বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নাইজারের এতিমদের জন্য উদ্বেগঃ “আমরা কীভাবে উদাসীন থাকতে পারি ?”

“বিশ্বের শিশুদের রাজ্য” নামক ইউনিসেফের বার্ষিক রিপোর্টে প্রকাশিত একটি পরিমিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, নাইজার দেশটির প্রায় ১৭ মিলিয়নের কাছাকাছি জনসংখ্যার মধ্যে ৯ লক্ষ ৭০ হাজার এতিম শিশু দেশটির সীমানার ভিতরে বসবাস করছে। তাদের পিতামাতার মধ্যে একজন বা উভয়েই মারা যাওয়ায় তাদেরকে এতিম হিসেবে গণনা করা হয়েছে। তারা জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে পারে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যে আছে, বিদ্যালয়ে কম উপস্থিতি এবং নিজেদের এবং অন্যান্য ভাইবোনদের জীবিকার জন্য এতো অল্প বয়সে কাজ করার বাধ্যবাধকতা।

ইউনিসেফের তৈরি করা এই ভিডিওটিতে ১৫ বছরের একজন নাইজেরীয় কিশোরীর একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ভ্রাম্যমান বিক্রেতা হিসেবে তাকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এ কাজের সময়ে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক লোকেদের কাছ থেকে প্রায়ই অশোভন কুপ্রস্তাব শুনতে হয়। তাই এরপর সে ১২ বছর বয়সে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। অবশেষে পরিবারটি তাকে প্রচন্ড কটূক্তি করতো থাকলে তাকে সে বাড়িটিও ছাড়তে হয়ঃ

এসকল এতিমদের হৃদয়বিদারক গল্প, অনেক নাইজেরিয়ার অধিবাসীকেই প্রভাবিত করেছে। তাদের মাঝে একজন হলেন, রাইজিং ভয়েসেসের গৃহীত প্রকল্প, ম্যাপিং ফর নাইজারের একজন নতুন ব্লগার। আলোচ্য বিষয়টি তুলে ধরতে এই প্রকল্পটি বেছে নেয়া হয়েছে। ম্যাপিং ফর নাইজার নামের ব্লগটিতে ফাতিমান লিখেছেনঃ “নাইজার দেশটিতে এতিম হয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যা আমার হৃদয়ের খুব কাছে অবস্থান করে – কেননা আমি আমার চারপাশে অনেক এতিমদের নিয়ে বসবাস করি”।

অভিভাবকহীন জীবনে এতিমরা [ফ্রেঞ্চ] যে সব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, সেসব সমস্যার সম্পর্কে লিখতে যেয়ে তিনি আরো বলেছেনঃ

Mais malheureusement je constate que l’orphelin, quelque soit la société, vit dans des problèmes sérieux de plusieurs ordres. Surtout au niveau de l’éducation, car n’ayant pas profité de l’amour parental. Il s’est trouvé sans modèle, sans guide ou maitre qui soit le garant de son avenir et de son devenir. Par ailleurs, il faut aussi rappeler que la famille constitue le premier moyen pour l’enfant de s’épanouir. La société vient en second lieu. Et en plus ce dernier reste toujours insensible à la situation des orphelins, pire, elle les utilise pour d’autres fins. A ce niveau, les enfants orphelins sont voués à plusieurs phénomènes sociaux tels que : le grand banditisme, la délinquance juvénile, les travaux forcés, l’esclavage moderne. Cet ainsi que les enfants issus des milieux défavorables sont les plus touchés, car n’ayant aucun revenu dans ce monde purement matérialiste et capitaliste.

দুর্ভাগ্যবশত: যেকোন সমাজে বসবাসকারী এতিমরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর সমস্যা নিয়ে জীবন কাটায়। বিশেষকরে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং পিতামাতার ভালোবাসা ছাড়া জীবন কাটাতে যেয়ে তারা বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়। এই এতিম শিশুরা নিজেদেরকে অনুকরনীয় ব্যক্তি বা আদর্শ, পথপ্রদর্শক বা নিয়ন্ত্রণকারী হতে বঞ্চিত বলে মনে করে। তারা তাদেরকে একটি ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যাশার নিশ্চয়তা দিতে পারতো। সবাইকে এটাও মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর প্রস্ফুট হওয়ার প্রথম পথই হচ্ছে তাঁর পরিবার। সমাজ এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আর আমাদের সমাজটি এমন, যা তাদের অবস্থা সম্পর্কে ক্রমাগতভাবেই উদাসীন এবং তাদের এই পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তোলে। কখনো কখনো এই সমাজ তাদেরকে অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কাজেও ব্যবহার করে থাকে। পরিশেষে এতিম শিশুরা সংগঠিত অপরাধ, কিশোর অপরাধ, জোরপূর্বক শ্রম প্রদান, আধুনিক দাসত্ব সহ নানারকম সামাজিক ঘটনার শিকার হতে পারে। এভাবে সেই এতিম শিশুরা সবচেয়ে জঘন্য পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে এসে পরিপূর্ণপভাবে বস্তুতান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক এই বিশ্বে কোন আয় উপার্জন ছাড়া সবচেয়ে বেশী ধুঁকে ধুঁকে জীবন যাপন করবে।

এসব এতিমদের মুক্তি দিতে এবং যত্ন নিতে নাইজারের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। মুসলিম এবং ক্যাথোলিক উভয় প্রতিষ্ঠানই বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানে সাহায্য করে। সেখানে এতিম শিশুরা খাবার এবং আশ্রয় পেয়ে থাকে। একটি কাতার-ভিত্তিক সংস্থার সাহায্যে নির্মিত অন্যতম একটি এতিমখানার ছবি তুলেছেন আলহার। এতিমখানাটি তাঁর বাড়ির কাছেই অবস্থিতঃ

Photo of orphanage in rural Niger taken by Alher

নাইজারের গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা একটি এতিম খানার ছবি। ছবিটি তুলেছেন আলহার, যা অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

ফাতিমান একটি ভাবগম্ভীর এবং চিন্তাশীল প্রশ্ন [ফ্রেঞ্চ] জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত করেছেনঃ

En définitive, il faut noter que l’orphelin, en tant qu’être délaissé pour son propre compte, est exposé à des sérieux problèmes. Cependant, le soutien de l’État reste à désirer dans ce sens, bien que la situation des orphelins doive toucher au plus profond de notre humanisme. Comment rester insensible face à la situation que vivent les orphelins du monde?

সবশেষে যখন সকলের দেনা পাওনার হিসেব মেলানো হবে, তখন আমাদের বলতে হবে একজন এতিমকে ভয়ঙ্কর সমস্যার মাঝে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তাদের জন্য রাষ্ট্র প্রদত্ত সাহায্য সন্তোষজনক নয়। এমনকি যদিও এতিম শিশুদের এই অবস্থা আমাদের মানবতার প্রগাঢ় গভীরতাকে সর্বোতভাবে স্পর্শ করে। বিশ্বের এ সকল এতিম শিশুদের জীবনের এহেন অবস্থা সম্পর্কে আমরা কীভাবে উদাসীন থাকতে পারি?

এই পোস্টের উদ্ধৃতাংশ অনুবাদ করার জন্য লরা মরিসকে বিশেষ ধন্যবাদ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .