বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

১৯৯৪ সালের গৃহযুদ্ধের জন্য ফেসবুকে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ইয়েমেনি জেনারেল

Crowds in Aden city on the anniversary of the declaration of war on Southern Yemen (Shared on twitter via @NajiAlkaladi)

দক্ষিণ ইয়েমেনে যুদ্ধ ঘোষণা বার্ষিকী পালনের সময় এডেন শহরে জনসমাগম। (@নাজিআলকালাদি থেকে টুইটারে শেয়ার করা হয়েছে)

স্বাধীনতার স্লোগানগুলো গেয়ে ওঠার সময় এমন একটি দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে যার অস্তিত্ব এখন নেই। ১৯৯৪ সালে উত্তর ইয়েমেন দক্ষিণ ইয়েমেনের  জনগণের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার মাধ্যমে অনেক দক্ষিনীই তাঁদের ভূমিকে দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে। প্রাক্তন রাজধানী এডেন এবং অন্যান্য শহর, যেগুলো নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেন গঠিত হয়েছিল সেখানে ২৭ শে এপ্রিল ২০১৩ তারিখে দিবসটিকে স্মরণ করতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়।

একই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি সালেহ এর শাসনামলে করা সকল “অনৈতিক যুদ্ধ” এর জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতির প্রধান সামরিক উপদেষ্টা ফেসবুকে দক্ষিণের জনগণের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

দক্ষিণ ইয়েমেন ছিল একটি স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র যা ১৯৯০ সালে উত্তর ইয়েমেনের সাথে একীভূত হয়ে বর্তমান সময়ের ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র গঠন করে। সংযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আলি আব্দুল্লাহ সালেহ। দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখা সহ অনেকগুলো অভিযোগ থাকার কারণে অসন্তুষ্ট দক্ষিণ ইয়েমেন ১৯৯৪ সালে উত্তর থেকে আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার দাবি করে। যার ফলে ১৯৯৪ সালে তিন মাস ব্যাপী দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর উত্তর ইয়েমেন পুরোপুরিভাবে দক্ষিণ ইয়েমেন অধিকার করে নেয়।

২০১১ সালে ইয়েমেনি বিপ্লবের মাধ্যমে সালেহর পতন ঘটার পর রাষ্ট্রপতি আব্দুরাবু হাদি ক্ষমতায় আসেন। তাঁর বর্তমান সামরিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল আলি মুহসিন, সরকারী প্রোফাইলের [আরবি] ফেসবুক পোস্টে লিখেছেনঃ

في ذكرى حرب صيف 94 نتوجة بالاعتذار والأسف لإهلنا في جنوب اليمن شخصيا ، كما اعتذرنا لكل الأطراف في اليمن عن كل ممارسات النظام السابق من حروب ظالمة ، والاعتذار الحقيقي قدمه الشعب اليمني لنفسه حين قام بثورة سلمية قضت على طموحات التوريث التي تسببت في ظلم الكثير من ابناء الشعب اليمني جنوبه وشماله .. ون

৯৪ এর যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে আমরা আমাদের দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণ এবং ইয়েমেনের সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সাবেক শাসনতন্ত্রের দ্বারা সংঘটিত অনৈতিক যুদ্ধের সকল ধরণের আচরণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করে একটি বার্তা পাঠিয়েছি। ইয়েমেনের জনগণ একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব পালনের মধ্যদিয়ে সত্যিকার অর্থে নিজেদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করেছে, যা উত্তরাধিকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরাজিত করেছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা উত্তর এবং দক্ষিণ, উভয় ইয়েমেনের জনগণের প্রতি অনেক অবিচার করেছে।

ইয়েমেনের বংশোদ্ভূত নিউইয়র্ক ভিত্তিক একজন মানবাধিকার কর্মী সামার নাসের (@সামারনাসের) টুইট করেছেনঃ

@সামারনাসেরঃ ফেসবুকের মাধ্যমে আলি মুহসিন, দক্ষিণের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন। #ইয়েমেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের মাঝে বাস করা একজন টুইটার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী হুসেন আল-যাফাই (@ক্রেজিযাফাই) টুইট করেছেনঃ

@ক্রেজিযাফাইঃ জেনারেল আলি মুহসিন একটি যুদ্ধ করার জন্য আজ #দক্ষিণ ইয়েমেনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, আমরা আমাদের ভূমি ও সম্পদ ফেরত চাই, ক্ষমা নয়।

ইউ টিউব ব্যবহারকারী রাদফান আলমকাফেহ ردفان المكافح [আরবি] এই ভিডিওটি আপলোড করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে, ১৯৯৪ সালের ২৭ শে এপ্রিল তারিখে দক্ষিণের প্রতি উত্তর যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলো তার উনিশতম বর্ষপূর্তি পালনের জন্য প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় বের হয়ে এসেছেঃ

আল-যাফাই, যিনি নিজেকে ইয়েমেনে একজন মানবাধিকারের প্রেমিক বলে পরিচয় দিয়েছেন তিনি আরো বলেছেনঃ

@ক্রেজিযাফাইঃ ২৭ শে এপ্রিল ১৯৯৪ সালের এই তারিখে উত্তরের শাসনতন্ত্র দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সুশ্রী ঐক্য কে একটি অধিকারে পরিনত করে।

@ক্রেজিযাফাইঃ এই যুদ্ধের ফলাফল ছিলো #দক্ষিণ ইয়েমেন দখল করা। এর সকল সম্পদ যুদ্ধে লুন্ঠন করে নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .