বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনে বসে মধ্য এশিয়ার পোলাও খাওয়া

Central Asian food is not for people on a diet. Wikipedia images.

যারা মেদ কমানোর জন্যে উপোষ করছেন তাদের জন্য মধ্য এশিয়ার খাবার নয়। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া।

অতিথেয়তায় মধ্য এশিয়ার মানুষের রয়েছে তুমুল খ্যাতি। খাওয়া যায় এমন হেন খাবার নেই, যা তারা ঘরে রাঁধেন না। স্বাধীনতার পরে আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালিতে শাকসবজির চেয়ে মাংস বেশি ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়েছিল। সেটাই এখন স্থানীয় মানুষের রসনা পূরণ করে বিশ্বের ধনী শহরগুলোর ভোজনরসিকদেরও তৃপ্তি মিটাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডন শহরে অনেক কাজাখ, কিরগিজ, তাজিক, তুর্কমেন এবং উজবেক মানুষ বসবাস করেন। এরা দেশ থেকে দূরে থেকেও দেশের খাবারের স্বাদ উপভোগ করেন।

নিউ ইয়র্ক শহরে উজবেক খাবার

Photo taken from Nargiscafe.com

নার্গিসক্যাফে.কম থেকে ছবি নেয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরার নাম নার্গিস। একজন উজবেক এটি পরিচালনা করেন। খাবারের তালিকায় মাংস ও সবজিসহ ঘিয়ে রাঁধা পোলাও, মান্তি, সামসা, লাগম্যান-সহ মধ্য এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য খাবার রয়েছে।

ক্রাউড-সোর্সিং প্লাটফর্ম ইয়েলপ.কমে টোমার বি নামের একজন আমেরিকান নার্গিসের রাতের খাবারের প্রশংসা করেছেন:

This place has never let me down. The quality of the food and and the money you pay for it. There is no other place like this in New York. The owner Eli is always there taking care that service is good and people are happy.

এই খাবারের দোকান আমাকে কখনোই আশাহত করেনি। খাবারের যে মান তাতে আপনার পয়সা উসুল হয়ে যাবে। নিউ ইয়র্কে এর মতো আর কোনো জায়গা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। দোকানের মালকিন এলি ভোক্তাদের দেখভাল করতে সবসময় দোকানে উপস্থিত থাকেন।

ঐতিহাসিকভাবে উজবেকিস্তান বিখ্যাত সিল্ক রোডের সংযোগস্থল ছিল। নৌ-বাণিজ্য শুরু হওয়ার আগে এ পথ দিয়েই একসময় ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। নৌ-বাণিজ্য এবং অন্যান্য আরো কিছু কারণে সিল্ক রোডের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আস্তে আস্তে হ্রাস পেতে থাকে। তবে মধ্য এশিয়ার প্রথা অনুসারে নার্গিসের মালিক অতিথিদের জন্য বাড়ির সামনে অপেক্ষা করেন।

Photo taken from Chayhanasalom.com

ছবি নেয়া হয়েছে চাইহানাসালম.কম থেকে।

মাইকেল ডি ইয়েলপ.কমে লিখেছেন:

The Nargis Cafe is an Uzbek restaurant that does it right. The owner always greets me with a smile and is very warm.

এটা ঠিক যে, নার্গিস ক্যাফে উজবেক রেস্টুরেন্ট। তবে এর মালিক সবসময় আমাকে হাসিমুখে অভিবাদন জানান। এবং তার ব্যবহারও খুব আন্তরিক।

নার্গিস রেস্টুরেন্টে এক প্লেট ঐতিহ্যবাহী উজবেক পোলাও, যাতে ভাত, গাজরকুচি, পেঁয়াজ, ভেড়ার মাংসসহ নানা পদের মশলা থাকে, এর দাম পড়ে ৮.৫০ মার্কিন ডলার। মধ্য এশিয়ার তুলনায় এই দাম অনেক বেশি হলেও নিউ ইয়র্কের তুলনায় অনেক সস্তা।

নার্গিস রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মধ্য এশিয়ার মানুষেরা প্রবল উৎসাহ যুগিয়েছেন:

New Picture

ব্রুকলিনে মধ্য এশিয়ার খাবার পরিবেশন করে এমন আরেকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এটির নাম চাইহোনা সালম। নার্গিসের প্রতিদ্বন্দ্বী এটি। রেস্টুরেন্টের মালিকদ্বয় মুরাট খোজিমাটভ এবং ফরিদা গানিয়েভ বলেছেন, তাসখন্দ (উজবেকিস্তানের রাজধানী) পোলাও হলো পৃথিবীর সবচে’ বিখ্যাত।

চাইহোনা সালম-এর পোলাও নার্গিসের পোলাওয়ের চেয়ে আলাদা। এতে ভাতের ওপরে ভেড়ার মাংসের বড়ো বড়ো টুকরো, ডাইস করে কাটা গাজর এবং উপরের দিকে সুন্দর করে ডিম সাজিয়ে রাখা থাকে। এখানে তাসখন্দ পোলাও নার্গিসের চেয়ে ৫০ সেন্ট কমে বিক্রি হয়।

চাইহোনা সালম-এ খেতে আসা ভোজনরসিক আলেক্সাজান্ডার এস মন্তব্য করেছেন:

They serve delicious Uzbek food. We ordered Samsa and Shish kebabs and it reminded me of my childhood in Uzbekistan.

তারা সুস্বাদু উজবেক খাবার পরিবেশন করে। আমরা সামসা এবং শীষ কাবারের অর্ডার দিয়েছিলাম। এটা আমাকে উজবেকিস্তানের ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দিলো।

লন্ডনে কাজাখ এবং কিরগিজ খাবার

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের মতো নিউ ইয়র্কের উজবেক রেস্টুরেন্টগুলোও প্রবাসী উজবেকদের মিলনস্থল। এ যেন বিদেশের বুকে মাতৃভুমিকে খুঁজে পাওয়া। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ হাজার উজবেক বসবাস করেন। এদের বেশিরভাগই থাকেন নিউ ইয়র্কে, বিশেষ করে কুইন্স এবং ব্রুকলিনে। আর অল্প কিছুজন বাস করেন অ্যারিজোনাতে।

Photo taken from Kyrgyz Kazakh Pasha House

ছবিটি কিরগিজ কাজাখ পাশা হাউজ থেকে নেয়া হয়েছে।

ব্রিটেনে মধ্য এশিয়ার খাবার-দাবার এক যাযাবর স্বাদ যুক্ত করেছে। আর এর জন্য ধন্যবাদ পাবে কিরগিজ-কাজাখ ভিত্তিক রেস্টুরেন্ট- পাশা হাউস। পাশা হাউস চালু হয় ১৯৯৯ সালে। ইউরোপে এই ধরনের রেস্টুরেন্ট এটাই প্রথম

ট্রিপ অ্যাডভাইজরে একজন নেটিজেন পাশা হাউজের খাবারকে “অপার্থিব এবং সুস্বাদু” বলে উল্লেখ করেছেন:

The place has a slightly weird atmosphere with running children, a large group of diners singing and a couple whispering lovingly in the corner. The waiting staff were slightly overwhelming but lovely. The food was superb, absolutely first rate.

রেস্টুরেন্টের পুরো পরিবেশই ছিল অদ্ভুত রহস্যঘেরা। বাচ্চারা তাতে দৌড়াদৌড়ি করছিল। একদল ভোজনরসিক গান গাইছিলেন। এককোনে এক প্রেমিক জুটি ফিসফাস আলাপে মগ্ন ছিল। এতো এতো খাবারের অর্ডার সত্ত্বেও ওয়েটাররা হাসিমুখে খাবার পরিবেশন করছিলেন। খাবারের স্বাদ ছিল অসাধারণ, যাকে বলে একদম তোফা।

দেশের বাইরে সবাই একসাথে মিলে সময় উদযাপনের জায়গা হলো এই রেস্টুরেন্ট। পাশা পরিবার এমন একটা জায়গায় রেস্টুরেন্ট করতে চেয়েছেন, যেখানে বাচ্চারা এসে খেলতে পারে, তরুণরা গান গাইতে পারে এবং যে কেউ এসে জাতীয় খাবারদাবার দিয়ে ভোজন উত্সব করতে পারে।

ডলারের তুলনায় পাউন্ডের দাম বেশি হওয়ায় পাশা হাউজের পোলাওয়ের দাম পড়ে ৮ ব্রিটিশ পাউন্ড (১৩.৭০ মার্কিন ডলার)। যা নিউ ইয়র্কের পোলাওয়ের দামের তুলনায় অনেক বেশি। তবে ট্রিপ অ্যাডভাইজর জানিয়েছে, লন্ডনের মান বেশ ভালো। সন্ধ্যায় বাইরে খেতে গিয়ে যে দাম দিবেন, তা ব্যবয়বহুল হবে না।

We liked it very much. There was a good menu to choose from. It was served very well and the service was good as was the price.

রেস্টুরেন্টটি আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। খাবারের মেনুতে অনেক আইটেম আছে, যা থেকে পছন্দ করে নেয়া যায়। খাবার খুব সুন্দরভাবেই পরিবেশন করে। দামের সাথে তাদের সেবাও চমৎকার।

মধ্য এশিয়ান রেস্টুরেন্টগুলো তাদের দেশের লোকেদের কাছে খাবারের দাম কমই রাখে। তাছাড়া এই অঞ্চলের দেশান্তরি লোকজনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তারা তাদের সংস্কৃতি, আঞ্চলিক খাবার-দাবারের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। আর এসবই বিদেশে বাস করলেও তাকে মাতৃভুমির বন্ধনে জড়িয়ে রাখে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .