বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন চলছে। সে আন্দোলনে এবার যোগ হয়েছে আমরণ অনশন কর্মসূচী। শাহবাগ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শহীদ রুমি স্কোয়াড নামের একটি সংগঠন এই কর্মসূচী দিয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের গত ২১ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত শিবিরের নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত যে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, সরকার সেটি না মানায় এবং এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায়, শহীদ রুমী স্কোয়াড এর সাত তরুণ এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে।ছবি শাহরিয়ার মামুন। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে। ছবি শাহরিয়ার মামুন। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া অনশনে অংশগহণকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা সংগঠন ও ব্যক্তি এই কর্মসূচীর সাথে সংহতিও জানিয়েছেন।

শহীদ রুমি স্কোয়াডের আমরণ অনশন নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে কর্মসূচীকে সমর্থন করছেন। অনেকে আবার এরকম কঠিন কর্মসূচী দেয়ার জন্য সমালোচনা করেছেন। সচলায়তনে ব্লগার অন্যকেউ লিখেছেন:

জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত আমাদের সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। সরকার আমাদের কথা শুনেনি। তাই সোজা হিসেব ডু অর ডাই। ৪২ বছর এই কুকুরদের ভার সয়েছি আর বইতে পারবোনা। শহীদ রুমী স্কোয়াডের ছেলেরা অহিংস আন্দোলনের হার্ডলাইনে যেয়ে তো ঠিক কাজই করছে।”

ব্লগার সুমিত সাহা আমরণ অনশন কর্মসূচীকে সমর্থন জানালেও এখন অনশনের সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন:

আমরণ অনশনকারীদের আবেগের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আমি এখনই ‘আমরণ অনশন’ এর সঠিক সময় মনে করি না।

ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চ কর্মী আরিফ জেবতিকও শহীদ রুমী স্কোয়াডের কাছে আবেদন জানান, তারা যেন কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেন।

অনেকেই অবশ্য শহীদ রুমী স্কোয়াডের আমরণ অনশন কর্মসূচী ঘোষণায় গণজাগরণ মঞ্চের ঘোষিত কর্মসূচীর প্রতি অনাস্থা খুঁজে পেয়েছেন। তবে শহীদ রুমী স্কোয়াড তাদের ফেসবুক পেজে দাবি করেছে, গণজাগরণ মঞ্চের সাথে তাদের কোনো বিরোধ নেই। গণজাগরণ মঞ্চের সকল কর্মসূচির প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং সমর্থন আছে৷

উল্লেখ্য, গণজাগরণ মঞ্চ ২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দিয়েছিল। সরকার সে দাবি না নামায় তারা আগামী ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচী দেয়।শহীদ রুমী স্কোয়াড এই কর্মসূচীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেরা আলাদাভাবে আমরণ অনশন কর্মসূচী ঘোষণা করে।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশনের একশ ঘণ্টা পেরোনোর পর শনিবার রাত আড়াইটায় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ চেয়ে ইমেইল পাঠায় শহীদ রুমি স্কোয়াড। প্রধানমন্ত্রী এখনো ইমেইলের উত্তর দেননি। এদিকে বেশ কয়েকজন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অনশনকারীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স করে তাদের হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি শহীদ রুমী স্কোয়াড ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া।

অনশনকারীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স করে তাদের হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি শহীদ রুমী স্কোয়াড ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া।

ব্লগার আইরিন সুলতানা শাহবাগে গিয়ে অসুস্থ অনশনকারীদের দেখে লিখেন:

যখন পৌঁছলাম… সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য…অ্যাম্বুল্যান্স আসছে। স্ট্রেচার নামছে। নিলয়কে তোলা হল। সাথে আরো দু জনকে। অকস্সাৎ প্যান্ডেলের তরুণদের মুখে নেমে এল শোকের ছায়া। মাইক্রোফোন হাতে জনতার সামনে-মিডিয়ার সামনে সর্বশেষ আপডেট জানাতে গিয়ে কেঁপে উঠল গলা। রায়হান বলে একজন স্বেচ্ছাসেবক কোন ভাবে নিজেকে সামাল দিতে পারলেন না। ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। হাত-পা ছেড়ে পড়ে রইলেন অনেকক্ষণ। তাকেও কিছুক্ষণ পর এ্যাম্বুলেন্সে তুলতে হল।

এদিকে অনশনকারীদের কেউ মারা গেলে তার সরকারের জন্য ভালো হবে না জানিয়ে ব্যান জামাত টুইট করেন:

আল্লাহ না করুক শহীদ রুমী স্কোয়াড এর অনশনকারীদের একটি তরুণ প্রাণও যদি ঝরে আওয়ামী সরকারকে কঠিন মাশুল দিতে হবে! #shahbag

উল্লেখ্য, উনিশ শ’ একাত্তর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্রিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করে, ২ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি নারীকে ধর্ষণ করে। এদের সহযোগিতা করে রাজাকার, আলবদর বাহিনী। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার, আলবদরদের ফাঁসির দাবিতে বাংলাদেশে যে শাহবাগ আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শহীদ রুমী স্কোয়াড যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচী দিয়েছে।

সর্বশেষ: গত ১ এপ্রিল সোমবারে রুমি স্কোয়াড তাদের অনশন কর্মসূচী স্থগিত ঘোষণা করেছে। এ বিষয় নিয়ে তারা তাদের ফেসবুক পেজে জানান:

জনগণের আস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জানাচ্ছি আজ মুক্তিযুদ্ধের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এ. কে. খন্দকার এর উপস্থিতিতে গণজাগরণ মঞ্চের অনুরোধে অনশন থেকে আপাতত সরে আসছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .