বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের দিন কানাডায় অবস্থানরত ইরানিদের প্রতীকী ভোটদান

'I vote'

“আমি ভোট দিতে চাই”

কানাডার ইরানিরা ১৪ জুন, ২০১৩ তারিখের ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু [ফার্সী ভাষায়] তাঁরা অন্তত একটি প্রতীকী ভোটদানের ব্যবস্থা করার জন্য ইরানী প্রবাসীদের একটি গ্রুপের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টরেন্টোর বিভিন্ন অংশে চার পোলিং স্টেশনে, যারা ভোটার তাঁরা নিবন্ধন করতে পেরেছেন। সামাজিক মিডিয়াগুলো এই কার্যকলাপ সংগঠনে বেশ দরকারি ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু টরেন্টো ভিত্তিক একজন ব্লগার এবং সুশীল সমাজের কর্মী আরাশ কামাঙ্গির গ্লোবাল ভয়েসেসের এই সাক্ষাত্কারে বলেছেন, বাস্তব জগতে ইরানিদের মধ্যে মুখোমুখি রাজনৈতিক কথোপকথনে উৎসাহ দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য।

গ্লোবাল ভয়েসেস: আপনি কে এবং আপনার কি করার পরিকল্পনা ছিল ?

আরাশ কামাঙ্গিরঃ টরেন্টোয় আমরা ইরানিদের একটি গ্রুপ এবং ইরান সম্পর্কিত সব বিষয় আমাদের একই মত থাকাতে হবে এমনটি নয়। কিন্তু আমাদের অবশ্যই অনেক অনুরূপ দৃষ্টিকোণ আছে। একটি বিষয়ে আমরা সবাই একমত যে, জনগণ যখন চাইবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে পরিবর্তন ঘটবে ঠিক তখনই। আমরা বিশ্বাস করি, একটি নির্বাচন বর্জন করা হয়তো সুবিধাজনক এবং হয়তো একটি রোমান্টিক এবং ভাববাদী মনোভাবের হতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, কোন সমাধানের অংশ হতে হলে ব্যক্তির ভোটাধিকার অবশ্যই প্রয়োগ করা উচিৎ।

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটোয়ায় ইরানী দূতাবাসে আমাদের সমস্যা তুলে ধরা আমাদের লক্ষ। ইরান এবং কানাডিয়ান সরকার উভয়কেই আমাদের বুঝতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার জন্য কানাডায় ইরানী কমিউনিটির জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, যাদের পাসপোর্ট এবং অন্যান্য সরকারী সংক্রান্ত আইটেমের জন্য দূতাবাস পরিষেবা দেওয়া প্রয়োজন। আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে, কানাডায় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি না থাকায় আমাদের অনেক সুযোগ হারাতে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কানাডিয়ান সরকার কারাগারে আটক বর্তমান এবং যারা অতীতে শাস্তি পেয়েছে এমন ব্যক্তি অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সক্ষম। যখন একটি দূতাবাস ছিল, আমরা কানাডার ইরানী জনগণ, ইরানী মিশনের সঙ্গে নিয়োজিত থাকতে সক্ষম হয়েছি। সে ব্যাপারটি মনে করিয়ে দেওয়া এবং এই সুযোগ হারানোর ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো ছিল আমাদের আরও একটি লক্ষ্য।

Symbolic Vote in Canada. Photo shared by Arash Kamangir.

কানাডায় প্রতিকি ভোট। ছবিটি আরাশ কামাঙ্গির শেয়ার করেছেন। 

আপনার উদ্দেশ্যের জন্য সামাজিক মিডিয়া এবং ব্লগ কিভাবে ব্যবহার করেছেন?

ফেসবুকে একটা গ্রুপ ম্যাসেজ পাঠানো থেকে সবকিছুর শুরু। কিন্তু আমরা শীঘ্রই বাস্তবজগতে কাজ শুরু করি, যখন একটি পাবে আমাদের রাত্রিকালীন মিটিং ছিল। আমরা দুইটি ফেসবুক পেজ খুলি, একটি আয়োজকদের জন্য ও অন্যটি স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য। আমরা আমাদের ইভেন্টে প্রায় ১,৫০০ জন মানুষকে আমন্ত্রণ জানাই এবং শেষ পর্যন্ত ২০০ জন তা গ্রহণ করে। আমাদের দলটি প্রায় ২০ কোটি মানুষ এবং প্রায় ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত হয়। আমরা দুই ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক মেসেজ এবং আমাদের মোবাইল ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করি। আমরা ওয়েবের সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাতে টুইটার ও মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ইমেইল ব্যবহার করি। আমাদের দলের মধ্যে একজন ব্লগারও ইভেন্ট সম্বন্ধে ব্লগে লিখেছিল। শেষে তিন দিনের প্রোগ্রামে আমরা প্রায় ৫০০ ভোট সংগ্রহ করেছিলাম।

ভার্চুয়াল দুনিয়া এবং জড়জগৎ কিভাবে আপনাদের উদ্যোগে এক হল ? 

বেশ, আমরা ভার্চুয়াল বিশ্বে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করব এমন একটি প্রস্তাব ছিল। অথবা আমাদের অন্তত একটি অনলাইন কম্পোনেন্ট থাকবে। সব কিছুকেই আমরা না বলেছি, কারণ আমরা চাই প্রকৃত বিশ্বের জনসাধারণের সঙ্গে জড়িত হতে চেয়েছি। ভার্চুয়াল দুনিয়া আমাদের জন্য মূলত যোগাযোগ ও সমন্বয় উপায় ছিল। অন্য সব কিছু বাস্তব বিশ্বে ঘটেছে। এটি আমাদের ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আমরা যদি শুধু ভার্চুয়াল বিশ্বে থাকতাম তবে তাঁদের সংস্পর্শে আসা আমাদের জন্য সম্ভব হতো না।

ইরানিরা যেখানে বেশী বাস করে সেখানে আমারা চারটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করেছি। টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বড় ইরানী শপিং এলাকার কাছাকাছি দুটি এবং বাকিগুলো টরন্টোর ইরানী কোয়ার্টারের স্কয়ারে ছিল। এটি আমাদের জীবনের বিভিন্ন পেশা, বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে ইরানিদের সাথে কথা বলতে সাহায্য করেছে। আমরা অংশগ্রহণকারীদের একটি বাস্তব ব্যালট দিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলেছি, মাঝে মাঝে তা ছিল অনেক দীর্ঘ। একটি বিষয়ে আমাদের দলটি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে যে, এই সময় এবং বয়সের প্রেক্ষিতে অনলাইন বস্তুগুলো জরুরী, তথাপি মানুষের সাথে সংযোগ শারীরিক রাজত্ব ঘটাতে সবচেয়ে সহায়ক। আমরা মানুষ, অবতার নয় এবং এইভাবে আমরা জড়জগতে গিয়েছিলাম।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .