিবারের গ্রেফতারের পরপর বেশ কয়েকবার ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবরদস্তি, অবৈধ চাপ এবং নজরদারির সম্মুখিন হতে হয়েছে। একজন স্থানীয় পুলিশ তাকে মিন মানের জন্য আইনগত সহায়তা গ্রহণ করা বা তার প্রতিনিধিত্ব করার সহায়তা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা পর্যন্ত করেছে, এবং তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে যদি কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে সে যেন তার স্ত্রী এবং মেয়ে সায়গনে কাজ করতে গেছে – তা বলতে আদেশ দিয়েছে।

Man Minh

মিন মানের ফটোসাংবাদিকচিত কাজ

মিন মানকে ফৌজদারী আইনের ৭৯(১) ধারার বলে ‘জনগণের প্রশাষণকে উৎখাত করার লক্ষ্যে ঘটানো অপরাধমূলক কার্যক্রম’ এর ‘সক্রিয় অংশগ্রহণকারী’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং সে কারণেই তার সহ-অভিযুক্তদের অনেকের তুলনায় তাকে অনেক বেশী শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে বর্তমানে থান হোয়া প্রদেশের ইয়েন দিন-এর ৫ নং শিবিরে তার ৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছে। সেখানকার অবস্থা মারাত্মক, এবং তাকে দিয়ে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করানো হচ্ছে। ১৬ই নভেম্বর তারিখে কোন অজানা কারণে মিন মান এবং আরও তিনজন রাজনৈতিক বন্দীকে প্রায়-নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তাকে অন্য আর একজন কারাবন্দীর সাথে তিন স্তরের কংক্রিটের দেয়ালযুক্ত একটি কামরায় রাখা হয়েছে; এই অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ নভেম্বরের ২৮ তারিখে মিন মান অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে। 

আলোকচিত্রগ্রাহকের পক্ষ্যে আইনের ছাত্রছাত্রীরা জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে

মিন মানের অনশন ধর্মধট এবং তার আশঙ্কাজনক স্বাস্থাবস্থা তার অবস্থার দিকে নজর দেয়া জরুরী করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক উকিলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ার জাগ্রেব-এ ছাত্রছাত্রীদের একটি আইনি ক্লিনিক জাতিসংঘ্যের স্বেচ্ছাচারমূলক শাস্তি প্রদান বিষয়ক কর্ম দলের (ইউএনডাব্লিউজিএডি) কাছে কারাবন্দী ফটো সাংবাদিকের পক্ষে আবেদন দাখিল করেছে। 

অক্সফোর্ড এবং জাগ্রেব এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম সারির অধ্যাপকদের দ্বারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মতবাদের উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকজন মক্কেলের পক্ষে আবেদন করার জন্য সে বিষয়ে গবেষণা করা, আবেদনের খসড়া তৈরী করা ও দাখিল করার কাজগুলো করেছে। মিন মান ছাড়াও ভিয়েতনামের রাজনৈতিক ব্লগার ডিউ কে যাকে ২১শে অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মুক্তি দেয়া হয়েছে, এবং মিয়ানমার সম্পাদক টিন স্যান-এর পক্ষেও আবেদনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। মিডিয়া লিগাল ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ (এমএলডিআই) গার্ডেন কোর্ট চেম্বারস এবং জাগ্রেব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিলিতভাবে এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে ছাত্রছা্ত্রীদের জন্য বস্তুনিষ্ঠ আইনি তত্ত্বাবধান করেছে। 

ভিয়েতনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে একটি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সত্বেও, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দেশটি ক্রমাগতভাবেই নেতিবাচক অবস্থানে থেকেছে। উদাহরণস্বরূপ সীমান্তবিহীন সাংবাদিক দল সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে ভিয়েতনামের নীচে মাত্র ৬টি দেশকে রেখেছে। দুঃর্ভাগ্যজনক, যে মিন মান-এর বিষয়টি ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করা এবং অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত বা বানোয়াট অপরাধে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে মতানৈক্য প্রকাশ করার আরও একটি প্রচেষ্টার উদাহরণ হয়ে থাকবে। ইউএনডাব্লিউজিএডির কাছে আবেদন দাখিল করার মাধ্যমে জাগ্রেবের আইনি ক্লিনিক মিন মান-এর অবস্থার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রত্যাশা করে এবং একটি ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করার আশা রাখে যেমনটি এবছরে ডিউ কে-এর ক্ষেত্রে এবছরে ইতোমধ্যে দেখা গেছে। 

ন্যানি ইয়ানসেন পৃথিবীব্যাপী আইনি সহায়তাকারী একটি সংস্থা লিগাল ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ (এমএলডিআই) এর আইনি পরিচালক, যারা সাংবাদিক, ব্লগার এবং স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য অর্থনৈতিক ও স্বতন্ত্র আইনগত সহায়তা প্রদান করে।

জনাথন ম্যাককালী ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজ থেকে আইন (এলএলবি) অধ্যায়ন করেছে এবং সম্প্রতি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস এ্যান্ড পলিটিকাল সায়েন্স (এল্এলএম) থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছে। সে প্রায়শঃই ইনফর্ম’স ব্লগ-এ লিখে থাকে, এবং বর্তমানে এমএলডিআই-এ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .