বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গরীবের ঘর আলোকিত করছে “লিটার অব লাইট”

The logo of the Liter of Light project.

লিটার অব লাইট প্রজেক্টের লোগো।

বোতলের পানি ফুরিয়ে যাবার পরে আমাদের অনেকের কাছে তার আর মূল্য থাকে না। আমরা একে আবর্জনা ভেবে ফেলে দিই ভাগাড়ে। কিন্তু এই খালি বোতলই আলো এনে দিতে পারে হাজারো গরীব মানুষের ঘরে; উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে পারে তাদের প্রায়ান্ধকার ঘরখানি; সেটা আমরা ক'জন আর জানি! ব্রাজিলের এক মেকানিক এই আবর্জনাতুল্য বোতল দিয়ে গরীব মানুষের ঘর আলোকিত করার একটা উপায় বের করেছেন। আর তা ব্রাজিল পেরিয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

এই প্লাস্টিকের বোতল কীভাবে আলোর উত্স হতে পারে? এর উত্তর খুব সোজা এবং প্রশংসনীয়। বাড়ির টিনের চালে ফুটো করুন। তাতে একটি পানি ভর্তি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বোতল গুঁজে দিন। দিনের বেলায় পানির বোতলে সূর্যের আলো এসে পড়বে। এতে করে ঘরজুড়ে আলো ছড়িয়ে পড়বে। সাধারণত শহরের বস্তিঘরে এবং গলির ভিতরে যেসব বাড়িতে আলো প্রবেশ করতে পারে না, সেসব ঘরে আলোর এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে। টাকা-পয়সার সংকট সত্ত্বেও দিনের বেলায় বাধ্য হয়ে যারা ঘরে বিদ্যুৎ জ্বালান, এটি তাদের খুব কাজে লাগবে। এক বোতল থেকে তারা ৬০ ওয়াটের বাল্বের সমপরিমাণ আলো পাবেন। এতে ব্লিচিং পাউডার যোগ করতে পারলে পানি আরো পরিষ্কার থাকবে। তাছাড়া প্রতি বোতল পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে।

ব্রাজিলের মেকানিক আলফ্রেডো মোজার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। পরে লিটার অব লাইট প্রজেক্ট ম্যানিলা শহরে বেশ বড় আকারে চালু করে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা ২০০,০০০ বোতল লাইট স্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন বাড়ি আলোকিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাছাড়া তারা রাতের বেলায় সৌরশক্তি ও ব্যাটারির মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থাও করছে। ঘরের চাল ফুটো করে কীভাবে বোতল বাল্ব লাগাতে হবে তার নির্দেশনামূলক একটি মোবাইল অ্যাপসও তৈরি করেছে।

২০১১ সালে গ্রিন কাপবোর্ডস ব্লগে লিটার অব লাইট নিয়ে লেখা হলে, সেখানে একজন পাঠক ভারতে এটি কীভাবে বড়ো ধরনের পার্থক্য তৈরি করতে পারে, সেটা বিষয়ে মন্তব্য করেছেন:

This is the most ingenious invention ever and surely needs great acclaim. I live in India where the villages have no electricity and the people have to rely upon kerosene lamps, many time staying in the dark because kerosene is usually in short supply. Hopefully some NGOs will latch on to this and make the life of the villagers less grim.

এটা খুবই সহজ-সাধারণ একটি আবিস্কার এবং খুব প্রশংসনীয়ও। আমি ভারতে বসবাস করি। এখানকার গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সুবিধা নেই। রাতের অন্ধকার দূর করতে তারা কেরোসিন বাতি ব্যবহার করেন। কেরোসিনের যোগান না থাকায় মাঝে মাঝে অন্ধকারেই রাত কাটাতে হয়। আশা করি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এই প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে হাজারো গ্রামবাসীর জীবন থেকে অন্ধকার কিছুটা হলেও দূর করবেন।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ, ভারত, কেনিয়াসহ ১৫টি দেশে লিটার অব লাইট প্রজেক্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে লিটার অব লাইট ভারত চ্যাপ্টার মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর, হায়দারাবাদসহ বড় বড় শহরগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করছে। লিটার অব লাইট ব্যাঙ্গালোর-এর ফেসবুক পেজে সবার কাছে বাতিল প্লাস্টিক বোতল ভাগাড়ে ফেলে না দিয়ে সেটা তাদের কাছে দান করার আহবান জানিয়েছে।

Please don't throw those Cola bottles away. Do contact us and we will try to find ways to pick it up from the nearest possible place

দয়া করে কোকের বোতল ফেলে দিবেন না। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা আপনাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসবো।

পলিনেট এনার্জি নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভারতের শহরাঞ্চলের বস্তির মানুষদের জন্য ক্লিন এনার্জি পণ্য তৈরি করে থাকেন। তারা লিটার অব লাইট-এর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে টুইট করেছেন।

@পলিনেটএনার্জি, আপনারা দারুণ কাজ করছেন।

শংকর ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এবং লেবার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ নেটওয়ার্ক-এর মতো আরো কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিটার অব লাইট ইন্ডিয়া প্রজেক্টের সাথে কাজ করছেন, যাতে ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রার মান বাড়ে।

Screenshot from the Facebook page of Litter of Light India showing installation in Hyderabad.

কীভাবে লিটার অব লাইট স্থাপন করতে হয়, তা দেখানো হচ্ছে। ফেসবুক পেজ থেকে স্ক্রিনশট নেয়া।

লিটার অব লাইট প্রজেক্টের মূল বিষয় হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মতৎপরতা। ব্যাঙ্গালোরের স্বেচ্ছাসেবক তৃপ্তি গ্রুপটা কীভাবে চালিত হয়, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

We are eager to touch many more lives and lighten up the city in collaboration with like-minded organizations who want to take up this green movement with us.

আমরা সমমনা সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে আরো বেশি মানুষের জীবনে পৌছাতে চাই। আরো বেশি শহরকে আলোকিত করতে চাই। সবুজ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চাই।

ফ্যাক্টস অ্যাবাউট ইন্ডিয়া প্রতিবেদন অনুসারে, ২৮৮ মিলিয়ন ভারতীয় বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন। লিটার অব লাইট-এর মতো উদ্ভাবনী সমাধান সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনকে আলোকিত করবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .