বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীনা নাগরিকরা রুদ্ধশ্বাসে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণার অপেক্ষায়

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর-২০১২ তারিখে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘন্টা আগে থেকে চীনারা রুদ্ধশ্বাসে এর জন্য অপেক্ষা করে ছিল।

গ্লোবাল টাইমস [ইংরেজি, চীনা ভাষায়] জানাচ্ছে বিভিন্ন বাজিকর প্রতিষ্ঠানের হিসেব অনুযায়ী, চীনা লেখক মো ইয়ান এবং জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামি এই বছরের নোবল পুরস্কারের অন্যতম সেরা দাবীদার। উভয় লেখক চীনের পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং যখন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে উভয়ে নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে, সাথে সাথে উত্তপ্ত এক আলোচনা শুরু হয় যে কে আসলে এই পুরস্কার জয়ের বেশী যোগ্য।

ইয়ু হুয়া এবং ওয়াং শুয়ো-এর মত চীনের অন্য সব সমসাময়িক লেখকের তুলনায়, মো ইয়ান অনেক বেশি পরিচিত। তবে, অনলাইনে তার বেশীরভাগ সমালোচক সাহিত্যের চেয়ে মো-এর পেশার অন্যদিকের প্রতি মনোযোগ প্রদান করেছে। এই সমস্ত সমালোচকদের মতে মো নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের অযোগ্য।

Chinese author Mo Yan

২০০৮ সালে হামবুর্গে তোলা চীনা লেখক মো ইয়ান-এর ছবি। এই ছবিটি তুলেছেন জোহানেস ক্লফহানুস (সিসি বাই এসএ ৩.0)

অফবিট চায়নাতে, মো-এর ‘পাপের’ একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা ওয়েবোতে নেট নাগরিক 滕_彪 পোস্ট করেছিল (মূল লেখাটি মুছে ফেলা হয়েছে তবে একটি অনুবাদ এখনো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে):

তিনি এমন একজন লেখক যিনি ইয়ানানন টকস নামে পরিচিতি ইয়ানানে প্রদান করা সাহিত্য এবং শিল্পের উপর কমরেড মাও-এর ভাষণ স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করেছিলেন [১৯৪২ সালে মাও এই ভাষণ প্রদান করেন, যা চীনে কি ধরনের শিল্প এবং সাহিত্যের অনুমোদন প্রদান করা হবে, তার ধারা তৈরি করে দিয়েছে, এই ধারা অনুসারে সাহিত্যে কোন অন্ধকার দিক থাকবে না এবং কেবল সমাজের আলোকিত দিক প্রদর্শন করা হবে] একবার তিনি বলেছিলেন যে চীনা সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ বা সেন্সরশীপ নেই। ফ্রাঙ্কফুট বই মেলায় তিনি এক সেমিনারে দাই কিইং এবং বেই লিং-এর [ পক্ষ ত্যাগকারী চীনা লেখক] সাথে পাশাপাশি বসতে অস্বীকার করেন। যখন তাকে লিউ শিয়াওবো-এর ১১ বছরের কারাদণ্ড সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তর দেন যে তিনি এই বিষয়ে তেমন একটা জানেন না এবং এ ব্যাপারে তার তেমন বলার কিছু নেই। ‘চীনের বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও উচ্চারণ করেননি…।

“假装在纽约”,একই ‘অভিযোগে’ তাকে অভিযুক্ত করেছে, কিন্তু সে আরো খানিকটা এগিয়ে গিয়ে নির্দেশ করছে যে বিশ্ব সাহিত্যের কোন সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ থাকা উচিত নয়:

@假装在纽约:文学无国界,一个真正的文学家,他的心中也应该是没有祖国的。他不会在书展上和官员一起退席抗议异议作家的出席,也不会抄写极权领 袖在文艺座谈会上的讲话。因为真正的文学家,在思想上既是引领时代前行的先驱,也代表着一个时代最后的坚守。诺贝尔文学奖应该给这样的人,至于他是不是中 国人,不重要。

@假装在纽约: “ যে লেখক নোবেল পুরস্কারের যোগ্য তার কোন সীমানা থাকবে না- সে সরকারি কর্মচারীদের সাথে মিলিতভাবে পক্ষত্যাগকারী নাগরিকদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে না এবং সে স্বহস্তে এক স্বৈরশাসকের ভাষণের অনুলিপি তৈরি করবে না। একজন সত্যিকারের লেখক কেবল তার সময়ের বৈশিষ্ট্যে একজন অগ্রপথিক-এ পরিণত হবেন না, একই সাথে তিনি তার অবস্থান দৃঢ় ভাবে ধরে রাখবেন। তিনি চীনের একজন নাগরিক, নাকি তা নন, সেটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

অন্যরা, লেখার ক্ষেত্রে চীনা সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে মো-এর প্রতিবাদ করার মত সাহসের অভাবের সমালোচনা করেছেন, এক্ষেত্রে তারা লেখার জন্য ব্যবহার করা মো-এর ছদ্মনামটি নিয়ে বিদ্রূপ করে, আক্ষরিক অর্থে যার মানে দাঁড়ায়, ‘চুপ থাক’:

@封新城:如果莫言获得诺贝尔文学奖,最重要的得奖理由是因为他的名字。

@封新城: যদি মো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, তা হলে তিনি তা করবেন মূলত সাহিত্যে ব্যবহৃত তার ছদ্মনামের কারণে।

তবে, যারা মো-এর কাজের সাথে অনেক বেশী পরিচিত, যারা তার সাহিত্যিক মেধার বিশেষ অর্জনের মূল্যায়ন প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসেছেন এবং মোকে আশীর্বাদ করছে, চীনা সেন্ট্রাল টেলিভিশনের প্রখ্যাত উপস্থাপক কুই ইয়ংইয়ান-এর কণ্ঠস্বর হয়ত তাদের অনেকের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব করছে:

@崔永元-实话实说:希望他得奖,他配得上这个奖

@崔永元-实话实说:আমি আশা করি তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করবেন, তিনি তার যোগ্য।

কবি ঝাও লিহুয়া যুক্তি প্রদান করেছেন যে নোবেল পুরস্কারকে নৈতিকতার উচ্চ স্তর থেকে দেখা উচিত নয় এবং তিনি আরো বেশী সহনশীল হৃদয় দিয়ে এই পুরস্কারকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন:

@赵丽华:莫言作品驳杂恣肆,元气充盈,对历史和现实都有强烈的关怀和反思,有深度有广度有想象力有先锋性,如能获诺奖是名至实归。抄讲话也不过是走过场,不值得站在道德制高点上纲上线苛责于他。

@赵丽华:মো এর সহিত্যকর্ম প্রাণচাঞ্চল্য, বর্ণিল এবং উদ্দাম। তার কাজ, উদার, গভীর, কল্পনাপ্রবণ এবং আমাদের ইতিহাস ও বাস্তবতার এক তীক্ষ্ণ প্রতিচ্ছবি। তাকে যে সম্মান প্রদান করতে যাওয়া হচ্ছে, তিনি তার যোগ্য। কোন এক স্বৈরশাসকের লেখা কপি করা একটা নমুনা মাত্র। এই কারণে নৈতিকতার উচ্চ স্তর থেকে তার সমালোচনা করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

চীনের সাহিত্য জগতের অনেক নেট নাগরিক খানিকটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দিয়ে মনে করেন যে মো-এর চেয়ে মুরাকামি এই পুরস্কারের বেশী যোগ্য, এর খানিকটা কারণ হচ্ছে মুরাকামির লেখা চীনের পাঠকদের মাঝে বেশী জনপ্রিয়। যেমন @এ্যাডেলাইড是全称 দাবী করছেন:

@Adelaide是全称: 我真心觉得我们这代读过村上村树的要比读过莫言多。。。

@eএ্যাডেলাইড全称:আমি বাস্তবিক অনুভব করি যে আমাদের প্রজন্ম মো ইয়ানের লেখার চেয়ে অনেক বেশী মুরাকামির লেখা পাঠ করে।

আবার অন্যদের ক্ষেত্রে, মুরাকামির জনপ্রিয়তা, বিভিন্ন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মত সাহস এবং যাপিত জীবনধারায় প্রতিটি একক ব্যক্তিসত্তার মাঝে অনন্যতা আনয়ন করার মত ক্ষমতার কারণে। যেমনটা নেট নাগরিক লি ফাংহুয়া মন্তব্য করেছেন:

@李芳华:对我来说,我当然更希望村上春树获#诺贝尔文学奖#有人说文学的审美价值是超越政治的,我想回答这个问题没有比村上春树本人的耶路撒冷文学奖获奖致辞更合适了。“以卵击墙,我愿与卵共存亡。

@李芳华:আমি আশা করি যে, মুরাকামি হয়ত নোবেল পুরস্কার জিতবেন। অনেকে বলেন যে রাজনীতি সাহিত্যের নান্দনিক মূল্যকে ছাড়িয়ে যায় এবং মনে করি মুরাকামি্র জেরুজালেম পুরস্কার গ্রহণ করার সময় প্রদান করা ভাষণে, এর উত্তর ভালোভাবে প্রদান করা হয়েছে। সেখানে তিনি উচ্চারণ করেন, “একটি উচ্চ দৃঢ় দেওয়াল এবং সেখানে আঘাত পেয়ে ভেঙ্গে যাওয়া একটি ডিমের মাঝে আমি সবসময় ডিমের পক্ষাবলম্বন করব”।

চীনের নোবেল পুরস্কার বিজেতারা।

চীনের নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার একই সাথে স্বপ্ন এবং শঙ্কা। এখন পর্যন্ত চীনের কোন নাগরিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেনি এবং এর আংশিক কারণ হচ্ছেদীর্ঘ সময় ধরে চীনকে এমন এক জাতি হিসেবে দেখা হচ্ছে যাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের অভাব রয়েছে। গত বছর চীনের ভিন্নমতাবলম্বী লিউ শিয়াওবোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। চীন সরকার, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ধরন বদলে ফেলার মত শব্দ উচ্চারণের” দায়ে তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। শান্তিতে তার এই নোবেল পুরস্কার অর্জনকে, চীন বিরোধী এক কার্যক্রম” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মো ব্যতিত এখন পর্যন্ত সাহিত্যে চীনের সাথে নোবেল পুরস্কারে যোগসুত্র হচ্ছে গাও শিংজিয়ান। পক্ষত্যাগকারী চীনা সাহিত্যিক বর্তমানে ফরাসী নাগরিক, যিনি ১৯৮৭ সালে চীন ত্যাগ করেন এবং ২০০০ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এর ফলে মো ইয়ান,যার সৃষ্টি কর্মে চীনের সাধারণ জীবন ফুটে উঠেছে, তিনি হচ্ছে গতানুগতিক এক চীনা লেখক, দেশটির একমাত্র আশা, যার পুরস্কার প্রাপ্তির উপর দেশটি্র নোবেল পুরস্কার অর্জন নির্ভর করছে।

যখন পুরস্কার ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি, তখন চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আমরা রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছি। তবে অনেকে এখনো সংশয়ে রয়েছে। যেমন লেখক ফেং টাং তার ওয়বো একাউন্টে লিখেছে:

多个不懂中文的外国人在一起,通过翻译作品评价一个好的中文小说家,非常可笑。

একটি খুবই অবাক করা একটি বিষয় যে, যখন বিদেশী, যারা একত্রিত হয়ে চীনা ভাষা বুঝতে অক্ষম, তারাই আবার অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে চীনা লেখককে কৃতিত্ব প্রদান করে থাকে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .