বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাফা সীমান্তের দুর্ভোগ বন্ধের আহবান গাজাবাসীর

"In Gaza, all our dreams end at the Rafah Border." Designed by Mohammed Abdulrahman. Shared on Twitter by @AlaaAlShokri

“গাজাবাসীর সব স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে রাফা সীমান্তে।” ডিজাইন করেছেন মোহাম্মদ আব্দুলরাহমান। টুইটারে শেয়ার করেছেন @AlaaAlShokri

প্যালেস্টাইনের গাজা থেকে মিশরে যেতে সব স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে রাফা সীমান্ত পার হতে গিয়ে। কারণ মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি'র পতনের পর থেকে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্ত বন্ধ করে রাখে। আর এর ফলে প্যালেস্টাইনের যেসব শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় গাজার বাইরে অবস্থিত, তারা সেখানে যেতে পারছেন না। তারা রাফা অতিক্রম করতে গিয়ে সেখানে আটকে পড়েন। ইসরায়েলী অবরোধের ফলে ১.৭ মিলিয়ন প্যালেস্টাইনবাসীর এটাই মূল সীমান্ত, যেখান দিয়ে তারা পার হতে পারেন।

গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার [১৮-১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩] রাফা সীমান্ত সামান্য সময়ের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল। বুধবারে ৩৩৩ জন সীমান্ত পার হয়েছেন; আর বৃহস্পতিবারে ৫৫৭ জন সীমান্ত পার হয়ে মিশরে গিয়েছেন। তবে ওই দুইদিন আরো ১২০০ জন সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে জানিয়েছে রাফা সীমান্তের অফিসিয়াল পেজ। এদের মধ্যে শ'খানেক প্যালেস্টাইন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

গত বুধবারে (১৮ সেপ্টেম্বর) সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবিতে একদল প্যালেস্টাইনি শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, যাতে তারা বাদ পড়া ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এদের অনেকেই সীমান্তে আটকে পড়েছিলেন।

এদের মধ্যে শাহদ আবু সালামাহ'র ছিলেন। তিনি এ ঘটনা নিয়ে ব্লগও লিখেছেন। আবু সালামাহ তুরস্কে পড়ালেখা করেন। তিনি টুইট করেছেন:

প্রিয় #রাফাসীমান্ত পারাপার, তুমি সবকিছু থেকেই আমার সমস্ত শক্তিকে নি:শেষ করে দিয়েছো। সবকিছু থেকেই আমাকে মুক্তি দিয়েছো। এখন আমি সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি! নির্ঘুম রাত কাটে আমার। দোহাই লাগে, আমাকে মুক্তি দাও। আমাকে উদ্ধার করো।

তার ব্লগে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন:

রাফা সীমান্ত বন্ধের দু:সহ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে লিখতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। মিশরীয়দের এই বন্ধের খেলা নিয়ে অনেকবারই লিখেছি। সীমান্ত পারাপার বন্ধ করলে গাজার হাজার হাজার নাগরিক আটকে পড়ে। প্রত্যেকবারই এটা আমাকে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে বাধ্য করে। আমার অনুভূতিকে অসাড় করে ফেলে। শেষমেশ কান্না হয়ে এর সমাপ্তি ঘটে। লিখে আমার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে আনা খুবই কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। গাজাবাসী প্রত্যহ যে পরিমাণ দুর্ভোগ-যন্ত্রণা সয়, তা কোনো শব্দের পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাই ইসরায়েল-মিশরীয়দের আটকাবস্থায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাচ্ছি।

আমি যেহেতু লিখতে পারছি, তাই মনে করছি, কোথাও মুক্ত আকাশ রয়েছে, মেঘেরা ইচ্ছেমতো ঘুরছে। এর মধ্যে দিয়ে আমি আমার স্নাতক পড়াশুনার শুরুর জন্য ইস্তাম্বুলে উড়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি আমার বিমান ধরতে পারিনি। গাজায় আটকে পড়ে আছি। এখানে জ্বালানি সমস্যার মোকাবেলায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমি ঘোর অন্ধকারে বসে আছি। ল্যাপটপের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই চেষ্টা করছি আমার চিন্তাভাবনাগুলো লিখে রাখার।

তিনি তার পোস্ট শেষ করেছেন এই বলে:

এই অভিজ্ঞতা থেকে আমার বিশ্বাস জন্মেছে, মানুষের মর্যাদা আসলে কৌতুক ছাড়া আর কিছু নয়! আন্তর্জাতিক আইনকানুন বইয়ে মুদ্রিত নির্জীব শব্দের ফাঁকা বুলি! আমরা আন্দোলনের স্বাধীনতার অধিকার, শিক্ষা-দীক্ষায় অনুপ্রাণিত করার অধিকার, ভালো মানের চিকিৎসাসেবা পাবার অধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করার অধিকারকে প্রত্যাখান করেছি। কিন্তু এই আইনটাকে ঘাঁটানোর মতো কোনো শক্তিই আমাদের কারো নেই।

[…]

রাফা সীমান্ত নিয়মিতভাবে বন্ধ হওয়ার কারণে আমাদের মানুষজন প্রায়ই দুর্ভোগে পড়ছে। এই সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। গাজায় বসবাস করা এখন কারাগারে আস্তে আস্তে মরে যাওয়ার সমতুল্য হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মুক্ত করার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানাই। আমরা প্রতিদিন যে মানবেতর জীবনের মুখোমুখি হই, তা রোধ করার এখনই সময়।

মালেকা মোহাম্মদ গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক করেছেন। এখন ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আইনে বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তিনি ইলেক্ট্রনিক ইন্তিফাদা'য় তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন:

“আমরা এক রুমে ১৮০০ জন যাত্রী ছিলাম। ১০ ঘণ্টা আন্দোলনের পরে একজন পুলিশ অফিসার আমাদের জানালেন: “আপনারা এখন চলে যান। আমাদের কাজ আজকের মতো শেষ হয়েছে। কালকে আসুন। তখন আপনারা সীমান্ত পার হতে পারবেন।””

ওবাইদা আয়নালদিন নামের গাজার আরেক শিক্ষার্থীও তুরস্কে যেতে চেয়েছিল পড়ার জন্য। কিন্তু যেতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সে ব্লগ লিখেছে:

ظللنا ننتظر الساعة تلو الاخرى، بلا فائدة، حتى إنتهى دوام الموظفين دون فائدة تذكر للطلاب سوى تسجيل أسمائهم بطريقة فوضوية مزعجة.
في سياق اخر وجدنا كثيرًا من الحالات الإنسانية العالقة، شخص كبير يبكي بكاءًا حارًا لأن مديره في العمل هدده بالطرد إن لم يصل خلال اسبوع، والآخر طالب طب يندب حظه لأنه تأخر عن إمتحانه المؤجل وعليه أن يعيد السنة كاملة

আমরা সময় নিয়ে অপেক্ষা করছি, আর করেই যাচ্ছি। এই সময়টাকে আমরা কোনো কাজেই লাগাতে পারছি না। প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের সুবিধা না দিয়েই তাদের কার্যক্রম শেষ করছে। যদিও তারা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আমাদের নাম নিবন্ধন করতে বলেছে। অন্যদিকে আমরা অনেক মানবাধিকার পরিস্থিতির ঘটনা ঘটতে দেখেছি। একজন বৃদ্ধ লোক কাঁদছিল, কারণ এই সপ্তাহের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে তাকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়েছে তার ম্যানেজার।

আবার এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর কপাল এতটাই খারাপ যে, সে তার বিলম্বিত পরীক্ষাতেও যোগ দিতে পারেনি। এখন তাকে পুরো বছরটাই আবার নতুন করে করতে হবে।

সীমান্ত খুলে দিতে আন্দোলনকারীরা আভাজ-এ পিটিশন খুলেছে। পিটিশন খোলার তিনদিনের মধ্যে ৬,০০০ মানুষ তাতে স্বাক্ষর করেছেন।

মিশরের মুরসি সরকারকে উত্খাতের পর তিনবারের বেশি সীমান্ত বন্ধ হয়েছে। এখন গাজা আর মিশরের মধ্যে এই রাফা সীমান্ত কয়েক ঘণ্টার জন্য খুলে দেয়া হয়। তবে মিশর এবং ইসরায়েলের মধ্যেকার তাবা সীমান্ত সবসময় খোলা থাকে। তাই ইসরায়েল এবং মিশর, এই দুই দিক দিয়েই গাজা অবরুদ্ধ থাকে। ফলে গাজার অধিবাসীরা বাইরে বের হতে এবং ঢুকতে প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। শিক্ষার্থীরাও এই সমস্যায় পড়ে থাকেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .