বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাশিয়ার সত্যিকারের প্রতীক: একটি চেচেন মসজিদ?

"Heart of Chechnya" mosque in Grozny, Chechnya, photo by Andre Maiakinfo, 17 October 2008, CC 3.0.

“হার্ট অফ চেচনিয়া” চেচনিয়া,গ্রোজনির মসজিদ, ছবি আন্দ্রে মিয়াকিনফো,১৭ অক্টোবর ২০০৮, সিসি ৩.০।

রাশিয়ার তুলনামুলক কম পরিচিত ১০ টি আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র (আর এর অনুরূপ স্থাপত্য মস্কো পার্কে স্থাপন করা হবে) নিয়ে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দফা ভোট গণনা ৩১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে সংঘর্ষে রূপ নেয়, যখন গ্রোজনির একদল জনতা ভোট প্রদানের জন্য যে সমস্ত মোবাইল কোম্পানিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তাদের অফিসে ডিম ছুড়ে মারে। রাশিয়ার প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল এবং জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি এই প্রতিযোগিতার স্পৃষ্ঠপোষক, যা কিনা জুলাই মাসে শুরু হয় তেমন কোন প্রভাব এবং এমনকি সামান্য অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। তবে আগস্ট মাসে চেচনিয়ার প্রধান রামজান কাদিরভ গ্রোজনির প্রধান মসজিদের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তার অনুসারীদের ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করতে থাকেন।

দ্বিতীয় দফা প্রতিযোগিতার যতই চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, ততই তালিকায় কাদিরভের মসজিদ এবং কোলমনা এলাকার ক্রেমলিন ( এটি মস্কোর ৬০ মাইল দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত) -এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়। এতে হার্ট অফ চেচনিয়া নামের মসজিদ খুব স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত হয় এবং প্রায় সাথে সাথে কাদিরভ নীচের বার্তাসহ মসজিদের সাদাকালো একটি ছবি তার ইনস্টগ্রামে একাউন্টে পোস্ট করে :

Поэтому мы им заявили что это ничто иное, как откровенное мошенничество. Более того, мы не исключаем, что это искусственные препоны с целью не допустить занятия Сердцем Чечни первого места.

এই কারণে আমরা তাদেরকে বলছি যে এটা এক নিষ্ঠুর প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না, এই বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না যে হার্ট অফ চেচনিয়াকে প্রথম স্থানে উঠে আসতে না দেওয়ার জন্য এ সমস্ত হচ্ছে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা।

ব্লগার ওলেগ কোজিরভ এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার এই পোস্টের শিরোনাম দেয় “চেচেনিয়া এক নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য” এবং এতে সে লেখে:

Если вы за честные выборы – помогайте тем, кто за них борется, не помогайте тем, кто выборы уничтожает.

যদি আপনি নিরপেক্ষ নির্বাচন চান – তাহলে এর জন্য যারা লড়াই করছে তাদের সাহায্য করুন, তাদের সাহায্য করবেন না যারা তা ধ্বংস করছে।

তবে, অনেক রুশ নাগরিক এমনকি জানে না যা রাশিয়ার ১০টি এলাকা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। কোজরভের ব্লগে একজন মন্তব্যকারী খানিকটা বিভ্রান্তের সাথে মন্তব্য করেছে:

Что это было? Вы с кем это сейчас разговаривали?

বিষয়টি কি? আপনারা কি নিয়ে কথা বলছেন?

Ramzan Kadyrov shows off his horse riding skills, 29 August 2013, screen capture from YouTube.

২৯ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে রমজান কাদিরভ তার ঘোড়সওয়ারের দক্ষতা প্রদর্শন করছে, ছবিটি ইউটিউব থেকে নেওয়া।

আরেকজন পাঠক উল্লেখ করছে:

посмотрите правде в глаза!!! Погромщики-чеченцы, не за честные выборы, а за победу своего кандидата (в данном случае – мечети), любой ценой)))

আসুন বিষয়টি মোকাবেলা করি!!! দাঙ্গাকারী-চেচেনরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না, তার বদলে তারা যে কোন মূল্যে তাদের প্রার্থীর (আর এক্ষেত্রে -মসজিদের) জয় চায় )))

আরেকজন মন্তব্যকারী জানতে চায় নাগরিকদের কাছে ভোট দেওয়ার জন্য অর্থ কোথা থেকে এলো (যেখানে ভোটের জন্য প্রতিটি এসএমএস-এর মূল্য ৩.৫৪ রুবেল) ):

Мне больше интересно, из какого бюджета была оплачена стоимость почти 40 млн. смсок из чечни. Очень уж я сомневаюсь, что все чеченцы в едином порыве стали отправлять по нескольку десятков смс по призыву кадырова.

আমি এই বিষয়টি জানতে বেশী ইচ্ছুক যে চেচনিয়া থেকে আসা প্রায় ৪ কোটি টেক্সট মেসেজের টাকা কে প্রদান করল। সকল চেচেন নাগরিক কাদিরভের জন্য ব্যস্ত সমস্ত হয়ে ডজন ডজন এসএমএস পাঠিয়েছে, এ ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে ব্লগার ওক্সানা ভালভা অভিযোগ করছে :

Символом России для большинства может быть медведь, матрешки или, на худой конец, балалайки, но никак не главный символ Ислама, а это уже, друзья мои, ничем не прикрытый призыв к оккупации и исламизации, чего Кадыров явно не “чурается”.

রাশিয়ার প্রতীক হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত সম্ভবত একটি ভাল্লুক, একটি মাট্রোসকা পুতুল অথবা যদি আরো বাজে কোন প্রতীক হয় সেটা হবে বালালাইকা নামের বাদ্যযন্ত্র, কিন্তু ইসলামের কোন প্রধান প্রতীক নয়। আর আমার বন্ধুরা, এটি ইতোমধ্যে সরাসরি দখল এবং ইসলামীকরণের আহ্বান, যে কাজে পরিষ্কারভাবে কাদিরভের কোন “লজ্জাবোধ” নেই।

একজন পাঠক বিস্মিত:

А теперь простой вопрос: кто вообще додумался включить мечеть в список символов России? Кто затеял очевидную и неприкрытую провокацию?

আর এখন একটি সহজ প্রশ্ন: রাশিয়ার প্রতীক হিসেবে একটি মসজিদের নাম অর্ন্তভুক্ত করার চিন্তাটা আসলে কার? কার মাধ্যমে এই আক্রমণ এবং উত্তেজনার শুরু ?

ব্লগার আলেক্সি ফ্রিম্যান গ্রোজনিতে মোবাইল অপারেটরের অফিসে ডিম ছুড়ে মারার বিষয়টিকে একটি “কর্মসূচি” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং লিখেছে:

Вообще-то эти деяния подпадают под УК РФ, но, как известно, далеко не все законы РФ действуют на территории Чечни.

বাস্তবতা হচ্ছে, রুশ ফেডারেশনের আইন অনুসারে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু আপনারা জানেন যে রুশ ফেডারেশনের সকল আইন চেচনিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়।

তিনি একই সাথে উল্লেখ করেন যে কেবল বিলাইন বা মেগাফোন নামক মোবাইল অপারেটর নয়, সকল মোবাইল কোম্পানীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটেছে।

Интересный момент: проблемы с обработкой SMS были от всех компаний, а под огонь критики попали только «Билайн» и «Мегафон». Очевидно, что Кадыров пытается удалить с рынка компании, которые неподконтрольны ему.

একটি কৌতূহলজনক বিষয় : সকল মোবাইল কোম্পানীর এসএমএস প্রক্রিয়া সমস্যা থাকলেও কেবল বিলাইন এবং মেগাফোন চাপের মধ্যে পড়ে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, কাদিরভ এই দুটি কোম্পানিকে বাজার থেকে তাড়াতে চাইছে, যাদের উপর তার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

জনপ্রিয় ব্লগার ইলিয়া ভারলামভ স্বীকার করেছে যে তার নিজেরও রাশিয়ার এই ১০ টি জায়গা নিয়ে চলা প্রতিযোগিতা সম্বন্ধে সচেতন ছিল না, তবে সে দ্রুত এই প্রতিযোগিতাকে খারিজ করে দেয়। বেড়া দিয়ে ঘেরা মস্কো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের একপাশ, কয়েকটা বাড়ির বাইরের শৌচাগার এবং করমর্দন রত একটি প্রহরীর আশ্রয়স্থলের ছবি প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে ভারলামোভ রসিকতা করেছে :

Настоящий символ России это ни мечеть и ни Кремль. Настоящий символ России – это забор, биотуалет и охранник, сторожащий камень. Все остальное суета.

মসজিদ বা ক্রেমলিন কোনটাই রাশিয়ার সত্যিকারের প্রতীক নয়। রাশিয়ার প্রতীক হচ্ছে বেড়া, গৃহের বাইরের শৌচাগার এবং একজন প্রহরী যে কিনা পাথরের উপর দাড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। বাকি সবকিছু অন্তসারশূন্য।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ২ সোমবা্‌ রাশিয়া ১০ ওয়েবসাইট, একটি বার্তা পোস্ট করেছে, যেখানে তারা তৃতীয় দফা ভোট প্রদানে দেরি হবার কথা ঘোষণা করে, যেহেতু দ্বিতীয় দফা ভোট গণনার বিষয়টি নিরীক্ষণ করা হচ্ছে।

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ করা হয়েছে।