বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

এমএইচ ৩৭০ নিরুদ্দেশ হবার একমাস পরে ইউক্রেনে মালয়েশিয়ার আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত

A relative of those on board flight MH17 getting emotional while being interviewed by media. Photo by Hon Keong Soo. Copyright @Demotix (7/18/2014)

মিডিয়ার সামনে সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এমএইচ১৭ বিমানের আরোহীর এক স্বজন। ছবি তুলেছেন হন কেয়ং সো। স্বত্ত্ব: ডেমোটিক্স (৭/১৮/২০১৪)।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ২৯৮ জন আরোহী নিয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ১৭ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের যাত্রী, স্কু সবাই মারা গেছেন। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা মালয়েশিয়ায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

এমএইচ১৭ বিমানটি আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরে ফিরছিলো। ইউক্রেন সীমান্ত পার হওয়ার সময়ে বাক মিশাইলের আঘাতে এটি বিধ্বস্ত হয়। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে রুশপন্থী জঙ্গীরা ভুলক্রমে যাত্রীবাহী বিমান লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়েছে। যদিও বিদ্রোহীরা এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

মাত্র একমাসের ব্যবধানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স এমন দু'টি দু:খজনক ঘটনার শিকার হলো। মার্চ মাসের ৮ তারিখে একই এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ বিমানটি ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিমানটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরপর এমন দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার নেটিজেনরা শোকাবহ ঘটনা স্মরণ করতে টুইটারে #প্রেফরএমএইচ১৭ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একজন ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্ট এমএইচ১৭-এর সাথে সাথে এমএইচ৩৭০-এর নিহতদেরও স্মরণ করে টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে ছবি শেয়ার করেছেন:

চারমাসের মধ্যে আমি আমার ৩০ জন বন্ধুকে হারালাম… দু:খজনক হলেও সত্যি আমরা প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে আছি।

Image shared from a Malaysia Airlines flight attendant's Instagram

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্টের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবি।

মালয়েশিয়ার অনেক রাজনীতিবিদ এ ঘটনায় দু:খপ্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক নিহত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন:

আজ আমি এমএইচ১৭ যাত্রী এবং স্কু'র পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রার্থনা করেছি। আমাদের সকলের জন্য এটা একটা কঠিন মুহূর্ত।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামউদ্দিন হোসাইন সরকার কোন বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে তা জানিয়ে টুইট করেছেন:  

আমাদের তাত্ক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে- ১. বিমানটিকে কি গুলি করে নামানো হয়েছে? যদি তাই হয় ২. কীভাবে নামালো? ৩. কে গুলি করলো? আমাদের সকল গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোকে কাজে নামানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী খৈয়ারের জামালুদ্দিন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিমান যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন:

বিমানের রুট সিলেকশন নিয়ে যেসব বক্তব্য উঠে এসেছে আমরা তা প্রত্যাখান করছি। ঘটনা হলো, আরো অনেক যাত্রীবাহী বিমান ওই রুটে যাতায়াত করে। এই রুট আইসিএও'র অনুমোদিত।

মালয়েশিয়ার আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন। এদের একজন হলেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়ার লি চং উই:

এমএইচ১৭-এর আরোহীদের স্বজনদের অপূরণীয় ক্ষতি দেখে আমার হৃদয় বেদনাবিদুর।

টেলিভিশন ও রেডিও'র উপস্থাপক এক্সান্ড্রিয়া ওআই মন্তব্য করেছেন, দোষারোপ কাউকে সাহায্য করবে না:

পিসি শুনতেও খারাপ লাগছে এখন। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের রুট ঠিক ছিল না এই অভিযোগ আরো অনেক বিষয়কে সামনে নিয়ে আসবে। এটা একটা ট্র্যাজেডি। পরস্পরের প্রতি দোষারোপ কোনো কাজেই আসবে না।

মালয়েশিয়ার লিঙ্গীয় অধিকার উত্সবের সংগঠক পাং খি তেরিক শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন:

মানবতাহীন বিশ্বের অমানবিক এই ঘটনা সবার মানবিক অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলুক। মানবতাহীন বিশ্বের অমানবিক এই ঘটনা আমাদের যাবতীয় অমঙ্গল থেকে মুক্তি দিক। আসুন, সবাই সবাইকে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধি।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ সাইবার জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মালয়েশিয়ার অনেক নাগরিক এখন যন্ত্রণাময় সময় পার করছেন। তারা তাদের স্বজনদের হারিয়েছেন। এই ট্র্যাজেডি থেকে তাদের উত্তরণ করা দরকার।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .