বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

উজবেকিস্থান কখনো ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা লাভ করেনি, কিন্তু উজবেক রেফারি রাভশান ইরমাতভ ফিফার একজন প্রবাদ প্রতীম ব্যক্তি।

R

একটানা চার বছর (২০০৮,২২০৯,২০১০,২০১১) এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বর্ষ সেরা রেফারি রাভশান ইরমাতভ। উইকিপিডিয়ার ছবি।

জন ক্রুয়েফ, রাভশান ইরামতভ, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে, এই চারজনের মধ্যে তিনজন বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী, যার মধ্যে আবার একজন কোনদিন বিশ্বকাপের কোন ফাইনালে দৃশ্যমান হননি।

যারা খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে ভালবাসে, তাদের জন্য জানানো হচ্ছে যে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রবাদ প্রতীম এই চারজনের মধ্যে কেবল জন ক্রুয়েফ কোন ভাবে কোন রেকর্ডের অধিকারী নয়। ব্রাজিলের আদর্শ পেলে অন্য যে কারো চেয়ে বেশী বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী, যদিও ফুটবলের শাসক সংস্থা ফিফা ২০০৭ সালে অতীতে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের জন্য তাকে ফিফার একমাত্র পদক প্রদান করে। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন ১০ নাম্বার জার্সিধারী দিয়েগো ম্যারাডোনা অধিনায়ক হিসেবে অন্য যে কোন অধিনায়কের চেয়ে বেশী খেলায় অংশ নিয়েছেন–তিনি মোট ১৬টি খেলায় অধিনায়কত্ব করেন-যা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অংশ নেওয়া যে কোন খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, যদিও তার মধ্যে ১৯৮৬ সালে একটি খেলায় তিনি হাত দিয়ে গোল করেন এবং ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে দুটি খেলায় অংশ গ্রহণের সময় তিনি শক্তি বর্ধক ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন

Twitter image uploaded by @kainbek July 3

ইরমাতভ পদবীধারী পিতা এবং পুত্র। টুইটারে ছবি আপলোড করেছে @কাবিনবেক

সম্ভবত এই তিনজনের মধ্যে যোগ্য রেকর্ডের অধিকার হচ্ছে উজবেক নাগরিক রাভশান ইরমাতভ, যে কিনা এখন ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী খেলায় রেফারি হবার রেকর্ডের অধিকারী, তিনি ৫ জুলাই-এ, বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে তার নবম খেলায় পরিচালনার সময়, নিজের এবং যুগ্মভাবে অধিকার করে রাখা জোয়েল কুইনিয়ু (ফ্রান্স), বেনিতো আরচুনদিয়া (মেক্সিকো) এবং জর্জ ল্যারিওনডা-এর রেকর্ড (উরুগুয়ে) ভেঙ্গে দেন

এই বিষয়টি নিশ্চিত যে, উজবেকিস্তান ফুটবল প্রেমী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নয়, যদিও দেশটি বেশ কয়েকবার বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হবার কাছাকাছি চলে এসেছিল, কিন্তু দেশটি কোন বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে উজবেকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যা ভাল খেলা এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার জন্য সুপরিচিত নয়। দেশটির এ বছরের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ–এর সংবাদ উদ্ধৃতি থেকে জানা যাচ্ছে :

ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উজবেকিস্তানের মানবাধিকার রেকর্ড খুব বাজে অবস্থায় রয়েছে। দেশটি কার্যত ভার্চুয়াল স্বাধীন নিরীক্ষণের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খুব সীমিত। অধিকার আন্দোলন কর্মীদের উপর কর্তৃপক্ষ সবসময় হামলা চালায়, একটিভিস্টদের হয়রানি করে তাদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে এবং কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাঝে যারা তাদের ধর্মীয় অনুশীলন বজায় রাখে তাদের শাস্তি প্রদান করা, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং শিশুদের বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োগের বিষয়টি তো রয়েছে।

কিন্তু ইরমাতভ তাসখন্দের ভিন্ন এক পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন- আক্ষরিক অর্থে তার পিতা, যার সাথে ১৯৮২ সালে উজবেক রাজধানীতে তোলা এক ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি সোভিয়েত যুগে ক্লাব পর্যায়ে শ্রদ্ধাশীল এক রেফারি ছিল। ২০০০ সালে উজবেক লীগে রেফারি হিসেবে খেলা পরিচালনা শুরু করার পর, ইরমতাভ জুনিয়র ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১১ সালে শ্রেষ্ঠ এশীয় রেফারি হিসেবে ভূষিত করা হয়

ফাইনালে ইরমাতভের স্থান নেই

এ বছর ব্রাজিলের ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে খেলা পরিচালনার পর, যার মধ্যে তার যাদুকরী নবম খেলা উত্তেজনাপূর্ণ কোয়াটার ফাইনাল হল্যান্ড বনাম কোস্টারিকার খেলা পরিচালনাও অর্ন্তভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে ইরমাতভ ১৩ জুলাই আর্জেন্টিনা বনাম জার্মানীর ফাইনাল খেলা পরিচালনাকারী জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছিলেন। ঘটনা হচ্ছে ইরমাতভ উন্মাদনা- #ইরমাতভবেস্ট হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে সারা মধ্য এশিয়ার কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের ছড়িয়ে পরে, সাথে এক গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ইতোমধ্যে তিনি এই কাজের দায়িত্ব লাভ করেছেন। একটি টুইট, যা কিনা ৫৮ বার পুনরায় টুইট করা হয়, সেখানে লেখা হয়েছে:

বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্মানি–আর্জেন্টিনার খেলায় ইরমাতভ রেফারি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে।

দৃশ্যত এটা একটা “বিজয়” হিসেবে বিবেচিত হয়, যা টুইটারে উজবেকদের জাতীয় গর্বের প্লাবন বইয়ে দেয়:

তুমুল করতালি প্রদান করুন!!!!! আমরা তা অর্জন করেছি! আমরা উজবেক জাতি!!! আমি উজবেকিস্তানকে ভালবাসি!!! একজন উজবেক হিসেবে আমি গর্বিত!!!

তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে উজবেকিস্তান এবং খানিকটা হলেও কেন্দ্রীয় এশিয়ার কিছু নাগরিকের এই চাওয়া পূরণ হয়নি। নিরপেক্ষ রেফারি হিসেবে ইরমাতভের গ্রহণযোগ্যতা এবং তিনি দক্ষিণ আমেরিকা কিংবা ইউরোপের বাসিন্দা নন, যেটিকে একটি বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে দেখার মত বাস্তবতা সত্ত্বেও ফিফা ফাইনাল খেলা পরিচালনার জন্য তার বদলে ইতালির রেফারি নিকোলা রিজ্জোলিকে বেছে নেয়। এই ঘটনার ফলে ক্ষিপ্ত এক উজবেক সমর্থক টুইটারে ফিফার পরিচালনা কমিটিকে “বিক্রি হয়ে যাওয়া এক পতিতা” বলে উল্লেখ করে

তবে, ব্রাজিল থেকে ইরমাতভ যখন ফিরে গেছে, তখন তার কাছে বিশ্বকাপ স্বর্ণপদকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা থাকবে; সেটি হচ্ছে স্বদেশের প্রতি তার ভালবাসা। সবচেয়ে বড় কথা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ, যখন ইরমাতভের বয়স হবে ৪০, তখনও তিনি ফাইনাল খেলা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট যোগ্য থাকবেন, যেটি রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে তার স্বদেশী ২৫ লক্ষ নাগরিক অভিবাসী নাগরিক হিসেবে জীবন যাপন করে থাকে। এখন, আর সেটা হবে এক বিশেষ স্মরণীয় বিশ্বকাপ মুহূর্ত। .

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ করা হয়েছে।