বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আমেরিকান-ইহুদি সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেনথালের গাজা সফর এবং একটি বিধ্বস্ত শহরের টুইট চিত্র

This was Beit Hanoun, Gaza, today - tweets @MaxBlumenthal in the first of a series of photographs he posts on Twitter showing the extent of the damage he witnessed

আজ গাজার বেইতহানুনের চিত্র এটি – ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে @মাক্সব্লুমেন্থাল তার করা আলোকচিত্র সিরিজের প্রথমে টুইট করেছেন। 

আমেরিকান বংশোদ্ভূত ইহুদি সাংবাদিক, লেখক এবং ব্লগার ম্যাক্স ব্লুমেনথাল গত ১৫ আগস্ট তারিখে ইসরাইলের সাথে গাজার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমানা বেইতহানুন সফর করেছেন। এ সময় ফিলিস্তিন ভিত্তিক সাংবাদিক ড্যান কোহেন তাঁর সাথে ছিলেন।

হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সংকেত পাবার আগেই গাজাবাসী এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতে শুরু করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ থেকে তারা যতোটুকু পেরেছেন তাদের সহায় সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগে গাজাতে চালানো আক্রমণে ১,৯৫১ জন লোক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মাঝে ৭০ টিরও বেশি সংখ্যক পরিবার এবং ৪৬৭ টি শিশু রয়েছে। ইসরায়েলি এনজিও বিটিসেলেম কমপক্ষে ১,৭৬৭ জন গাজাবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাদের মাঝে ৪৩১ টি শিশু রয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, শতকরা ৭৩ থেকে ৮০ শতাংশ বেসামরিক লোক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

ব্লুমেনথাল এবং কোহেন “সম্পূর্ন ভাবে দেয়ালের সাথে সেঁটে যাওয়া” একটি শহর দেখলেন। শহরটি ইসরায়েলি বিমান এবং ট্যাংক আক্রমণের আঘাতে বিধ্বস্ত। জাতিসংঘ পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ের উপর ২৪ জুলাই তারিখে ইসরায়েল হামলা চালালে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। ঘটনাটি বেইতহানুনকে সারা বিশ্ব জুড়ে শিরোনামে পরিণত করেছে। জাতিসংঘ বিদ্যালয়টি খালি করার জন্য আইডিএফ এর কাছ থেকে সময় চেয়ে নেয়া সত্ত্বেও তারা বিদ্যালয়টির উপর হামলা চালায়। দূর্ভাগ্যবশত একটি বিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ চালিয়ে এই ধ্বংস লিলা শেষ হয়নি। আরও কিছু নমুনা আপনারা নিচে দেখতে পাবেন। 

তাদের সফরের টাইমলাইন নিচে দেয়া হলঃ 

ইসরায়েলি বিমান এবং ট্যাংক হামলায় বেইতহানুন মাটির সাথে মিশে গেছে। 

ইসরায়েলি সৈন্যদের দখল করা বেইতহানুনের একটি বাড়ির মেঝে বুলেটের খোসা দিয়ে ভরে গেছে। 

তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁর ভাইয়ের টেবিলের উপর থেকে তাঁর কিছু কাগজ পত্র এবং অন্যান্য কিছু জিনিস নিয়ে গেছে। তাঁর বাড়িটি ধ্বংস করে দিয়েছে। 

বেইতহানুন শহরে ইসরায়েলি সৈন্যদের ফেলে যাওয়া কিছু কাপড়। 

বেইতহানুন শহরের একটি সমাধিক্ষেত্র। এমনকি তারা মৃত ব্যক্তিদের উপরেও বোমা বর্ষণ করেছেন। 

বেইতহানুন শহরেও @ড্যানকোহেন৩০০০ কয়েকজন নতুন ভক্ত খুঁজে পেয়েছেন। 

ইসরায়েলের বোমার আঘাতে জাতিসংঘ বিদ্যালয়ের আঙিনা। এখানে ১৭ জন লোক মারা গেছেন এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন। 

বেইতহানুন শহরের জাতিসংঘ বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষে ইসরায়েল এফ-সিক্সটিন দিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে।  

বিদ্যালয় ধ্বংস 

আজ আমি অপ্রত্যাশিতভাবে হামলায় যত জন আহত ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছি তাদের মাঝে তিনি অন্যতম। তিনি বেইতহানুন শহরের জাতিসংঘ বিদ্যালয়টির পেছনে বসবাস করেন। 

তাঁর বাড়ি থেকে ইসরায়েল ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ইসরায়েল হামলা তাঁর কমলার বাগান উপড়ে ফেলেছে। তাঁর কুয়াটি ২০০৫ সালের হামলায় নষ্ট করে দিয়েছে। আর অবশেষে গত মাসে তাঁর বাড়িটির উপর বোমা হামলা চালিয়েছে। 

একজন কৃষক আমার কাছে বর্ননা করেছেন, কীভাবে ইসরায়েল তাঁর পরিবারের ৮ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। তাঁর চাচাতো ভাই আমাকে একগুচ্ছ আঙুর এবং ঠান্ডা পানি খেতে দিয়েছিলেন। অত্যন্ত মহৎ একজন মানুষ। 

বেইতহানুন শহরে রেহাম নামে একটি মেয়ে তাঁর কক্ষে বাস করেছেন, যতক্ষন না ইসরায়েল তাঁর বাড়িটি ধ্বংস করে দিয়েছে। 

বেইতহানুন শহরে ১৯৪৮ সাল থেকে আজ অবধি হামলা চলছে।  

@ম্যাক্সব্লুমেনথাল এবং @ড্যানকোহেন৩০০০ দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার বাড়িগুলোতে ইসরায়েলি সৈন্যরা ডেভিডের তারকা খোদাই করেছেন। 

বেইতহানুন শহরে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত একটি জায়গাতে দেয়ালে লেখা হয়েছেঃ ফিলিস্তিন ৩, ইসরায়েল ০। 

তাঁর বাড়িটি এখন মাটির একটি গর্তে পরিণত হয়েছে। তিনি জানেন আমি কোথা থেকে এসেছি। তাই বললেন, “নেতানিয়াহু এবং ওবামা সমানভাবে অপরাধী!” 

কৃষকের বাড়িটির শুধুমাত্র সদর দরজাটি টিকে আছে। 

বেইতহানুনর বালক ও বালিকা বিদ্যালয়টির পুড়ে যাওয়া শ্রেণীকক্ষগুলো রয়ে গেছে। 

গাজা শহরের আমিন মোহাম্মাদ মসজিদ। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্র বলেছে, ইহুদি নয় এমন প্রার্থনাকারীরা প্রথম জনসংখ্যাতাত্ত্বিক হুমকি দেয়া শুরু করেছে

গাজা শহরের আমিন মোহাম্মাদ মসজিদের ভেতর ভাগ। হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এটি জন শূন্য এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। 

ফাদেল আলাওয়া একজন আহত ব্যক্তিকে গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি জানতেন না আহত ব্যক্তিটি একজন যোদ্ধা ছিলেন। অতঃপর একটি ড্রোন তাঁর গাড়ির কি অবস্থা করেছে তা এখানে দেখুন

ফাদেল আলাওয়ার জুতা সেই ট্যাক্সিটির ভিতর রয়ে গেছে। এই ট্যাক্সিটি দৈনিক ১২ ঘন্টা চালিয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ট্যাক্সি চালিয়ে ঘন্টায় তিনি ৮ মার্কিন ডলার পেতেন।

সমস্ত গাজা জুড়ে আমি আমার ঝলসে যাওয়া জুতা জোড়া খুঁজছি। আমি বলে বোঝাতে পারবো না জুতাটির সাথে আমার কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এগুলো আমি শুজাইয়াতে পেয়েছিলাম

ইসরায়েলি গুলিতে খুন হওয়া সালেম শামালির পরিবারকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। তিনি যখন তাঁর পরিবারকে খুঁজছিলেন তখন গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।  

@আয়মানএম’এর প্রতিবেদনটি আবার দেখার পর সালেম শামালির মা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছেন। কিভাবে তাঁর ছেলে ইসরায়েলের খুনির হাতে নিহত হয়েছেন তা প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে।   

ওয়াসিম শামালি তাঁর বড় ভাই সালেমকে হারিয়ে খুব ভেঙ্গে পড়েছেন। তাঁর সম্পর্কে কথা বলতে যেয়ে তিনি শুধু অঝোর ধারায় কাঁদছেন।  

শামালি পরিবার তাদের ছেলে সালেম হত্যার কোন বিচার পায়নি। তাঁর পরিবর্তে এগুলো পেয়েছে

বেইতহানুন শহরে হামজা মাসরি তাঁর উজাড় হওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন নেতানিয়াহু ছাড়া অনেক ভালো মনের ইসরায়েলি লোকও আছেন। 

হামজা মাসরির বয়স ৬২ বছর। তিনি অনেক ইসরায়েলি ইহুদির সাথে পরিচিত হয়েছেন। তাঁর নাতি-নাতনিরা ইসরায়েলি অবরোধের অধীনেই বড় হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে বললেন, “আমরা শুধুমাত্র হামলাকারী ট্যাংকে বসে থাকা ইহুদিদের দেখা পেয়েছি”। 

গাজা শহরের বেইতহানুন, শুজাইয়া – আমার এবং @ড্যানকোহেন৩০০০ এ পোস্ট করা কয়েকটি টুইট।  

#গাজাঃ ইসরায়েলি আক্রমণে বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর পাহাড়ঃ হ্যাশট্যাগটিতে আমাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ কভারেজ অনুসরণ করুন। 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .