বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পালাতে চান? রাশিয়ার বুকিং ডট কমের আদলে গড়া আসন্ন ওয়েবসাইটে দেশপ্রেম সাথে নিয়ে পালিয়ে যান

A Russian summer resort in Sochi, 25 July 2013, by Maria Plotnikova. Demotix.

২৫, জুলাই ২০১৩ তারিখে রাশিয়ার সোচিতে একটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্র। ছবিঃ মারিয়া প্লোটিকোভা, ডেমোটীক্স।  

রাশিয়ানরা হয়তোবা অনলাইনে হোটেল রুম ভাড়া করার একটি নতুন পন্থা পেতে যাচ্ছেন। রুশ ফেডারেল পর্যটন এজেন্সি আগামী বছর এমন একটি জাতীয় সেবা চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আগামী ১৬ বছরে ধীরে ধীরে এটির উন্নয়ন কৌশলের একটি অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বুকিং ডট কমের আদলে সেবাটি তৈরি করা হবে। কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হবে স্থানীয় স্বাস্থ্য আবাসনগুলোর প্রচার ঘটানো। অর্থাৎ রাশিয়ার তথাকথিত “স্বাস্থ্যকর স্থানগুলোর” সম্পর্কে সকলকে জানানো।

আঞ্চলিক ওয়েব সম্পদগুলো (স্থানীয় হোটেল এবং স্পাগুলো সম্পর্কে তথ্য দানকারী ছোট ছোট ওয়েবসাইটগুলো) এই নতুন সেবাটিকে গড়ে তুলতে তথ্য প্রদান করতে সক্ষম। আর রসটেলিকম ও রসটেকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো এখনও নাম নির্ধারন না হওয়া এই সাইট তৈরির কাজ পেতে ইতোমধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু করে দিয়েছে।

অসত্রোভোক ডট আরইউ এর কার্যনির্বাহী পরিচালক ইভজেনি শপিলম্যান হিসাব দেখিয়েছেন, প্রকল্পটির সফলতার জন্য আগামী চার বছরে ব্যয় হবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি রাশিয়ার আরেকটি হোটেল বুকিং সেবা প্রদানকারী ওয়েবসাইট। শপিলম্যান তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুমান করেছেন যে যদি নতুন ওয়েবসাইটগুলো একসাথে সঠিকভাবে কাজ শুরু করতে পারে তবে প্রতিটি ভ্রমণ অর্ডারের মূল্য থেকে সরকার শতকরা ১০ থেকে ২৫ শতাংশ আয় করতে পারবে।

অসত্রোভোক ডট আরইউ হোটেল বুকিং দেয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম একটি সফল ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ওকটগো ডট আরইউ, হোটেলস ডট আরইউ, আগোডা ডট আরইউ, আইচআরএস ডট কম এবং অবশ্যই বুকিং ডট কমের মতো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তাদের সেবা প্রদান করে থাকে। 

রাশিয়াতে অনলাইনে হোটেল ভাড়া করার বাজারটি বেশ ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত। যেকোন ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা খুব সহজেই এই শিল্পে ঢুকতে পারবে না। যেহেতু এ ওয়েবসাইটগুলো সম্পূর্নভাবে দেশীয় বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে তাই এক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সরকারকেও বেশ কিছু বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন  ওয়েবসাইটগুলোকে আরও নির্দিস্ট কিছু সেবা প্রদানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

হোটেল রুম ভাড়া করার জন্য সরকার প্রদত্ত একটি সেবা হতে পারে রাশিয়ার পর্যটনকে বিচ্ছিন্নকরণের দিকে নেওয়ার কেবল প্রথম পদক্ষেপ। জানুয়ারিতে প্রচার মাধ্যমের দেয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বহুশাখা বিশিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর (বৈশ্বিক বন্টন ব্যবস্থা অথবা জিডিএস নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক) কাছে হোটেলের রুম ভাড়া করা এবং টিকিট বিক্রি করার জন্য রাশিয়া তাঁর নিজস্ব কম্পিউটার আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুরু করতে যাচ্ছে। হোটেল রুম ভাড়া করার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রুশ জিডিএসের কাছে যাওয়া কলগুলোকে ঠেকিয়ে রেখেছে। রুশ জিডিএস সুপ্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান ভ্রমণ বাজারের কাজের রীতিকে ব্যাহত করবে। 

ইন্টারনেটের বেশ কিছু নতুন বিধিনেষেধই হচ্ছে অনলাইন ভ্রমণ ব্যবসার আয়নাতে সরকারের হস্তক্ষেপের পেছনে থাকা যুক্তি। আইনগুলো মানতে এ শিল্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেষ্ট ব্যয়ভারও বহন করতে হবে।  

রাশিয়াতে হোটেল বুক করতে এবং এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটার জন্য নতুন সেবা সৃষ্টি করার বৃহত্তর প্রচেষ্টা হচ্ছে পশ্চিম থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্নকরণের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া। ক্রেমলিন সম্প্রতি আভাস দিয়েছে যে তারা একটি নতুন জাতীয় অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করতে পারে। আর যদি এই অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করা হয় তবে তা ভিসা এবং মাস্টার কার্ডের স্থলাভিষিক্ত হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসডব্লিউআইএফটি ব্যবস্থার বিকল্প উপায় খুঁজছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রসটেলিকম মে মাসে স্পুটনিক নামে একটি নতুন জাতীয় সার্চ ইঞ্জিন চালু করেছে। চালু করার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি রুনেটে এক কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে পশ্চিমের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ায় মস্কোতে “রাশিয়া ইউরোপ নয়” বলে এক জোরালো ডাক ওঠে। রাশিয়া অন্তর্মুখী হয়ে পূর্ব এবং লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ঝুকে যাওয়ার কারণে দেশটি স্বভাবতই পশ্চিমের প্রাধান্য বিস্তারকারী বিভিন্ন পণ্য এবং সেবার জাতীয় বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই নির্ভরতা এত দ্রুত কাঁটিয়ে উঠতে যেয়ে রাশিয়াকে বেশ বিপদের মুখেই পড়তে হচ্ছে। 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .