বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভিয়েতনামি ব্লগার লি কুয়ক কুয়ানকে আটক করায় মার্কিন বিশেষজ্ঞের নিন্দা

wpid-le_quoc_quan

জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার দল প্রমাণ পেয়েছে, ভিয়েতনামি ব্লগার এবং মানবাধিকার সমর্থক লি কুয়ক কুয়ানকে তাঁর বাকস্বাধীনতার অধিকার এবং ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত করে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে লি কুয়ক কুয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়। তাঁর বৈধ মানবাধিকার বিষয়ক কাজকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারের দু’মাস পর পর্যন্ত তাকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তাকে তাঁর আইনজীবীর সাথে দেখা করার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। বিচারের দিন ধার্য করার আগ পর্যন্ত তাকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথেও দেখা করতে দেয়া হয়নি।

এ বছরের অক্টোবর মাসে কুয়ানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় ও ১.২ বিলিয়ন ডং (হিসাব মতে ৫৯ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা ধার্য করা হয়। কুয়ান এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বিচারের দিন ধার্য করা হয়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীনে একটি নির্বিচারে আটক বিষয়ক জাতিসংঘের কার্যনির্বাহী দল গঠন করা হয়েছে। দলটি বলেছে যে, কুয়ানের শাস্তির বিষয়টি “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর শান্তিপূর্ণ চর্চার ফলাফল” হতে পারে। এটি “নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে লেখা তাঁর ব্লগ কলামের সাথে সম্পর্কিত” হতে পারে। কার্যনির্বাহী দলের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছেঃ

একজন মানবাধিকার সমর্থক এবং ব্লগার হিসেবে জনাব কুয়ানের ইতিহাস অনুযায়ী, এই শাস্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অভিশংসনের পরিণামে তাকে শাস্তি দেয়া হতে পারে। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে যে আন্তর্জাতিক আইনসম্মত চুক্তিপত্র রয়েছে, তাঁর ১৯ নম্বর ধারার অধীনে তাঁর অধিকার আদায়ের জন্য এবং অন্যদেরকে এমনটি করা থেকে বিরত রাখার জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হতে পারে।

কার্যনির্বাহী দল অতিসত্বর কুয়ানের মুক্তি চেয়েছে। স্বেচ্ছাচারীভাবে তাকে শাস্তি প্রদান করায় তিনি যেসকল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁর জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশও করেছে। দলটির এই সিদ্ধান্তের পরপরেই মিডিয়া লিগ্যাল ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ এবং মানবাধিকার এনজিওগুলোর একটি যুক্তফ্রন্ট ২০১৩ সালের মার্চ মাসে একটি আবেদন দাখিল করেছে।

ভিয়েতনামের সরকার জনাব কুয়ানকে ব্লগার এবং মানবাধিকার সমর্থক হিসেবে তাঁর কার্যক্রমের জন্য অনেকদিন ধরে হয়রানি করে আসছিল। তাকে বেশ কয়েকবার শাস্তি দেয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে তাকে বেশ কিছু দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে কড়া নজরে রাখা হয়েছিল। তার ওপর শারীরিক আক্রমণও চালানো হয়। জাতিসংঘের কার্যনির্বাহী দলের সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, কেবলমাত্র তাঁর বাকস্বাধীনতা চর্চা বাঁধাগ্রস্ত করতে লি কুয়ক কুয়ানকে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্পৃক্ততার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার সমর্থক হিসেবে তাঁর অধিকারকে অন্যায্য এবং অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভিয়েতনাম পটভূমির উপর আন্তর্জাতিক চাপ কুয়ানের মুক্তি চেয়েছে। অধিকারের প্রবক্তারা আশা করে, ভিয়েতনামের সরকার যতো দ্রুত সম্ভব এই পরিস্থিতির প্রতিকার করবে। 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .