বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারতে মাওবাদী গেরিলারা কেন মোবাইল ফোনের টাওয়ার আক্রমণ করছে

Photo courtesy of Kadir Aksoy

কাদির আকসয়ের সৌজন্যে ছবিটি পাওয়া। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের ১৯ তারিখ সকালে মাওবাদী গেরিলারা ভারতের বিহার রাজ্যের একটি গ্রামে তিনটি টেলিফোন টাওয়ার এবং একটি বাসে আগুন দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিফোন টাওয়ার আক্রমণ মাওবাদীদের কাছে অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ ধরনের ২৪৫টি আক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, বিহারের গোদা এবং ভিতিয়া গ্রামে ২০-২৫ জন নক্সাল কর্মী চড়াও হয়। তাদের চড়াও হওয়ার মূল কারণ, ধর্মঘটের আগের দিন স্থানীয় দোকানগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল। তারা দোকানগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে ১৩ তারিখে তিন নক্সাল কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট ডেকেছিল।

নক্সাল বা মাওবাদীদের হামলায় প্রতিবছর কয়েকশ’ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। মাওবাদীদের বিদ্রোহের সূত্রপাত সেই ষাট ও সত্তরের দশকে, পশ্চিমবঙ্গের নক্সালবাড়ি শহরে। সেখানকার কৃষকরা ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল। ডিএনএ ইন্ডিয়া তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, নক্সালদের আন্দোলনের মূলমন্ত্র যখন নক্সালবাড়ি ঘিরে,তখন মাওবাদীরা ১৯৬৭ সালের বিদ্রোহ থেকে ফলাফল খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

গত ১৫ বছরে মাওবাদী আন্দোলনে খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন সাধারণ জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে চাইছে। চাইছে কৃষক এবং আদিবাসীরা সরাসরি এই আন্দোলনে যোগ দিক। কানাডা ভিত্তিক জিওপলিটিক্যাল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রকাশনা জিওপলিটিক্যাল মনিটরে ভি.বালাসুব্রামানিয়ান লিখেছেন, মাওবাদীদের এখনকার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদের গণযুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা। ।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর সূত্র মতে, মাওবাদীরা জানিয়েছে, দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় তারা আন্দোলন করছে:

 

মাওবাদীরা বিপ্লবের ডাক দিয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের আশায়। তারা বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রকে আঘাত করে আধিপত্যশীল ব্যবস্থা ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার মাধ্যমে দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষেরা তাদের অধিকার অর্জন করতে পারবে।

২০০৮ সাল থেকে মাওবাদীরা মোবাইল ফোনের টাওয়ার আক্রমণ করে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং উগ্র বামপন্থী বিশেষজ্ঞ ডি.এম মিত্র জানিয়েছেন, গত চার বছরে মাওবাদীরা ৯টি রাজ্যের ২০০টির বেশি মোবাইল ফোন টাওয়ার ধ্বংস করেছে। মিত্র লিখেছেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান খুঁজে বের করে।

গ্লোবাল ইসিসিও'র জন্য লেখা প্রতিবেদনে জনাব মিত্র মাওবাদীদের এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন:

যেসব মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, মাওবাদীরা তাদের খুঁজে বের করে হত্যাও করে। কারণ, মোবাইল ব্যবহারকারীদের তারা পুলিশের তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে সন্দেহ করে।

২০১৩ সালে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত কেন্দ্রীয় তদারকি ব্যবস্থার (সিএমএস) অনুমতি দেয়। আর এই অনুমতির ফলে সরকারি সংস্থা যে কারো মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং যোগাযোগের তথ্য পেতে পারে। আইনগতভাবেই তারা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কথা, ক্ষুদেবার্তা এবং ইমেইলে ইস্তক্ষেপ করে। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার মতো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সরকার তদন্তের স্বার্থে এই ধরনের উপায় অবলম্বন করে। উল্লেখ্য, মুম্বাই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

গত বছর ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইনস্টিটিউট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের ৯৮৭টি গ্রামে যেখানে মাওবাদীদের শক্ত অবস্থান নেই, সেখানে সর্বমোট ২,২০০টি মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইউনিয়ন মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্স-এর মতে:

মাওবাদীরা একে কড়া হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে। এমনকি এটা সর্বনিম্ন মাত্রায় কাজ করলেও। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং বেঁচে থাকাকেও হুমকির মুখে ফেলে। এজন্য তারা যেখানেই সম্ভব মোবাইল ফোনের টাওয়ার আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়।

মাওবাদীদের মোবাইল ফোনের টাওয়ার আক্রমণ নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় বিক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্য রয়েছে। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় “ভারতের নক্সাল আন্দোলন” নিয়ে ফেসবুকে এবং টুইটারে পেজও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:

ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়ন: হায়দারাবাদে ১৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ, মাওবাদীদের সমর্থনে একটি সভায় তারা জড়ো হয়েছিলেন।

২১ সেপ্টেম্বরে বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষ্যে আরো কিছু প্রতিক্রিয়া এসেছে। লেখক এবং নিরস্ত্রীকরণ কর্মী বিনালাকস্বামী নেপ্রাম লিখেছেন:

পাছে আমরা ভুলে না যাই, ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাওবাদী সহিংসতায় ১২,২৫৩ জন ভারতীয় মারা গেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিহারে মোবাইল ফোন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা এবং টহল দিচ্ছে।

এই পোস্টের আগের সংস্করণে ভুলক্রমে নেপালের মাওবাদীদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .