বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বেইজিং বিমানবন্দরে বোমাহামলা কি সন্ত্রাসী হামলা, না নিপীড়নের প্রতিশোধ?

গত ২০ জুলাই ২০১৩ তারিখে চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বোমা হামলা হয়। একজন হুইলচেয়ার যাত্রী ঘরে তৈরী বোমা নিয়ে এই হামলা করেন। পুলিশী নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা করেন। হামলায় তিনি ছাড়া আর কেউ আহত হয়নি।

স্থানীয় মিডিয়া লোকটার পরিচয় বের করেছে। তার নাম জি জংজিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশী নির্যাতনে তিনি পঙ্গু হয়েছেন। ২০০৫ সালে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের শহর ডংগুয়ানে পুলিশ অফিসাররা মারাত্মকভাবে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল।

অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ সাইট নান্দুর একজন সাংবাদিক জি-এর দুইজন আইনজীবীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তারা দু'জনই ২০০৬ সালে জি-কে আইনি সেবা দিয়েছিলেন। তারা জানিয়েছেন, ডংগুয়ানের হাউডি শহরে সাত-আটজন পুলিশ অফিসার মিলে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছিল। জি-এর অপরাধ ছিল, সে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালিয়েছিল। চিকিৎসার সময়ে তার মেরুদণ্ড স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। যদিও পুলিশ বলেছে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তার এই হাল হয়েছে। তবে একজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু ২০০৮ সালে স্থানীয় আদালত জি-কে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশের পক্ষে রায় দেয়।

Sina Weibo user @chenshimanhua uploaded an image capturing Ji Zhongxing's despair.

সিনা উইবো ব্যবহারকারী @chenshimanhua জি জংজিয়ানের একটি হতাশাপূর্ণ ছবি আপলোড করেন।

জি'র কাছ কাছ থেকে জোর করে কোর্ট ফি আদায় করা হয়। যা তাকে দেনায় ফেলে দেয়। তিনি বেংজিং-এ যান এবং তার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় পুলিশ এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আইন কমিশনের কাছে পিটিশন করেন।

২০১০ সালে পিটিশন বন্ধ করার লিখিত মুচলেকা নিয়ে হাউডি'র শহর পুলিশ জি-কে ১০০,০০০ ইউয়ান (১৫০০০ মার্কিন ডলার) প্রদান করে।

সন্ত্রাসী না নিপীড়নের শিকার?

চীনের বেশিরভাগ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মন্তব্যে জি'র প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সবাই তাকে সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবিচারের শিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে জি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্লগ লেখা শুরু করেন। ফেং চিংয়াং জি'র ব্লগ রিভিউ করে সমাপ্তি টেনে বলেন:

我看了冀先生的博客,才发现起因只是因为摩的载客,结果却被打瘫痪了,全家人背债,到处上访却得不到合理赔偿。最后亲人纷纷早逝,慢慢的他的心也死了!我未必赞同冀先生对此事的处理方式,但如果我们想要这个国家不出现下一个冀先生,就必须关注他的“病根”,他开始是一个正常人,是谁让他变得不正常

আমি জি'র ব্লগ পড়া শেষ করলাম। অবৈধ মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালানোর জন্য তিনি পুলিশের হাতে মার খেয়ে পঙ্গু হয়েছিলেন। তার পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়। পিটিশন করেও তার পরিবার তেমন একটা ক্ষতিপূরণ পায়নি। তার বাবা-মা মারা গেছে। তাদের সাথে তার আত্মাও মারা গেছে। আমি জি'র দুর্ভাগ্য মেনে নিতে পারছি না। আমরা যদি দেশে আরেকজন জি-কে দেখতে না চাই, তাহলে আমাদের এ ঘটনার গোড়ার দিকে নজর দিতে হবে। তিনি শুরুতে খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন। তাহলে কে তাকে এমন বানালো?

যদিও কিছু লোক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে চান। এদের মধ্যে আছেন সংবাদমাধ্যম কর্মী ইয়েন জেহি (@凝哲同学)। তিনি লিখেছেন:

中国的舆论场真是奇怪到近乎扭曲。有影响力的意见领袖们,不但不谴责在公共场合实施暴力袭击的人,反而因为暴徒未能伤害到更多的人而赞其为侠肝义胆。媒体不关注公众安全问题,反而开始用孤证为暴徒伸冤叫屈。这个世界究竟怎么了…波士顿爆炸案时候那同仇敌忾的劲儿都上哪儿去了?!

চীনের জনগণের মতামত যথেষ্ট টুইস্টেড। জনগণের উপরে যারা হিংস্র আক্রমণ করেছে, প্রভাবশালী নেতারা তাদের কখনোই নিন্দা জানাননি। যদিও তারা থাংয়ের প্রশংসা করেছেন। কারণ সে ছিল নায়ক। কাউকেই সে আঘাত করেনি। এদিকে মিডিয়াও জননিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দেয়নি। তারা সবাই থাংয়ের ভিকটিম হওয়ার তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল। আমাদের সমাজে আর কি-ই বা ঘটবে?… বস্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা কত না ভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল?

তবে অনলাইনে জননিরাপত্তার বিষয়টি অতটা গুরুত্ব পায়নি। কারণ জি এয়ারপোর্টে বোমা ফাটানোর আগেই সংকেত দিয়ে সবাইকে দূরে থাকতে বলেছিল। বেংজিং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাও জিয়াও (@赵晓) জি-এর পক্ষ নিয়ে বলেছেন:

冀中星引爆前用了十分钟疏散民众,所以只伤了他自己。多么善良的百姓,这个国家谁敢站出来说:我比他更有义!

বোমা ফাটানোর ১০ মিনিট আগে থেকেই জি জংজিয়ান সবাইকে তার কাছে আসতে মানা করেছেন। এজন্যই বোমা বিস্ফোরণে একমাত্র সেই আহত হয়েছে। সে একজন সরলমনা লোক। কার সাহস আছে দেশের এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা এবং বলা: আমি তার চেয়ে বেশি ঠিক?

@Badiucao's political cartoon. Ji: when justice is deprived, I seek my own.

@Badiucao's এর রাজনৈতিক কার্টুন। জি: যখন বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে, তখন আমি নিজের মতো করেই পথ খুঁজি।

টিভি নাটকের স্ক্রিপ্টরাইটার @xiangrenli এর কথায়ও একই প্রতিধ্বনি:

冀中星给了我们法治社会大量的机会,但是我们所追求的法治社会没有给冀中星一丁点的机会,大量中国人只喜欢做围观者、做看客,看侩子手杀革命党,最后有人买人血馒头,没人去思考这个问题,冀中星绝不是最后一个。

জি জংজিয়ান আমাদের আইনি ব্যবস্থাকে একটি সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের আদালত তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। বেশিরভাগ চীনাই জল্লাদের হাতে বিপ্লবীর মৃত্যু দেখতে চায়, উপভোগ করতে চায়।… কেউই সমস্যার গভীরে যায় না। জি জংজিয়ান দিয়েই কিন্তু এ ঘটনা শেষ হবে না [আত্মঘাতী বোমাহামলা]

@yourwisdom একই ধরনের অভিমত শেয়ার করেছেন:

用生命换取了一次关注。体制源源不断的产生系统性恶果,分散在多少视线看不到的地方生根发芽?维稳又能压抑多久?

বিষয়টি নিয়ে জনগণকে ভাবাতে জি তার জীবনটাই ব্যবহার করলেন। আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা শয়তানিপণাকে বাড়িয়ে তোলে এবং এর লালনপালন করে। আমরা কবে কার্যকরভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো?

“সাউথ অব দ্য সি” (@海之南) বিশ্বাস করেন এখানে আরো বোমা বের হয়ে আসবে:

每一个受不公正对待的公民,都是一颗不定时炸弹!不改变单纯维稳思路,积怨太多,就来不及拆除这些炸弹引信了!

যেসব জনতা অবিচারের শিকার হয়েছেন, তারা সবাই টাইম বোমা! এই বোমা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সবার ক্ষোভ খুঁজে বের করে নর্দমায় ফেলে দিতে হবে। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দমনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা এখন মৃত।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .