বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফাউজিয়া কোফি কি আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন?

আফগানিস্তানে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি খোঁজা শুরু হয়েছে। গত শরতে আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে। গত মাসের শেষ থেকে ভোটার নিবন্ধন কাজ শুরু হয়েছে। আর এই কাজ চলবে ভোটের দুই সপ্তাহ আগ পর্যন্ত। এখনো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিদের চূড়ান্ত না হলেও কয়েকজনের নাম নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

এই ভোট আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মধ্যে দিয়ে দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের দীর্ঘ এক দশক ব্যাপী শাসনের অবসান হবে। কারজাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ষড়যন্ত্র এবং হিরোইন বাণিজ্যসহ তালিবানদের সাথে সমাঝোতা করতে না পারার ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। তালিবানরা নিয়মিতভাবেই [গ্লোবাল ভয়েসেস আর্কাইভ] সাধারণ জনগণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করেছে। দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপতিকেও বিদেশী বাহিনীর সাহায্য ছাড়াই নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করতে হবে। ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে বিদেশী সৈন্যের উপস্থিতি রয়েছে। তবে তাদের প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ফাউজিয়া কোফি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ পেয়েছেন। তিনি আফগানিস্তানের জাতীয় সংসদের সদস্য এবং নারী অধিকার কর্মী। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরো আছেন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের বড় ভাই কাইয়ূম কারজাই, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের নির্বাচনে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ হামিদ কারজাইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। নির্বাচন ঘনিয়ে এনে প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে।

ফাউজিয়া কোফি ইতোমধ্যে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। পশ্চিমা মিডিয়া তার নির্বাচনী প্রচারণার ফলাও করে প্রচার করছে এবং তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত বই ‘দ্য ফেভারিট ডটাস: ওয়ান উইমেনস ফাইট টু লিড আফগানিস্তান ইনটু দ্য ফিউচার’ এর প্রশংসা করেছে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জন স্টুয়ার্টের ডেইলি শো-এ উপস্থিত হয়ে তার জীবনের সংগ্রাম, রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আফগানিস্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন:

এটা আমার পছন্দ। আমার সামনে অনেক সুযোগ ছিল। যেমন, আমি অন্যদের মতো ইউরোপে যেতে পারতাম কিংবা আমেরিকায় এসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে পারতাম। অথবা আমি দেশে ফিরে গিয়ে সামান্য পরিবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারতাম। আমি দ্বিতীয়টাই বেছে নিয়েছি। যদিও এটা মোটেও সহজ ছিল না।

ডেইলি শো-এ ফাউজিয়া কোফি'র উপস্থিতি বিপুল সংখ্যক আমেরিকান দেখেছেন। তাদের একজন স্মরণীয় একটি টুইট পোস্ট করেছেন, সে জন স্টুয়ার্ট কখনোই দেখেনি, সে শো-এর বকরবকর করা উপস্থাপক। কিন্তু সে ছিল চুপ। যদিও ফাউজিয়া কোফিকে নিয়ে তার সমর্থকদের ভয় রয়েছে- আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত মহিলার রাষ্ট্রপতির জন্য প্রস্তুত নয়। ফাউজিয়া কোফি ইতোমধ্যে কয়েকবার আলিবান আক্রমণ থেকে বেঁচে গেছেন। তাছাড়া এর আগে যত মহিলা রাষ্ট্রপতি পদে লড়েছেন, তারা কেউ-ই প্রথম পাঁচজনের মধ্যে আসতে পারেন নি।

নির্বাচনে দুর্নীতি আর একটি বড়ো বিষয়। ২০০৯ এর নির্বাচনে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ কারজাইয়ের বিরুদ্ধে ভোট-কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। আফগানিস্তানের অনেকেই মনে করেন, ভোট-যুদ্ধে কারজাই পরিবারের উপস্থিতি অশুভ সংকেতের ইঙ্গিত বহন করে।

Picture of Fawzia Koofi shared via girlsglobe.org.

ফাউজিয়া কোফি। ছবি নেয়া হয়েছে DangerDan22.wordpress.com থেকে। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কোফি'র চমত্কার ব্যাকগ্রাউন্ড, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আগের নারী প্রার্থীদের চেয়ে তাকে আলাদা করে দিয়েছে। তিনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে প্রাধান্য দিয়েছে। এ দুটোই আফগানদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কম আয়ের আফগান জনগণ এবং নারীদের ভোটে তিনি নির্বাচনে জিতে যেতে পারেন। গত ৫ জুন খোরাসান (@KhorasanCharity) টুইট করেছেন:

তিনি যদি ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বেঁচে থাকেন, তাহলে তিনি আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। আর তিনি হলেন ফাউজিয়া কোফি।

“থ্রি কাপস অব টি” বইয়ের লেখক গ্রেগ মরটেনশনও (@gregmortenson) টুইট করেছেন। সেখানে তার জিজ্ঞাসা ছিল:

ফাউজিয়া কোফি, আফগান মহিলা এমপি। তিনি ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন: আফগানিস্তান কি আমেরিকাকে পরাজিত করতে পারবে- প্রথম নারী নেতৃত্বে?

তবে শুজা রাব্বানি (@ShujaRabbani) উল্লেখ করেছেন, কোফি নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। এজন্য তিনি কঠোর পরিশ্রমের সাথে প্রচারণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন:

নির্বাচনে জিততে হলে #আফগান নারী রাজনীতিবিদদের নতুন রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। http://www.guardian.co.uk/world/2012/feb/17/fawzia-koofi-targets-afghan-presidency … #নারীঅধিকার দীর্ঘ সময়ের জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

Photo of Fawzia Koofi, which reads, "we will build this nation together, if you stay with me. Taken from her Facebook page.

ফাউজিয়া কোফির নির্বাচনী প্রচারণার ছবি। এখানে লেখা আছে- “আপনারা আমার পাশে থাকলে সবাই মিলেমিশে এই দেশ গড়বো”। ছবি নেয়া হয়েছে ফেসবুক পেজ থেকে।

উপরের ছবিটি কোফি'র ফেসবুকে অনলাইন প্রচারণা একটি অংশ। অনেক মানুষই ছবিতে মন্তব্য করে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হোয়াকে সমর্থন দিচ্ছেন।

আবদুল হক এডি মন্তব্য করেছেন:

خوب خواهد بود که از طرح های که به خاطر آبادی وطن خوددارید یک کمی ابراز میدا شتید، همچنان راه های برون رفت از مشکلات کنونی. موفق باشید

ভাগ্য আপনার সহায় হোক। ভালো হয়, দেশ পুনর্গঠনে এবং বর্তমান সমস্যা মোকাবলোয় আপনার কৌশল কি হবে তা যদি সবার সাথে শেয়ার করেন।

তবে সব মন্তব্যই উত্সাহব্যঞ্জক নয়। আবদুলরহিম মুখলিস লিখেছেন:

آبادي اين سرزمين كه زن ها بماند، مردها بايدازاين سرزمين خارج شوند

দেশের পুনর্গঠনের দায়িত্বে যদি নারীরা থাকে, তাহলে পুরুষরা দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

তিনি তার আগের মন্তব্যে আরো যোগ করেন:

من به اين نظرم كه تا زماني دريك جامعه مردها رشدنكنند زن ها نمي توانند كاري را انجام دهند

আমার ধারণা, একটি সমাজে পুরুষরা যদি অগ্রসর না হয়, তবে নারীরা কোনো কিছুই করতে পারে না।

শেষে, একটি উদ্বৃতির উল্লেখ করে তিনি তার মন্তব্যে আইনি বিধানের কথা বলেছেন:

پيامبراسلام مي فرمايند: سرنوشت ملتي كه بدست زن ها افتيد آن ملت بايد انتظارقيامت ره بكشند

নবী বলেছেন: একটি দেশের ভাগ্য যদি নারীর হাতে থাকে, সে দেশটির জন্য অপেক্ষা করছে ধ্বংস এবং দুর্দশা।

২০০৯ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হামিদ কারজাইয়ের বিরুদ্ধে লড়া আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এখন পর্যন্ত প্রার্থীতার কথা ঘোষণা করেননি। তবে কিছু সংবাদসংস্থার সূত্র মতে, এখনো নিশ্চিত না তিনি নির্বাচনে লড়বেন কি না!
গত এপ্রিলে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, হামিদ কারজাইয়ের ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকাটা প্রতিরোধ করতে হবে। কারজাই পরিবার প্রতিরোধ ছাড়া ক্ষমতা ছাড়বে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ড. আবদুল্লাহ পর্যবেক্ষণ কম বা বেশি সঠিক মনে হয়। যদিও কারজাই এবারের নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। তবে কারজাইয়ের ছোট ভাই সাহসুদ কারজাই গত বছর পাজাওয়াক আফগান নিউজ এজেন্সির সাথে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার বড়ো ভাই কাইয়ূম কারজাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন:

জনগণ সেইসব পরিবার এবং ব্যক্তিদের ভোট দিবে যারা ক্লিন ইমেজের অধিকারী। এবং যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নেই। জনগণ কাইয়ুম জানকে বিশ্বাস করে। এবং আমার সাথে জনগণের সুসম্পর্ক আছে। তারা চাইছে আমাদের কেউ একজন নির্বাচনে দাঁড়াক।

আগান জনগণ কাইয়ুম কারজাইয়ের মনোনয়নে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। একে স্বজনপ্রীতির রাজনীতি বলে অভিহিত করেছে। ১৩ মে মোহাম্মদ জাওয়াদ (@MohammadJawad4) ব্যঙ্গ করে টুইট করেন:

আমরা তার ভাইয়ের সাথে সুন্দরভাবে থাকতে পারবো। তাই আমরা তাকে ভোট দিবো। কারজাইয়ের ভাই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়ছেন।

মোহাম্মদ জাওয়াদের টুইটের প্রতিউত্তরে সাজিদ আগন্দিওয়াল (@SajidArghandaiw) লিখেন:

তিনি যদি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে পুরো দেশটাই রসাতলে যাবে!

তবে মোহাম্মদ জাওয়াদ নিশ্চিত করেন:

দু:খজনকভাবে সাধারণ জনতা মেধাবীর কাছে যাওয়ার চেয়ে উপজাতীয় গোত্রের কাছে যাবে।

এই পোস্টটি কিরগিজস্তানের বিশকেক-এর দি আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল এশিয়ার জিবি সেন্ট্রাল এশিয়ার ইন্টার্ন প্রজেক্টের অংশবিশেষ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .