বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বেনিনে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ

 [অন্যকোন নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ মূল পাঠাংশটি সবগুলো লিংকের স্বত্বাধিকারী।]

Travailler à la bougie- Photo de l'auteur avec sa permission

মধ্যরাতের তেল পোড়ানো – ছবিটি লেখক অনুমতিক্রমে ব্যবহার করেছেন।

বেশকিছু দিন যাবৎ বেনিনে আবারো বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

এক দীর্ঘ নীরবতার পর বেনিন বিদ্যুৎ শক্তি কোম্পানির (এসবিইই) বিদ্যুৎ উৎপাদন বিভাগের পরিচালক সাটুরনিন ইয়েদোনোউ জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কোম্পানির সকল দায়ভার অস্বীকার করেছেন।

ইয়েদোনোউয়ের মতে, বেনিনে বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে রয়েছে নাইজেরিয়া। কেননা বেনিনের বিদ্যুতের সরবরাহের কিছু অংশ নাইজেরিয়া থেকে আসে। তাদের গ্যাস চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হতে পারেঃ 

Selon le directeur, ces difficultés ont fait baisser la puissance d’énergie produite par le géant voisin de l’Est et dont dépend le Bénin. [..] Face à cette situation, le directeur Saturnin YEDONOU a invité les populations à comprendre que les désagréments qu’elles subissent sont une fois encore indépendants de la volonté de la SBEE.

পরিচালকের মতে, এ সকল প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বেনিনের পূর্ব [নাইজেরিয়া] দিকের বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাষ্ট্রটির ওপর বেনিন বিদ্যুতের জন্য নির্ভরশীল। […] এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পরিচালক সাটুরনিন ইয়েদোনোউ জনগণকে বুঝতে অনুরোধ করেছেন যে, তাঁরা প্রতিকূল অবস্থার শিকার। তিনি এসবিইইয়ের ইচ্ছার স্বাধীনতা সম্বন্ধে আরো একবার জনগণকে ভাবতে অনুরোধ করেছেন।

নাইজেরিয়ার সাথে চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন

দেশটির জ্বালানী নীতি যদি ভঙ্গুর হয়ে থাকে তবে এই ভঙ্গুরতার একমাত্র কারন, দেশটি তাঁর বিশাল আয়তনের প্রতিবেশীর উপর এমনতর ব্যাপক পরিসরে নির্ভরশীল। সেই মতে, জনগণের জ্বালানীর যোগান দেয়ার দায়ভার কর্তৃপক্ষের। এই পরনির্ভরশীলতার ফলে আমাদের অর্থনীতি প্রভাবিত হচ্ছে এবং বেনিনের সাধারণ মানুষের কাজকর্ম ধীর হয়ে যাচ্ছে। নাইজেরিয়ার টিসিএন [স্প্যানিশ] লাইন এবং ঘানার ভিআরএ [স্প্যানিশ] লাইন থেকে বেনিনে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ২৩০ মেগা ওয়াট বিদ্যুতের যোগান দেয়া হচ্ছে। দেশটিতে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ তারা গত দশ বছর ধরে বিক্রি করে আসছে।   

তথাপি, বেনিনে জ্বালানী স্বল্পতা দেখা দেয়ায় নাইজেরিয়া এবং বেনিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অতঃপর এই চুক্তির আওতায় থাকায় কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে আলোকিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোটনু থেকে জোলোমি নিউজে রুদরিগ টোকপোদোনসি নিচে উল্লেখিত বিষয়টি লিখেছেনঃ 

A bien y voir, la sortie tardive Saturnin Yèdonou n'apporte rien de concret. Car ce qui importe pour les Béninois, c'est de savoir jusqu'à quand va durer leur misère et quelles sont les dispositions que prennent les autorités pour les en épargner à l'avenir.

সাটুরনিন ইয়েদোনোউয়ের বিলম্বিত এই প্রত্যুত্তরটি একেবারেই স্পষ্ট নয়। বেনিনের জনসাধারনের যা জানা প্রয়োজন তা হচ্ছে, তাদের এই দুরবস্থা আর কতদিন দীর্ঘ হবে ? তাদেরকে এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি দিতে কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎে কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ?

উক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী মনে হলেও সত্যবর্জিত নয়

বেনিন নাইজেরিয়ার ওপর যে কারণে নির্ভরশীল, চলুন, নাইজেরিয়ায় সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে আরেকটু বেশী অনুসন্ধান চালাই। শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশী, অর্থাৎ প্রায় ১০০ মিলিয়ন নাইজেরিয়ার নাগরিক এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নাইজেরিয়ার অর্ধেক জনগণ যারা গ্রামাঞ্চলে বাস করে, তাদের এই সুবিধা নেই।

তথাপি, সম্পূর্ণ একটি দেশ (বেনিন) তাঁর জ্বালানী চাহিদার জন্য পূর্বাঞ্চলের বিশাল আয়তন নাইজেরিয়ার ওপর নির্ভরশীল। এমনকি যদিও নাইজেরিয়া তাঁর নিজের জনগণের চাহিদা মেটাতে গিয়েই চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে এই পরিস্থিতি চলে আসছে।

আমরা যদি আমাদের স্মৃতিকে সতেজ করি তবে মনে করতে পারবো, আফ্রিকার সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়াতে এই পরিস্থিতিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় সমগ্র এলাকাটিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ লোক দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। এদের মধ্যে যারা বিদ্যুৎ সুবিধা নিতে সক্ষম হয়েছে, তারাও প্রতি দিন বিদ্যুৎ ঘাটতির শিকার হচ্ছে।

সবশেষে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে, বেনিনের জ্বালানী সমস্যা নিরসন এখনো বেশ দূরে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .