বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মী বললেন, হংকং-এ তাকে মারধর, অভুক্ত এবং আগুনের ছ্যাকা দেয়া হয়েছে

Thousands rallied on January 19, 2014 demanding justice for Erwiana Sulistyaningsih, an Indonesian maid who was allegedly tortured by her employer. Photo from Hong Wong.

ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মী ইরওয়ানা সুলিত্যয়ানিংগিসের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের বিচার চেয়ে গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৪-এ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করেন। ছবি তুলেছেন হং ওয়াং।

[পোস্টটির লেখক সংবাদ সংস্থা ইনমিডিয়াএইচকে.নেট এর একজন স্বেচ্ছাসেবী সম্পাদক। তার কিছু মন্তব্য পোস্টটিতে যুক্ত করা হয়েছে।]

হংকং-এ আরেকজন গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৪-এ কয়েক হাজার ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মীসহ শহরের বাসিন্দারা গৃহকর্মী ইরওয়ানা সুলিত্যয়ানিংগিসের ওপর বেআইনি নির্যাতনের বিচার চেয়ে মিছিল করেছেন। বাড়ির মালিক কয়েক মাস ধরে তাকে নির্যাতন করেছেন

২৩ বছর বয়সী এই গৃহকর্মী ২০১৩ সালের মে মাসে হংকং-এ আসেন। কাজ নেন টিসিউয়েং কোয়ান ও-এর একটি বাড়িতে। সেখানে ৮ মাস ধরে বাজে কর্মদক্ষতার অভিযোগে তাকে প্রতিদিন নির্যাতন করা হয়েছে। হংকং-এ চাকরির বিধান অনুযায়ী গৃহকর্মীকে বাড়িতে রাখা নিয়ম। আর এর ফলে এতো অত্যাচার সয়েও বাইরে গিয়ে অন্যান্য গৃহকর্মীদের সহযোগিতা নিতে পারেন নি। এমনকি তিনি পালাতে চেয়েও পারেননি পাসপোর্ট এজেন্সির কাছে থাকার কারণে।

২০১৪ সালের জানুয়ারির ১০ তারিখে স্থানীয় পত্রিকাগুলো হাতে পায়ে কাটা-পোড়ার দাগসহ তাকে হংকং এয়ারপোর্টে আবিস্কার করে। ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ফিরে আসার সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শরীরে পরীক্ষা করে মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্যান্য জায়গায় আঘাতের অবস্থা এমন যে সে আর এখন হেঁটে তার গৃহকর্তার বাড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হবেন না।

Erwiana Sulistyaningsih was found in the Hong Kong airport on January 10 with obvious physical injuries in her body. Photo from Apple Daily News, non-commercial use.

২০১৪ সালের জানুয়ারির ১০ তারিখে স্থানীয় পত্রিকাগুলো হাতে পায়ে কাটা-পোড়ার দাগসহ ইরওয়ানা সুলিত্যয়ানিংগিসকে হংকং এয়ারপোর্টে আবিস্কার করে। ছবিটি অবাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অ্যাপল ডেইলি নিউজ থেকে নেয়া হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে সুলিত্যয়ানিংগিস মিডিয়াকে বলেন, “তাকে প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে। আগুনের ছ্যাকা দিয়েছে। প্রতিদিন দু'বেলা শুধু রুটি আর ভাত দিয়েছে। রাত ১টার আগে কখনো ঘুমাতে দেয়নি। আর উঠতে হতো সকাল ৫টায়।” তবে এই গৃহকর্মীই প্রথম নন যিনি ওই বাসায় কাজ করেছেন। এর আগেও দু'জন গৃহকর্মী ওই বাসায় কাজ করেছেন। তাদের ওপরও এমন অত্যাচার করা হয়েছে।

শহরে গৃহকর্মীদের ওপর আধুনিক সময়ের ক্রীতদাস প্রথা বন্ধ করে সমাধান খোঁজায় জন্য অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ'রা চাপ দিচ্ছেন। স্থানীয় সিটিজেন মিডিয়া inmediahk.net-য় মিছিলে অংশ নেয়া গৃহকর্মী আউয়াং লুনফা একটি বিবৃতি দিয়েছেন:

Foreign maid Susie revealed in the rally that she was also starve abused by the same employer between 2011 to 2012. Photo from Tom Grundy's Twitter.

মিছিলে অংশ নেয়া বিদেশী গৃহকর্মী সুসি জানিয়েছেন, ২০১১ থেকে ২০১২ সালে একই গৃহকর্মী তাকে না খাইয়ে রাখতো, নির্যাতন করতো। ছবি নেয়া হয়েছে টম গ্রাউন্ডির টুইটার থেকে।

印傭 Susi 稱,自己在2010年4 月開始為涉案僱主工作至2011年3月,期間11個月,除了被禁足不準出門,而且每天被要求工作20小時,同時亦受到不同程度的虐打。她指「每當做錯野時就會被打」,曾被僱主曾用雞毛掃打,亦試過被猛耳仔。最嚴重一次,僱主曾威脅 Susi 叫她自殺。結果 Susi 苦苦哀求對方說:「自己有一對子女, 唔好要我死。」Susi 又指,中介公司無按合約每月3580付人工,反而在 Susi 終止合約時,只付上約六千元,作為11個月人工。Susi 表示已經到警署提供資料。

ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মী সুসি জানিয়েছেন, তিনি একই গৃহকর্তার অধীনে কাজ করেছেন। সেটা ২০১০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত। এই ১১ মাস তার বাসা থেকে বের হওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। দিনে ২০ ঘণ্টার উপরে কাজ করতে হতো। তাছাড়া তাকে মারধরও করা হতো। সে বলেছে, “যখনই আমি কোনো ভুল করতাম, তখনই আমাকে মারতো।” তার সাবেক গৃহকর্তা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করতো, কান মুচড়ে দিতো। এমনকি তাকে হুমকি দিতো, সে যদি পুলিশের কাছে যায়, তাহলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। সুশি প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে বলেছেন, “আমার দু'টি সন্তান আছে, আমাকে মরতে বলবেন না।” সুসি এও জানিয়েছে, এজেন্সি তার মাসিক বেতন ৩,৫৮০ হংকং ডলারও পরিশোধ করেনি। ১১ মাস কাজ করে সে মাত্র ৬,০০০ হংকং ডলার পেয়েছে। সে পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে।

外傭組織發言人 Eni Lestari 透露,有另一名叫 Tina 的印傭於2011年間,為涉案僱主短暫工作三個月。Eni 說,Tina 要每日超時工作和沒有足夠食物,並同樣受到虐打。最後 Tina 在朋友幫助下報警,最後成功離職,現身在新加坡。

বিদেশী গৃহকর্মীদের নিয়ে কাজ করে ইনি লেসতারি। তিনি ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মী টিনার ঘটনার কথা প্রকাশ করেছেন- ২০১১ সালে টিনা একটি আইনজীবী পরিবারে তিন মাস কাজ করেছিল। সেখানে তাকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে, অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত মারধরও করেছে। সে বন্ধুর সাহায্য নিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানায়। তারপর কাজ থেকে ইস্তফা দেয়। টিনা এখন সিঙ্গাপুরে কাজ করছেন।

স্থানীয় পত্রিকাগুলো সূত্রে জানা গেছে, টিনার মামলা কখনো তদন্ত করে দেখা হয়নি। তবে হংকং পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পায়নি। স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে সুলিত্যয়ানিংগিস'র ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর হংকং পুলিশ এটিকে “বিবিধ কেস” হিসেবে ফাইল করে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে নেই।

Local women rallied on January 19, 2014 to show their support for Erwiana Sulistyaningsih. Photo from campaign page: Justice for Erwiana! Justice for Migrant Domestic Workers!

গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৪-এ ইরওয়ানা সুলিত্যয়ানিংগিসের সমর্থনে স্থানীয় নারীরা মিছিল করে। ছবি নেয়া হয়েছে, ইরওয়ানার প্রতি ন্যায়বিচারের দাবিতে ফেসবুক পেজ জাস্টিজ ফর ইরওয়ানা!জাস্টিজ ফর মাইগ্যান্ট ডমেস্টিক ওয়াকার্স থেকে।

গত সপ্তাহে মিশন ফর মাইগ্যান্ট ওয়াকার্স, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (হংকং), ওপেন ডোর, উইমেন ওয়াকার অ্যাসোসিয়েশন এবং হংকং কোয়ালিশন ফর ট্রেড ইউনিয়নের মতো অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সুলিত্যয়ানিংগিসের প্রতি ন্যায়বিচারে দাবিতে প্রচারণা চালায়। গত সপ্তাহের প্রতিবাদ-প্রচারণার সময়েই জানা যায়, হংকংয়ের পুলিশ অভিবাসী গৃহকর্মীদের ব্যাপারে কী পরিমাণ অবহেলা করে! কয়েক মাস আগে কার্তিকা পুষ্পিতাসারি'র ঘটনার সময়েই এ বিষয় নিয়ে একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল।

An info-graphic showing exploitative policy concerning foreign domestic worker. Image from campaign page: Justice for Erwiana! Justice for Migrant Domestic Workers!

বিদেশী গৃহকর্মীদের বিষয়ক নীতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র। ছবি নেয়া হয়েছে, ইরওয়ানার প্রতি ন্যায়বিচারের দাবিতে ফেসবুক পেজ জাস্টিজ ফর ইরওয়ানা!জাস্টিজ ফর মাইগ্যান্ট ডমেস্টিক ওয়াকার্স থেকে।

এটা পরিষ্কার যে, বিদেশী গৃহকর্মীদের এমন বিপদজনক পরিস্থিতি নিয়ে হংকং সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সম্প্রতি নতুন একটি প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটির নাম পোস্ট ৮৫২। এখানে গৃহকর্তা এবং গৃহকর্মীর ক্ষমতার ভারসাম্যতা নিয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে:

與大部份香港人不同,外傭在港其實是「叫天不應,叫地不聞」,處境特別危險。[…]外傭在香港根本「冇人冇物」,親友都在遠方的鄉下。所以,一旦受虐,根本不會有人知曉。事實上,即使外傭在港認識了其他同鄉,對方也未必知道自己的住址,只要僱主突然沒收其手提電話,外傭就會立刻與世隔絕。

এখানকার গৃহকর্মীরা স্থানীয়দের মতো না। তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাস করেন। তাদের অবস্থানও নড়বড়ে। […] বিদেশী গৃহকর্মীদের খুব কম বন্ধুই থাকে। তাদের পরিবারের কেউ-ই হংকং-এ থাকেন না। কেউ জানেই না যে সে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কোনো বিদেশী গৃহকর্মী কখনো যদি জানতেও পারেন তাদের পরিচিত কেউ হংকং-এ আছেন, তাহলেও তারা কেউ-ই কারো ঠিকানা জানেন না। গৃহকর্তা যদি কখনো তাদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেন, তাহলে তারা বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

Many kids joined the rally to support their nannies. Image from campaign page: Justice for Erwiana!

আয়াদের সমর্থন জানাতে অনেক শিশুই র‌্যালিতে যোগ দিয়েছে। ছবি নেয়া হয়েছে ইরওয়ানার প্রতি ন্যায়বিচারের দাবিতে ফেসবুক পেজ জাস্টিজ ফর ইরওয়ানা থেকে।

每間公司也會有「售後服務」,例如其公司就會免費為首次來港工作的印傭,提供最多兩次的家訪服務。不過,家訪的出發點並非為了確保印傭安全,而是幫忙解決僱傭雙方的語言障礙或合作問題(其實服務對象是以僱主為主)。更何況,假如僱主簽約時表明不需家訪服務,則公司也不會強求。

[নিয়মে আছে] প্রত্যেক এজেন্সি গৃহকর্মীদের বাড়িতে যাওয়ার টাকাপয়সা দিবেন। যদিও বাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার মধ্যে দিয়ে গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, তবে গৃহকর্তাদের সাথে গৃহকর্মীদের যোগাযোগের সমস্যা দূর হয়। এদিকে গৃহকর্তা গৃহকর্মীর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় “বাড়ি যাওয়া যাবে না” অপশন দেয়, তাহলে বাড়ি যাওয়া নিয়ে বাধ্যবাধকতা নেই।

其實,政府可立法強制中介公司定期家訪外傭,假如公司不遵守或敷衍了事,可被政府除牌。進一步說,政府更可直接由自己成立「外傭安全小組」作定期抽樣家訪,或要求外傭定期要到政府的辦事處面見職員。

এজেন্সিগুলোর জন্য সরকার চাইলে গৃহকর্মীদের বাড়ি যাওয়ার সময়ে টাকাপয়সা দেয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে দিতে পারে। কোনো এজেন্সি যদি এই শর্ত পালন না করে, তাহলে তারা নিবন্ধন পাবে না। সরকার নিজেও একটি টিম গঠন করতে পারে, যারা গৃহকর্মীদের বাড়ি যাওয়ার সময় টাকাপয়সা লেনদেনের বিষয়টি তদারকি করতে পারে। অথবা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে গৃহকর্মীদের সাক্ষাত্কারের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করেন এমন সংস্থা, ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস, হংকং পুলিশ এবং শ্রম বিভাগ চাপ দেয়ায় গত ২০ জানুয়ারি একটি তদন্তকারী দল ইন্দোনেশিয়ায় গেছে। সেখানে তারা ইরওয়ানা সুলিত্যয়ানিংগিসের জবানবন্দি নিয়েছেন। তদন্তের সুবিধার্থে হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি প্রতিবেদনগুলোও সংগ্রহ করেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .