বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

থাইল্যান্ডে গৃহহীন বিদেশীর সংখ্যা বৃদ্ধি

A homeless person in Bangkok. Image from Flickr user mikecogh (CC BY-SA 2.0)

ব্যাংককের একজন গৃহহীন। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী মাইক্ককগ-এর(সিসি বাই-এস ২.০)

দাইসারচন ফাউন্ডেশন নামের একটি দাতব্য গ্রুপের মতে থাইল্যান্ডে গৃহহীনের সংখ্যা ২০০-এর মত ক্রমশ বাড়ছে। এই গ্রুপের হিসেব মতে দেশটিতে এখন প্রায় গৃহহীন বিদেশীর বাস। ইসারচান ফাউন্ডেশনের নাটি সারাভারির এই পর্যবেক্ষণ করেছে

পাতায়াতে, ম্যাকডোনাল্ড-এর সামনে আমরা সেই সমস্ত গৃহহীন বিদেশীদের দেখি তারা খাবারের সন্ধানে আবর্জনা হাতড়াচ্ছে, এবং রেস্তোরাঁর সমানে খদ্দেরদের কাছে অর্থ ভিক্ষা চায়।

পল গ্রেইগান, থাইল্যান্ডে বাস করা এক বিদেশী নাগরিক, তিনি সম্ভাব্য কারণগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরী করেছে কেন থাইল্যান্ডের কয়েকজন বিদেশী শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে গৃহহীন হয়ে পড়ে:

অন্য অনেকের মত প্রথমে আমিও ভুলভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে আমার সমস্যার কারণ ছিল আমার চারপাশ আর তাই থাইল্যান্ডের মত ভিন্ন দেশ হয়ত আমার সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু তা ঘটেনি। আমার জীবনে পতন ঘটতে থাকল এবং আর আমার প্রায় মারা যাবার দশা হত, যদি না থাই নাগরিক এবং ২০০৬ সালে থামারবাক মঠ আমাকে সাহায্য না করত। আমি হয়ত খুব সহজেই থাইল্যান্ডের গৃহহীন এক বিদেশী নাগরিকে পরিণত হতাম।

যখন আমরা বিমান থেকে নামি,তখন মনে হতে পারে যে এখানে জীবনযাত্রায় সাধারণ আদর্শের প্রয়োগ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা থাই সংস্কৃতির এই নিয়মটাকে উপলব্ধি করি না যা আমাদের এক ভ্রান্ত ধারণা প্রদান করে যে, এখানে কোন নিয়ম নেই।

তিনি বিদেশী দূতাবাসসমূহকে আহ্বান জানান যেন তারা তাদের নাগরিকদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায়:

গৃহহীন বিদেশী নাগরিকরাও মানুষ এবং তারা টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। তাদের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ এবং তাদের সাহায্য করা উচিত। যতক্ষণ না এই সমস্ত নাগরিকরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে অথবা স্বদেশে পুনর্বাসিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্ত গৃহহীনদের আশ্রয় এবং খাবার প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে- স্বদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় তাদের যেন থাই জেলে পচে মরতে না হয়।

কিন্তু পাতায়ার পর্যটন পুলিশ প্রধান পিও১ লেফট্যানেন্ট কর্ণেল এ্যারোন প্রমফান তথ্য প্রদান করছে যে গৃহহীন বিদেশীদের প্রায়শই নিজ দেশের দূতাবাসগুলো সাহায্য করতে অনিচ্ছুক:

অনেক সময় আমি তাদের [দূতাবাসের কর্মকর্তাদের] বলি যে তাদের স্বদেশের নাগরিকদের কিছু মানসিক সমস্যা তৈরী হয়েছে, আর তাদের কাছে কোন অর্থ অবশিষ্ট নেই। আমি তাদের কাছে জানতে চাই, তাদের দেশের এই নাগরিক নিয়ে তারা আমাদের কি করতে বলে। আর আমি যে উত্তর পাই সেটে হচ্ছে এই যে আপনাকে কিছুই করতে হবে না। এই ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের কোন দায়িত্ব নেই।

বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার প্রদান করা সংবাদ অনুসারে, এই সমস্ত বিদেশীদের হয় তাদেরকে তাদের থাই সঙ্গী বা সঙ্গিনী পরিত্যাগ করে অথবা তারা ভিসা কিংবা পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়। ক্যাসি হাইন্স বিদেশী অধিবাসীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে নিজেদের সম্পদ হারানোর বিষয়টি এড়ানোর জন্য তার কি ধরনের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে:

যদিও গৃহহীন বিদেশীদের দুর্দশা দুর্ভাগ্যজনক, তারপরেও বিস্ময় হচ্ছে কেন তারা প্রথমেই এই সমস্ত পরিস্থিতি উপশম করার উদ্যোগ গ্রহণ করে না। বিদেশীদের পক্ষে থাইল্যান্ডে কনডোস কেনা সম্ভব, অথবা দীর্ঘ সময়ের জন্য কোন ভূমি ইজারা নিতে পারে, যার ফলে তারা তাদের যথাযথ কাগজপত্রের জন্য থাই স্ত্রী কিংবা বান্ধবীর উপর নির্ভর করা এড়াতে পারে। এবং এদিকে ভিসার জন্য দরখাস্ত করা এবং দৌড়ানো অনেক সময় ঝামেলার হয়, ভিসা এবং পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে না দেওয়াটা অনেক কম ঝামেলার, এই সব জটিলতার ফলে স্বদেশ এবং যে দেশে সে বাস করতে যাচ্ছে সেখানে তার আর সামান্য সুযোগ অবশিষ্ট থাকে।

ব্যাংকক ব্লগার আশা করছে যে কর্তৃপক্ষ বিদেশীদের আরো নিরাপত্তা প্রদানের জন্য স্থানীয় আইন পর্যালোচনা করে দেখবে:

এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে তাদের এই পরিস্থিতিতে মদ খাওয়ার তাড়নায় ভোগে, যার সবটাই পুরোপুরি এড়ানো যায়।

এই প্রবন্ধে এই বিষয়ে বলা হয়েছে যে বিদেশীরা থাই আইনে খুব সামান্যই নিরাপত্তা পায় এবং দেশটির উত্তর পশ্চিমের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলছেন যে বিদেশীদের নিরাপত্তা অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য থাই আইনকে সময় উপযোগী করা প্রয়োজন।

আশা করা যায় যে, আইন ক্ষমতাসীনরা এই বিষয়ে একমত হবেন।

দি ব্যাংকক পোস্টের এই সংবাদ এই বিষয়ে কৌতূহলজনক মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে। যেমন উদাহরণ, জাগারনাট উল্লেখ করছে যে ” থাইল্যান্ডে এখানে বিদেশী স্বামীদের বিরুদ্ধে আইনগত বৈষম্য বিরাজমান”:

বিদেশী বাসিন্দাদের (যারা পর্যটক নয়/কূটনীতিবিদ/ব্যবসায়ীক কারণে যার আগমন) এখানে নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। থাইল্যান্ডের অবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, ইত্যাদি দেশের মত নয়, থাই নারী বা পুরুষকে বিয়ে করা বিদেশী নাগরিকের খুবই সামান্য স্বাধীনতা এবং অধিকার ভোগ করে। কিছু অধিকারের ক্ষেত্রে অন্যায় রকম শর্তারোপ করা হয়েছে; এক্ষেত্রে বিদেশীদের কাছে পূর্ব থেকে যথেষ্ট টাকা না থাকলে তাদের থাইল্যান্ডে পুনরায় প্রবেশ করতে দেয় না। যদি কারো কাছে বছরে ৪০,০০০ এর নীচে থাই বাথ থাকে, তাহলে দেশটিতে অবস্থান করা অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। দেশটিতে থাকার জন্য প্রতি বছর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন, যা কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়াই যে কোন সময় প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। এখানে বিদেশী স্বামীদের বিরুদ্ধে আইনগত বৈষম্য বিরাজমান। এখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য কার্ড পাওয়া খুবই দুর্লভ, ব্যয়বহুল, শর্তাধীন এবং কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়াই খুব সহজে প্রত্যাহারযোগ্য। সকলের সৌভাগ্য কামনা করছি।

ব্যানমেবকেকে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করছে যে থাই সরকার গৃহহীন বিদেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে অনেক সদয় এবং ন্যায্য আচরণ করে:

মূলত থাই নাগরিকরা এই সমস্ত গৃহহীন বিদেশীদের প্রতি আচরণে অনেক দয়াশীল। বেশীরভাগ পুলিশ তাদের উপেক্ষা করে। বেশীর উন্নত বিশ্বে, পুলিশ এই সমস্ত মেয়াদোর্ত্তীর্ণ পাসপোর্টের মালিকদের হয়ত আটকাত এবং গ্রেফতার করত, আর নিজের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করত।

অনলিআস্কিং, গৃহহীন বিদেশীদের নানাবিধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করছে:

কেবলমাত্র একটি দিক দিয়ে এই সমস্যাকে দেখা ভুল। ইউরোপ থেকে আসা নাগরিকরা এখন থাইল্যান্ডে বাস করে, যারা টিকে থাকার জন্য এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে আর তাদের কোন আয় নেই। এখানে এমন অনেক নাগরিক আছে যারা টাকা নিয়ে থাইল্যান্ডে আসে আর সে টাকা হারিয়ে ফেলে অথবা উড়িয়ে দেয়। এখানে এমন অনেক বিদেশী আছে যাদের আয় খুব অল্প, তারা স্বদেশে টিকতে পারে না কিন্তু সেই টাকায় এখানে দিব্য চলতে পারে। এখানে এমন অনেক বিদেশী নাগরিক রয়েছে যারা ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে এখানে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছে। এই সমস্ত সকল বিদেশীদের দায়িত্ব তার নিজ নিজ রাষ্ট্রে্র, থাইল্যান্ডের নয়।

উপেনা বিশ্বাস করে যে সকল গৃহহীন বিদেশীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে থাই সরকারে কোন বাধ্যবাধকতা নেই :

দুঃখিত ভাইয়েরা, একজন বিদেশী হিসেবে থাইল্যান্ডে বিগত তিন বছর ধরে বাস করা এবং ভ্রমণ করা এবং ১৯৭৩ সাল থেকে এখানে চাকুরী করা সুবাদে, আমার সেই সমস্ত নাগরিকদের প্রতি একটুও সহানুভূতি নেই যারা নিজেদের সাহায্য করতে পারে না। দেশটিতে প্রবেশের আগে তারা দেশটির নিয়মকানুন সম্বন্ধে জেনে যায়, আর এটা থাই সরকারের বিষয় নয়, তাদের সমর্থন/সাহায্য করা। যারা সাহায্য কামনা করে তাদের দূতাবাস/কনস্যুলেট-এর মাধ্যমে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা।

চেম-জ্যাম সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছেন যদি তারা কোন গৃহহীন বিদেশীর মুখোমুখি হয়, তাহলে যেন তার সাহায্যের জন্য সরকারের বা কোন দাতব্য সংস্থার অপেক্ষা না করে:

থাইল্যান্ডে এক বিদেশী হিসেবে, আমি বুঝতে পারি আর্থিক দুরবস্থার সময় কোন সম্পদ এবং নিকটাত্মীয় ছাড়া কোন বিদেশীর পক্ষে টিকে থাকা কতটা কঠিন। আমি মনে করি কোন দাতব্য সংস্থা অথবা সরকারের সাহায্যের অপেক্ষা না করে, যে কেউ যে কোন গৃহহীন বিদেশীকে সাহায্য করতে পারে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .