বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বিশ্বকাপের শিরোনামের বাইরেঃ ব্রাজিলের কান্না, বাহরাইনের কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ এবং কাতারের বিয়োগান্তক ঘটনা

A young woman stages a lone protest against FIFA in front of the Maracana stadium after Belgium played Russia in their group stage match on June 22, 2014, despite a large security cordon designed to block such demonstrations against the 2014 World Cup. Photo by Marcelo Fonseca. Copyright Demotix.

২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপে, খেলা চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের বিক্ষোভ বন্ধে বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টিন তৈরী করা সত্বেও, ২২ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত বেলজিয়াম বনাম রাশিয়ার গ্রুপ পর্বের খেলার সময় মারাকানা স্টেডিয়ামের বাইরে এক তরুণী একাই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছবি মার্সেলো ফনসেকা, কপিরাইট ডেমোটিক্সের।

এই লেখাটি প্যান আমেরিকান সেন্টারে প্রথম ছাপা হয় এবং অনুমতিক্রমে সেটি পুনরায় ছাপা হল।

আমার মত আপনি নিজেও গায়ে চিমটি কেটে দেখেছেন, যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিল ৭-১ গোলের ব্যবধানে জার্মানীর কাছে পরাজিত হয়। কিন্তু কখনো কখনো এ রকমটা ঘটে। মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার ব্লগাররা এই ঘটনায় তাদের সহানুভূতি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে বাহরাইনের একজন টুইটার ব্যবহারকারী বিদ্রূপাত্মক ভাবে উল্লেখ করেছে যে “কাঁদুনে গ্যাস” (কান্না) তৈরী করা দলটি “ন্যাক্কারজনক ভাবে” বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল। কঠোর ভাবে বিক্ষোভ দমনের জন্য বাহরাইন সরকার ব্রাজিলের তৈরী কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে (সতর্কতা-সংশ্লিষ্ট লিঙ্কে বেশ কিছু গ্রাফিক উপাদান রয়েছে]।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার কারণে ব্রাজিল ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লাভ করবে, কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত নেদারল্যান্ডসকে যদি তারা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় হারাতে পারে তাহলে তারা আরো বাড়তি ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লাভ করবে [এই খেলায় ব্রাজিল ০-৩ গোলে পরাজিত হয়েছে]। ব্রাজিলের ফুটবল সংস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য এই অর্থ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ব্রাজিল জুড়ে বিক্ষোভ চলছে, তবে যে ভাবে প্রতিযোগিতা এগিয়ে চলেছে ঠিক সে ভাবে নয়। সাও পাওলো শহরে প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারীর বিক্ষোভ, এর আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিক্ষোভে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবীতে পরিণত হয়, তবে এক্ষেত্রে পুলিশ আরো ছয়জনকে গ্রেফতার করে এই বিক্ষোভের প্রতি তাদের সাড়া প্রদান করে। ব্রাজিলে ভ্রমণ করা বেশীরভাগ ভক্ত বেইলে ফাঙ্ক নাচ সম্বন্ধে শোনেনি (ফাঙ্ক নাচ), কারণ শহুরে বস্তি এলাকায় এর জনপ্রিয়তা এবং প্রবল শব্দের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেটিতে পুলিশের সাইরেন এবং গুলির শব্দ ব্যবহার করা হয়।

এদিকে আর্জেন্টিনার ভক্তরা উল্লসিত হতে পারে, কারণ ফাইনালে তাদের দলের জার্মানীর বিপক্ষে খেলাটি তাদের দেখার সুযোগ রয়েছে, যেখানে তাদের আক্রমণ ভাগে খেলছে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন লায়নেল মেসি এবং যার সাথে থাকছে সুদর্শন এজিকিয়ল লাভেজ্জি [ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ০-১ গোলে জার্মানীর কাছে পরাজিত হয়েছে]। জয় উদযাপনের সময় জামা খুলে ফেলার পরে সে কিছু ভক্তের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

বর্ণবাদ বিষয়ে, দৃশ্যত অনেক বেশী মনে হচ্ছে কম। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বর্ণবাদ নির্মূলে নিজস্ব এক বিভাগ গঠন করেছে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে গঠন করা ফিফার টাস্ক ফোর্স, তার শৃঙ্খলা রক্ষা বিভাগের করা নিয়ম ‘সমর্থকদের বর্ণবাদ এবং সমকামিতা বিরোধী স্লোগান’ দেওয়ার কারণে উক্ত রাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে, এই শাস্তির উদ্দেশ্য ছিল ওই সব ভক্তরা কেবল একটি খেলোয়াড়কে নয়, সমগ্র দলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাতার বিশ্বকাপ, প্রায় ৪০০ নেপালি এবং ৭০০ ভারতীয় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদে ধাক্কা খেয়েছে, যারা এমন এক পরিবেশে কাজ করছিল যেখানে তাপমাত্রা ১২২ ডিগ্রি (৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে।

তবে একজন, যিনি দেশটির সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক, তিনি যুক্তি প্রদান করেছে, এরপরেও এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, কারণ এর ফলে কাতারের উপর মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করার ব্যাপারে চাপ তৈরী হবে। তিনি, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচার মাধ্যমের প্রতি সামাজিক মনোভাব নিয়ে করা সবচেয়ে তুলনামূলক আলোচনা বিষয়ক এক গবেষণার অন্যতম লেখক, যা আপনারা কৌতূহল উদ্দীপক সক্রিয় এই ওয়েবসাইটে পাঠ করতে পারবেন। তার এই গবেষণার অর্থ জুগিয়েছে কাতার ফাউন্ডেশন। এই একই সংগঠন লায়নেল মেসির ফুটবল ক্লাব এফসি বার্সেলোনার স্পন্সর। আর এই সংগঠনের আংশিক অর্থের যোগানদাতা স্বয়ং কাতার সরকার। এরপরেও এই পাতাকে অনুসরণ করতে থাকবেন? এর বিচার আপনার হাতেই রইল

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা প্রায়শ লিখে থাকেন,কি ভাবে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের ফুটবল তারা উপভোগ করে থাকেন। আমরা ফাইনালে মুক্ত প্রবাহমান চিন্তার জয়গান গাইব। সেরা দলটির জয় হোক।

কাসান্ড্রা ডা কোস্টার কিছুটা সংবাদ এখানে গ্রহণ করা হয়েছে

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .