বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে দুইশ’ বছরের পুরোনো যৌনপল্লী উচ্ছেদ!

টাঙাইলের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, ছবি রওনক মারটিনের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (১/১২/২০১২)

টাঙাইলের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, ছবি রওনক মারটিনের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (১/১২/২০১২)

বাংলাদেশের সবচে’ পুরোনো যৌনপল্লীর একটি কান্দাপাড়ার যৌনকর্মীদের তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১২ জুলাই ২০১৪-এ এই উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই যৌনপল্লীটি টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত ছিল। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এবং রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে যৌনকর্মীরা তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে যৌনকর্মীদের জাতীয় সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে ধর্মের অজুহাত তুলে জমি দখলই আসল উদ্দেশ্য ছিল।

৭৫৯ এরও বেশী যৌনকর্মী এতে তাঁদের বসতবাড়ি হারিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর নিন্দা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে নারী বিষয়ক অনলাইন প্রকাশনা ‘উইমেন চ্যাপ্টার’ উচ্ছেদ হওয়া যৌনকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা এবং চরম অনিশ্চয়তায় আছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তাদের কীভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারই বর্ণনা পেশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানী লরা অগাস্টিন (@LauraAgustin):

কান্দাপাড়া যৌনপল্লী গ্রুপ: তারা লাঠি-সোটা হাতে এসে আমাদের বললো, একঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যেতে হবে। তা না হলে কেরোসিন ঢেলে পুরো পল্লী আগুন ধরিয়ে দিবে।

পুনর্বাসন ছাড়া এই ধরনের উচ্ছেদ ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে করেন টুইটার ব্যবহারকারী এটিএম জাকারিয়া (@atmzakaria71):

সভ্যতা ব্লগে ব্লগার মগজে কারফিউ জানাচ্ছেন যে এইসব যৌনকর্মীরা স্বইচ্ছায় এই পেশায় আসেনি, ভাগ্যের ফেরেই এসেছে। পুনর্বাসন ছাড়া তাঁদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা অনুমান করেছেন তিনি:

এই লাঞ্চিত এবং অমানবিক জীবন যাপন করা মেয়েগুলো কি করবে তা আমরা না জানলেও অনুমান করতে পারি । তাদের বাইরে কোথাও কেউ কাজ দেবে না এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন । বাধ্য হয়ে এরা এইবার এদের খাবার জোগাড় করবে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ।

১৮৬০-১৮৮০ সালে যমুনা নদীর তীরে কান্দাপাড়া যৌনপল্লী গড়ে উঠেছিল। সে সময়ে বানিজ্যিক নৌকার সওদাগররা এখানে ব্যবসা করতে আসতেন। তাদের হাতে টাকা এবং সময় দুটোই ছিল। তারাই ছিলেন মূল খদ্দের। উচ্ছেদ হওয়ার আগে এখানে প্রায় এক হাজার জনের মতো যৌনকর্মী এবং আর হাজার জন ছিলেন তাঁদের সন্তান, মালিক, বাধা খদ্দের ইত্যাদি।

কান্দাপাড়ার যৌনপল্লীই প্রথম নয়, এর আগেও বাংলাদেশে যৌনপল্লী উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৯ সালে ২৩ জুলাই মধ্যরাতে দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী টানবাজার উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। সেখানে ২৬০০ জন নারী যৌন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এরপরে উচ্ছেদ করা হয় কান্দুপট্টি। সেখানেও কয়েক হাজার যৌনকর্মী ছিলেন। তার পরে একই ফেরে পড়ল মাগুরা। গত বছরের আগস্ট মাসে মাদারিপুর যৌনপল্লী আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ওই আক্রমণে যৌনকর্মীদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হয়, বাস্তুচ্যুত হন ৫০০’র বেশি যৌনকর্মী।

Members from Sex Workers Network of Bangladesh (SWNOB) form a human chain in Dhaka protesting attack on sex workers in a brothel in Madaripur. Image by Shafiqul Alam. Copyright Demotix (29/8/2013)

সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এর সদস্যরা যৌনকর্মী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মানব্বন্ধন করেছে। ছবি শফিকুল আলম সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (২৯/৮/২০১৩)

ধর্ম আর সামাজিক চাপের কথা বলে টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী উচ্ছেদ করা হলেও এর পিছনে জমি দখলের অভিযোগ করেছেন সেক্স ওয়াকার্স নেটওয়ার্ক। ১৭ জুলাই ২০১৪-এ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সেখানকার যৌনকর্মীরা দাবি করেছেন, স্থানীয় নেতারা যৌনপল্লীর তিন একর দুই শতক জমি দখলের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে তাদের উচ্ছেদ করেছে। এর আগে মাদারিপুরে উচ্ছেদের সময়েও সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠনগুলো যৌনপল্লীর জমি দখলের অভিযোগ করে করেছিলেন। টানবাজার উচ্ছেদের সময়কালেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। তবে উচ্ছেদ আন্দোলনের সাথে জড়িতরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা উল্টো যৌনপল্লীগুলো নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উতস বলে অভিযোগ করেছেন।

যৌনপল্লী উচ্ছেদের প্রতিবাদে ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন। ছবি তুলেছেন মোহামম্দ আসাদ। স্বত্ত্ব: ডেমোটিক্স (২০/০৭/২০১৪)

যৌনপল্লী উচ্ছেদের প্রতিবাদে ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন। ছবি তুলেছেন মোহামম্দ আসাদ। স্বত্ত্ব: ডেমোটিক্স (২০/০৭/২০১৪)

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গুটিকয় মুসলিম দেশগুলোর একটি যেখানে যৌন ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়নি। সেই প্রাচীন আমল থেকেই বাংলার জনজীবনে পতিতাবৃত্তির অস্তিত্ব ছিল। তবে অনেক আগে থেকে যৌন পেশার অস্তিত্ব থাকলেও এই পেশার কোনো আইনগত স্বীকৃতি ছিল না। ২০০০ সালে আদালত একে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৮টির মতো নিবন্ধিত যৌনপল্লী রয়েছে। আর সারাদেশে ২০০০০০ লাখের মতো নারী যৌন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এক জরিপে দেখা গেছে, যৌন পেশায় নিয়োজিত নারীর অধিকাংশের বয়স আইনগত সীমার চেয়ে কম।

কাজি মামুন হোসেন সামহোয়্যার ইন ব্লগ এ লিখেছেন

পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ না করা আবার পতিতাবৃত্তিকে স্বীকৃতি না দেয়ার মতো রাষ্ট্রযন্ত্রের দু'মুখো আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই৷ কোনো প্রকার পুর্নবাসনের ব্যবস্থা না করেই পতিতাদের উচ্ছেদ করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই৷

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .