বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাচারকারীরা সিনাই-এ চোরাই শরণার্থীদের একে অন্যকে ধর্ষণে বাধ্য করছে

বিগত পাঁচ বছরে মিশরের সিনাই এলাকায় প্রায় ৩০,০০০ নাগরিককে পাচার করা হয়েছে । কায়রো ভিত্তিক সাংবাদিক বেল ট্রিউ এক সংবাদ সম্মেলন থেকে বিষয়টির উপর টুইট করেছে, “খুবই কম গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রদান করা একটি বিষয়ের” উপর নজর প্রদান করার জন্য।

তিনি টুইট করেন:

সিনাই-এ মানব পাচারকারী এক সংবাদ সম্মেলনে: খুবই কম গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রদান করা একটি বিষয়।

বেল ট্রিউ নামের ভদ্রমহিলা ব্যাখ্যা করছেন:

৩০ জুন থেকে মানব পাচার বিষয়ে সিনাই ক্রমে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং এতে সিনাই এলাকায় মানব পাচারের ঘটনায় বিশাল এক প্রভাব তৈরী করেছে।

আর এরপর তিনি বিস্ময়কর তথ্য সরবরাহ করেন:

সিনাই–এ ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ জন মানুষ পাচার করা হয়েছে।

পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ ছিল ইরিত্রিয়ার নাগরিক:

পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫% ছিল ইরিত্রিয়ার বাসিন্দা, যেখানে অনেক তরুণ সামরিক বাহিনীতে কাজের ভয়ে পালানোর, ইরিত্রিয়া থেকে ব্যাপকহারে এলাকা ত্যাগ করছে, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে।

এক সিরিজ টুইটে ট্রিউ পচার হওয়া এই সমস্ত ব্যক্তিরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায় তার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন :

পাচারকারীরা ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ফোন প্রদান করে যাতে তারা তাদের বাসায় ফোন করে, পরিবারের লোকেরা যাতে দ্রুত আরো টাকা প্রদান করে এর জন্য তাদের উপর প্রায়শ অত্যাচার করা হয়।

এই পাচারের ঘটনা ইরিত্রিয়ায় ভয়াবহ প্রভাব তৈরী করছে। মুক্তিপণ সংগ্রহের ঘটনা দরিদ্র এলাকাকে আরো চরম দারিদ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ঝুলানো হয়, শরীরে বিদ্যুৎ চালনা করা হয়, দেহের অঙ্গ কর্তন করা হয়, বোতল গলিয়ে চামড়া ঝলসানো হয়, ঘটনার শিকার অন্যদের ধর্ষণে বাধ্য করা হয়, তাদের পাচারকারীদের ধর্ষণের শিকার হতে হয়।

পাচারের শিকার নারীরা প্রায়শ বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের পর সিনাই-এর যন্ত্রণা গৃহে গর্ভবতী অবস্থায় পরিত্যাক্ত হয়।

সে এক শরণার্থীর করুণ সাক্ষ্য তুলে ধরেছে :

এই মাত্র পাচারের শিকার একজনের কাহিনী শুনলাম, যার জন্ম ১৯৯৩ সালে, তাকে পাচারের শিকার আরেকজনকে ধর্ষণ করতে বাধ্য করা হয়, শরীরে লোহার রডের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

পাচারের শিকার আরেকটি ঘটনার কথা জানাচ্ছে যে কি ভাবে তার এক বন্ধুর মাথা বাজে ভাবে পোড়ানো হয়, পোড়া এই ঘায়ের মাঝে পোকা বাস করা শুরু করে এবং সে মারা যায়।

পাচারের শিকার ব্যক্তি, “তারা কাঁচি দিয়ে আমাদের আঘাত করত, আমার জিহ্বা এবং গোপন অঙ্গে বিদ্যুৎ চালনা করে। একে অন্যকে ধর্ষণে বাধ্য করে। আমার তলপেট পুড়িয়ে দেয়”।

পাচারের শিকার ব্যক্তি, “ তারা দুইদিন ধরে আমার ২ মৃত বন্ধুর মৃতদেহ সহ আমাদের স্টোরে রেখে যায়, এরপর তারা মৃতদেহগুলোকে কুকুরকে খাইয়ে দেয়।

ট্রেউ যোগ করছে, এটা শেষ নয়:

যে সমস্ত শরণার্থীরা পাচারের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হয়, তারা প্রায়শ তাদের মিশরীয় অথবা ইজরায়েলী কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়, এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়, তারপর তাদের এলাকা ত্যাগের ফি নিজেদের প্রদান করতে হয়।

পাচারের শিকার ব্যক্তিরা যদি রাজধানী কায়রোতে পালাতে সক্ষম হয়, তখন রাজধানীতে থাকা অবস্থায়ও উক্ত পাচারকারীরা তাদের হুমকি দিতে থাকে।

এই বিষয়ে আরো পাঠের জন্য:

জাদালিইয়া: সিনাই-এ মানব পাচার: শরণার্থীরা জীবন মৃত্যুর মাঝে।

স্পেইজেল অনলাইন: বন্দিত্ব, অত্যাচার, খুন: সিনাই উপত্যকায় মানব পাচার বৃদ্ধি।

দরখাস্তে স্বাক্ষর করুন :

সিনাই-এ, মানব পাচার রোধে কার্যক্রম গ্রহণ করুন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .